Connect with us

top1

সিম লক রেখে কিস্তিতে স্মার্টফোন বিক্রির অনুমোদন বিটিআরসির: উন্নত দেশের চিত্র ভিন্ন

Published

on

ঢাকা, ৩ নভেম্বর ২০২৫ — বাংলাদেশে মোবাইল অপারেটরদের জন্য স্মার্টফোন বিক্রির ক্ষেত্রে নতুন এক যুগের সূচনা হয়েছে। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে মোবাইল অপারেটররা সব সিম স্লট লক রেখে কিস্তিতে স্মার্টফোন বিক্রি করতে পারবে।
এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে যতদিন না কিস্তির সব টাকা পরিশোধ হয়, অপারেটররা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য গ্রাহকদের একটি নির্দিষ্ট নেটওয়ার্কে আবদ্ধ রাখতে পারবে।
বাইরের উন্নত দেশগুলোতেও কিস্তিতে মোবাইল কেনার সুযোগ থাকলেও তা দেশের নেয়া নিয়ম হতে অনেকটাই ভিন্ন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর দেশ অস্ট্রিয়াতে ফোন মালিক যেকোনো সময় ফোন আনলক করতে পারেন। কিছু অপারেটর আনলকিং সার্ভিসের জন্য ফি নেয় (যেমন T-Mobile Austria ৫০-১৫০ ইউরো)।
বেলজিয়াম: একসময় সিম লক নিষিদ্ধ ছিল, কিন্তু ২০০৯ সালে ইউরোপীয় আদালতের রায়ে তা বাতিল হয়।
জার্মানি ও ফ্রান্স: কিস্তিতে ফোন বিক্রি হয়, তবে আনলকিং সহজ এবং গ্রাহক চুক্তির মেয়াদ শেষে অন্য সিম ব্যবহার করতে পারেন।
যুক্তরাষ্ট্রে, সিম লক ব্যাপকভাবে প্রচলিত:

অপারেটররা ডিভাইস সাবসিডি বা কিস্তি ভিত্তিতে ফোন বিক্রি করে এবং ফোনটি চুক্তির মেয়াদ বা কিস্তি পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত লক থাকে।
FCC নির্দেশনা অনুযায়ী, অপারেটররা কিস্তি শেষ হলে ফোন আনলক করতে বাধ্য, তবে সময়সীমা বা শর্ত ভিন্ন হতে পারে।

অপারেটরদের রাজস্ব বৃদ্ধি ও নতুন ব্যবসায়িক মডেল হিসেবে দীর্ঘমেয়াদী গ্রাহক ধরে রাখতে পারবে, ফলে তাদের আয় ও গ্রাহক ধরে রাখার হার বাড়বে। একই সাথে নিরাপদে কিস্তি আদায় করতে পারবে, যা তাদের জন্য ঝুঁকিহীন বিক্রয় ব্যবস্থা তৈরি করবে। যদি কিস্তি পরিশোধে সমস্যা হয়, তাহলে ফোন লক হয়ে যেতে পারে। এতে গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারেন। এ নিয়মের মাধ্যমে নিম্ন আয়ের মানুষ যারা একবারে স্মার্টফোন কিনতে পারেন না, তারা সহজে কিস্তিতে ফোন কিনতে পারলেও, ডিভাইস লকিং অ্যাপ ব্যবহারে নিরাপত্তা ও ডেটা প্রাইভেসি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, বিশেষ করে যদি তা অপারেটর দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

দিল্লিতে বিক্ষোভের আগেই আটক ককরোচদের শীর্ষ নেতারা

Published

on

By

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দিল্লিকে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) পূর্ব ঘোষিত বিক্ষোভ কর্মসূচিকে ঘিরে ধরপাকড় শুরু করেছে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির পুলিশ।

