Connect with us

ক্যাম্পাস

বুটেক্সে তিন দিনব্যাপী  ‘স্পিনার্স ফিয়েস্তা ৩.০’ অনুষ্ঠিত

Published

on

-অভিষেক দত্ত,বুটেক্স প্রতিনিধি 

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক আয়োজন ‘স্পিনার্স ফিয়েস্তা ৩.০’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুটেক্স স্পিনার্স ক্লাব আয়োজিত এ উৎসব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিল্প–শিক্ষা সংযোগ, সৃজনশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমের এক অনন্য মিলনমেলা তৈরি করে।

৫ নভেম্বর (বুধবার) অন্তঃবিভাগীয় ফুটসাল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরদিন অনুষ্ঠিত হয় আরডুইনো প্রজেক্ট প্রতিযোগিতা ও ইনডোর গেমস, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে।

ফুটসাল টুর্নামেন্টে ৪-৩ ব্যবধানে ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫১তম ব্যাচকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ৪৭তম ব্যাচ। আরডুইনো প্রজেক্ট প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে এরর ৪০৪, এক্স ওয়াই জেড ও শর্ট সার্কিট গ্রুপ। ইনডোর গেমস-এর মধ্যে দাবা খেলায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ হয় যথাক্রমে তালহা ও হৃদয়, ডার্ট খেলায় হৃদয় ও তালহা এবং ই-ফুটবল-এ তৃনো ও নিলয়।

৭ নভেম্বর (শনিবার) ছিল পুরো আয়োজনের সবচেয়ে ব্যস্ত দিন। সকাল থেকে অনুষ্ঠিত হয় কুইজ কার্নিভাল, এরপর শিল্প ও নীতিগত বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার—’ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ ইন স্পিনিং এন্ড গভর্নমেন্ট মেজারস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্ট্র্যাটেজিস ফর কস্ট ইফিশিয়েন্সি ইন দ্য স্পিনিং সেক্টর।’ সন্ধ্যায় ওয়াল ম্যাগাজিন ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন প্রদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটে। এরপর অনুষ্ঠিত হয় পুরষ্কার বিতরণ এবং ৪৬তম ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ব্যান্ড শো-এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকেন আরমাদা স্পিনিং মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ ও কোয়ালিটেক বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান আহসানুল হক। তাঁরা যথাক্রমে স্পিনিং খাতে ব্যয় দক্ষতা অর্জনের জন্য সরকারি পদক্ষেপ ও শিল্পখাতের কৌশলসমূহ এবং স্পিনিং খাতে ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ ও অটোমেশন বিষয়ে আলোকপাত করেন।

এছাড়া সেমিনারে সভাপত্বিতে থাকেন বুটেক্স স্পিনার্স ক্লাবের সভাপতি আবু রাফসান করিম। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম, আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম, আইটিইটির অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জি. মো. এনায়েত হোসেন, আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস-চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মো. সাঈদুর রহমান, নোমান গ্রুপের স্পিনিং বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. এনামুল করিম, ওয়ান কম্পোজিট মিলস লিমিটেডের পরিচালক নাসির উদ্দিন মিয়া, সালমা গ্রুপের সিওও আজহার আলি এবং বাদশা টেক্সটাইল লিমিটেড ও কামাল ইয়ার্ন লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক খোরশেদ আলম। 

আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম বলেন, “আমরা অটোমেশন নিয়ে কথা বলছি ঠিকই কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অটোমেশনের সঠিক সময় এখনো আসেনি। আমাদের দেশের অনেক মানুষ এখনো বেকার। এখনি অটমেশনের দিকে গেলে প্রথমত এই বেকারত্ব আরো বৃদ্ধি পাবে, দ্বিতীয়ত ইলেকট্রিসিটির ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাবে। তবে এখানে রিং ডাটা ব্যবহার করে ইফিসিয়েন্সি বাড়ানো যায়। আমাদের খরচগুলোর প্রপার এনালাইসিস করতে হবে যেন এর থেকে আমরা লাভ বের করে আনতে পারি।”

আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস-চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মো. সাঈদুর রহমান বলেন, ”আমরা টেক্সটাইল সেক্টরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অবস্থা পার করেছি। যখন বস্ত্র নীতি ঘোষণা করা হয় তখন গার্মেন্টস টেক্টর ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করে। তখন আমরা এই ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ গুলোর যোগান দিতে পারছিলাম না, যার কারণে স্পিনিং সেক্টর গুলো শুরু করা হয় এবং ব্যাপকভাবে উন্নতি করে। অটোমেশনের ব্যবহার করে স্পিনিং সেক্টরের সংকটকে কাটানোর যে চিন্তাধারা উদ্ভাবন করা হয়েছে তা প্রশংসনীয়। এটা বাস্তবায়ন করতে পারলে আমাদের দেশের পিনিং সেক্টরগুলো এবং ইন্ডাস্ট্রি লেভেলও আমরা আরো উন্নতি করতে পারব।“