ইতোমধ্যে দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে, ইউটিউবার ও ইনফ্লুয়েন্সার ধ্রুব রাঠিসহ আরও কয়েক নেতাকে আটক করা হয়েছে বলে জানিয়েছে একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম। এ ছাড়া বিক্ষোভে যোগ দিতে আসা প্রায় হাজার মানুষকে আটক করেছে দিল্লি পুলিশ।

এক প্রতিবেদনে রয়টার্স বলছে শনিবার সকালে দিল্লিতে পৌঁছানোর পর সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে বিমানবন্দর থেকে আটক করা হয়। এ ছাড়া দলের দুই সহ-আহ্বায়ক সৌরভ দাস ও আশুতোষ রানকা এবং আইন সহায়তা বিভাগের প্রধান রত্না সিংকেও আটক করা হয়েছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

অপরদিকে সিজেপির সেই কর্মসূচিতে যোগ দিতে যাওয়া ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে শনিবার ভোরে রাজধানী সংলগ্ন শহর গুরুগ্রাম থেকে আটক করেছে পুলিশ।

একইভাবে বিক্ষোভে যোগ দিতে বিভিন্ন স্থান থেকে আসা প্রায় ১ হাজার জনকে আটক করার কথা জানিয়েছে দিল্লি পুলিশ। 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এএনআইয়ের বরাতে জানা গেছে, জনশৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ঠেকানোর কথা বলে এই পদক্ষেপ নিয়েছে পুলিশ।

ভারত, দিল্লি, বিক্ষোভ, ককরোচ জনতা পর্টি, সিজেপিমুম্বাই থেকে শনিবার সকালে দিল্লিতে পৌঁছান ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরই পুলিশ তাকে আটক করে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে আটকের ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।

আটকের আগে দীপকে জানিয়েছিলেন, কারাগারে যেতে হলেও কিংবা জাতীয় নিরাপত্তা আইনে অভিযুক্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকলেও তাদের আন্দোলন থামবে না। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।

বিক্ষোভ ঠেকাতে দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তা

এদিকে বিক্ষোভের নির্ধারিত স্থান জন্তর মন্তরসহ দিল্লির গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর বিপুলসংখ্যক সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় ইন্টারনেট সংযোগে বিধিনিষেধ, একাধিক মেট্রো স্টেশন বন্ধ এবং ট্রেন চলাচলে বিঘ্নের খবরও পাওয়া গেছে। ফলে বিক্ষোভে অংশ নিতে আসা ব্যক্তিদের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।

ভোটার তালিকায় অনিয়মের অভিযোগ

ককরোচ জনতা পার্টির এবারের আন্দোলনের মূল দাবি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ। সংগঠনটির অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে যোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দিয়ে নির্বাচনি প্রক্রিয়াকে ক্ষমতাসীন বিজেপির পক্ষে প্রভাবিত করা হচ্ছে। তবে ভারতের নির্বাচন কমিশন ও বিজেপি- দুই পক্ষই এ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যঙ্গাত্মক উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করা সংগঠনটি বেকারত্ব, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং সরকারের জবাবদিহির মতো ইস্যুতে সক্রিয় হয়ে ওঠে। এবার নির্বাচনি স্বচ্ছতার দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে তারা।

এদিকে বিজেপির জাতীয় সভাপতি নীতিন নবীন ককরোচ জনতা পার্টি ও বিরোধী দলগুলোর আন্দোলনকে ‘নৈরাজ্যবাদী’ কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেছেন, এসব কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা চলছে।

বিক্ষোভের আগেই আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের আটক এবং শত শত মানুষকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনায় দিল্লির রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।

Continue Reading

top1

দিল্লিতে বিক্ষোভে যোগ দেয়ার আগে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক

Published

on

By

দিল্লিতে পরিকল্পিত বিক্ষোভে যোগ দিতে যাওয়ার আগে ভারতের গুরুগ্রাম থেকে ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশের নির্দেশনা মানতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, শনিবার (১০ অক্টোবর) দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রস্তাবিত বিক্ষোভে যোগ দেয়ার প্রস্তুতির মধ্যে ধ্রুব রাঠিকে আটক করা হয়। বিক্ষোভটি আয়োজনের পরিকল্পনা করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটি ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে এ কর্মসূচি ডেকেছে।