আইটিইটির অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জি. মো. এনায়েত হোসেন তার বক্তব্যে স্পিনিং সেক্টরের সংকট নিরসনে টেকসই এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার উপর আলোকপাত করেন৷ যার ফলে শুধু স্পিনিং সেক্টরের সংকট নয় বরং সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে৷ 

অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম বলেন, ”আমি টেক্সটাইল সেক্টরকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখি এবং অটোমেশন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সারা পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশের কোম্পানি ও ফ্যাক্টরির মালিকরা আমাদের শ্রমিকদেরকে সবচেয়ে কম বেতন দেয়। বাংলাদেশ টেক্সটাইল সেক্টর নিয়ে ইকোনমিক কমপ্লেক্সিটি-এর মধ্যে রয়েছে। টেক্সটাইল সেক্টর মোট বিশ্ব দূষণের ১১% কার্বন নিঃসরণ ঘটায়। এই ১১% এর মধ্যে বাংলাদেশ হলো দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশীদার।বাংলাদেশ প্রচুর পরিমাণে কটন আমদানি করে, কাপড় বানায় এবং বর্জ্য বাংলাদেশে রেখে যায়।”

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, “স্পিনিং ফ্যাক্টরির এই সংকট মোকাবেলার জন্য আমাদের নিজেদের মেশিন বানানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। আমরা এতদিন এসব প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাইরের দেশের উপর নির্ভরশীল ছিলাম। আমাদেরও উচিত ইনোভেটিভ টেক্সটাইল মেশিন তৈরির দিকে ধাবিত হওয়া। এ ক্ষেত্রে যে অটোমেশনের ধারণা প্রস্তাব করা হয়েছে, তা যদি আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি তাহলে আমাদের অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।”

স্পিনার্স ক্লাবের সভাপতি আবু রাফসান করিম বলেন, “স্পিনার্স ফিয়েস্তা ৩.০ শুধুমাত্র একটি ইভেন্ট নয়; এটি ভবিষ্যৎ শিল্পনেতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। ইন্ডাস্ট্রি ৪.০–এর যুগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতেই এই আয়োজন। কস্ট এফিসিয়েন্সি ও প্রযুক্তিনির্ভর সেমিনার শিক্ষার্থীদের বাস্তব শিল্প–জ্ঞান দেবে। শীর্ষ শিল্পপতিদের উপস্থিতি আমাদের প্রতি তাদের আস্থাও প্রমাণ করে। এই সংযোগ ও অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের পেশাগত ভিত্তি আরও শক্ত করবে।”

ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জুমানা তাসনীন বলেন, “স্পিনার্স ফিয়েস্তা ৩.০ আয়োজন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মেধা, একাডেমিক অর্জন ও শিল্প–সংযোগের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। কুইজ, আরডুইনো প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ বিষয়ক সেমিনার—সব মিলিয়ে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য অসাধারণ সুযোগ। দেশের শীর্ষ শিল্পপতিদের অংশগ্রহণ ইভেন্টটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের এর মধ্য দিয়ে বুটেক্সের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা এক প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পৃক্ত হয়, যা শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি শিল্প–জ্ঞান ও সৃজনশীলতার অনন্য সমন্বয় ঘটায়।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাম্পাস

অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে ইফতার আয়োজন, ইবি শিবির সেক্রেটারির প্রতিবাদ

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বাদ দিয়ে আবাসিক শিক্ষার্থীদের নিয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) হল গুলোতে ইফতার আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে হল কর্তৃপক্ষ। এ সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়েছেন শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি।

সোমবার (২ মার্চ) হল প্রভোস্ট কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী রবিবার (৮ মার্চ) হলে অবস্থানরত আবাসিক শিক্ষার্থীদের মাঝে ইফতার করানোর নোটিশ ইস্যু করার পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদ জানান তিনি।

বিজ্ঞপ্তি সূত্রে, প্রভোস্ট কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত মোতাবেক আগামী ৮ মার্চ (১৮ রমজান) হলসমূহের আবাসিক ছাত্রদের এ ইফতার দেওয়া হবে। ইফতার সংগ্রহের জন্য অফিস চালাকালীন সময়ে হল অফিস হতে আগামী ৩-৪ মার্চের মধ্যে হল আইডি কার্ড দেখিয়ে টোকেন সংগ্রহ করতে বলা হয়। উল্লেখিত সময়ের পর আর কোন টোকেন দেয়া হবে না।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়ে ইবি শাখা ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি রাশেদুল ইসলাম রাফি উল্লেখ করেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হল প্রশাসন কর্তৃক শিক্ষার্থীদের জন্য ইফতারের আয়োজন নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় ও মানবিক উদ্যোগ। এ ধরনের উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মাঝে ভ্রাতৃত্ব ও সৌহার্দ্য বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এজন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানাই। তবে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, এই আয়োজনটি শুধুমাত্র আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছে, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। বিষয়টি অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের প্রতি বৈষম্যমূলক বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। কারণ, তারাও হলের বিভিন্ন ফি পরিশোধ করেন এবং রমজান মাসে পড়াশোনার স্বার্থেই ক্যাম্পাসে অবস্থান করে থাকেন। তাই তাদের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া উচিত ছিল।

তিনি আরও লিখেন, আমরা আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি আন্তরিকভাবে পর্যালোচনা করে অতি দ্রুত সকল শিক্ষার্থীর জন্য ইফতারের ব্যবস্থা গ্রহণে কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।

প্রশাসনের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনাবাসিক শিক্ষার্থীরাও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রতিবাদ জানিয়েছেন।এ বিষয়ে প্রভোস্ট কাউন্সিল সভাপতি ও খালেদা জিয়া হল প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. জালাল উদ্দিন জানান, এই আয়োজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের না বরং হল কেন্দ্রিক। তাই হলের প্রভোস্টদের নিয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের বিষয় তখনই আসে যখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ব্যবস্থা করবেন।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

ঈশ্বরদীতে হত্যা-ধর্ষণের ঘটনায় ইবিস্থ পাবনা জেলা কল্যাণ সমিতির প্রতিবাদ, সুষ্ঠু তদন্তের আহ্বান

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

পাবনার ঈশ্বরদীতে এক বৃদ্ধা ও তার কিশোরী নাতনিকে অপহরণ করে ধর্ষণ পরবর্তী কুপিয়ে হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গভীর শোক এবং তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) পাবনা জেলার অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের সংগঠন পাবনা জেলা ছাত্রকল্যাণ সমিতি।

শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনটির প্রচার সম্পাদক সামিউল ইসলাম প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞাপ্তিতে এ নিন্দা জানান নেতৃবৃন্দ। তারা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষ বিচারের দাবি জানান।

প্রেস বিজ্ঞাপ্তিতে জানানো হয়, শনিবার সকালে ঈশ্বরদী উপজেলার দাশুড়িয়া ইউনিয়নের ভবানিপুর উত্তরপাড়া গ্রাম থেকে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা সুফিয়া বেগমকে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এরপর তার নাতনি দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জামিলা আক্তারকে অপহরণ করে নিয়ে যায় তারা। জাতীয় দৈনিক পত্রিকা প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী সকালে বাড়ির পাশে একটি সরিষাখেত থেকে ওই কিশোরীর বিবস্ত্র মৃতদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানা যায়।

এ বিষয়ে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবনা জেলা কল্যাণ সমিতি’র সভাপতি সৈয়দ ওয়ালি উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক শাকিল আহমেদ এক যৌথ বিবৃতিতে বলেন, পাবনার ঈশ্বরদীতে সংঘটিত দাদীকে হত্যা ও নাতনির ওপর পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোক, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। এমন নৃশংস ঘটনা আমাদের মানবিক মূল্যবোধ, সামাজিক নিরাপত্তা ও নৈতিক চেতনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

তারা বলেন, এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনতে হবে। আমরা নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদেও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলঅ রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানাই। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি পাবনায় যেন ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের নৃশংস ঘটনা ঘটানোর সাহস না পায়- সেজন্য অপরাধীদের এমন শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যা সমাজে শক্ত বার্তা প্রদান করবে।একই সাথে আমরা সমাজের সকল স্তরের মানুষের নৈতিকতা, মানবিকতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধিও জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানাই। পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধ করা সম্ভব।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ গোবিপ্রবি শাখার নেতৃত্বে সোহেল-তাওহীদ

Published

on

By

গোবিপ্রবি প্রতিনিধি


ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) শাখার তিন সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে।

এতে সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ইংরেজি বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সোহেল হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তাওহীদুল ইসলাম।

এছাড়াও সহ-সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হাবিব।

বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, গোবিপ্রবি শাখার উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইফতার মাহফিল ও বিশ্ববিদ্যালয় সম্মেলন-২০২৬’ অনুষ্ঠানে তিন সদস্যবিশিষ্ট আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এ সময় নবনির্বাচিতদের শপথ পাঠ করান ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি খায়রুল আহসান মারজান।

উক্ত অনুষ্ঠানে নবগঠিত কমিটির সভাপতি মো. সোহেল হোসেনের সভাপতিত্বে এবং বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মাদ হাবিবের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি খায়রুল আহসান মারজান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় সম্পাদক আনোয়ার হোসেন মঞ্জু।

অনুষ্ঠানে নবগঠিত কমিটির সভাপতি মো. সোহেল হোসেন বলেন, “সকল অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার ও অনিয়মের বিরুদ্ধে আমরা দৃঢ়ভাবে সোচ্চার থাকব। কুরআন ও শরিয়াভিত্তিক আদর্শকে ধারণ করে আমরা আমাদের সাংগঠনিক ও শিক্ষাবিষয়ক সকল কার্যক্রম পরিচালনায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সার্বিক কল্যাণ, নৈতিক উন্নয়ন ও গঠনমূলক কর্মকাণ্ডে আমরা আন্তরিকভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। ইসলামী সংস্কৃতি চর্চা এবং প্র্যাকটিক্যাল মুসলিম হিসেবে জীবন পরিচালনার ক্ষেত্রে আমরা একে অপরের সহযোগী ও সহযাত্রী হয়ে কাজ করতে চাই।”

Continue Reading

Trending