পুলিশের দল দিল্লিতে বিক্ষোভের আগে গুরুগ্রামের সেক্টর ৫৬-এর কেন্দ্রীয় বিহার আবাসিক এলাকায় ধ্রুব রাঠির বাসভবনে যায়। এসময় তাকে বিক্ষোভে যোগ দিতে দিল্লি না যাওয়ার নির্দেশ দেয়া হচ্ছিল বলে এর আগে গুরুগ্রাম পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন।

পুলিশের নির্দেশনা মানতে অস্বীকৃতি জানানোর পর তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছে হিন্দুস্তান টাইমস।

এর আগে, ধ্রুব রাঠি দিল্লিতে বিক্ষোভের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। রাজধানীতে মেট্রো স্টেশন বন্ধ, ট্রেন চলাচলে বিধিনিষেধসহ বিভিন্ন পদক্ষেপের সমালোচনা করে তিনি পরিস্থিতিকে প্রায় ‘লকডাউন’-এর সঙ্গে তুলনা করেন।

নির্বাচনী তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়া নিয়ে আপত্তি এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে এ বিক্ষোভের ডাক দেয়া হয়েছে।

তবে ধ্রুব রাঠিকে আটকের বিষয়ে পুলিশের বিস্তারিত বক্তব্য এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানা যায়নি।

Continue Reading

top1

আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগে দুই সেমিস্টারের ফল প্রকাশে ২০০ দিন, ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

Published

on

By

ইবি প্রতিনিধি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-ফিকহ অ্যান্ড ল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় বর্ষের দুই সেমিস্টারের ফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ উঠেছে। দুই সেমিস্টারের ফল প্রকাশে প্রায় ২০০ দিন সময় লাগায় পরবর্তী একাডেমিক কার্যক্রম নিয়ে ভোগান্তিতে পড়েছেন শিক্ষার্থীরা।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, আইন অনুষদের অর্ডিন্যান্সের ৯(ডি) ধারা অনুযায়ী পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৩০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশের বিধান রয়েছে। তবে ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ফল প্রকাশে সময় লাগে প্রায় ১১০ দিন। দ্বিতীয় সেমিস্টারের প্রথম পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় গত ৪ জুলাই। এর মধ্যে প্রায় ১০০ দিন পেরিয়ে গেলেও এখনো ফল প্রকাশ হয়নি।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, দ্বিতীয় সেমিস্টারের ৩২০১, ৩২০৩ ও ৩২০৪ নম্বর কোর্সের মিডটার্ম পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে ফল প্রকাশে জটিলতা তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই সেমিস্টার পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর ৩২০১, ৩২০৩ ও ৩২০৪ নম্বর কোর্সের মিডটার্ম/টিউটোরিয়াল পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে। অর্ডিন্যান্স অনুযায়ী এসব পরীক্ষা সেমিস্টার পরীক্ষার পূর্বে অনুষ্ঠিত হয়। ৩২০১ ও ৩২০৩ নম্বর কোর্সের মিডটার্ম পরীক্ষা গত ১৩ সেপ্টেম্বর নেন কোর্স দুটির শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ওহাব শাহীন। ওই পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারা শিক্ষার্থীদের ১৬ সেপ্টেম্বর পরীক্ষার ডেট দিলেও পরীক্ষা নেননি তিনি। পরে ২১ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ দিয়ে সেদিনও পরীক্ষা নেওয়া হয়নি। সর্বশেষ গত ২৬ সেপ্টেম্বর পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

এছাড়া ৩২০৪ নম্বর কোর্সের শিক্ষক অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলাম সম্প্রতি ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, ওই কোর্সের ক্লাস/ টিউটোরিয়াল শেষ না করেই তিনি বিভাগ থেকে চলে যান। পরবর্তীতে সেমিস্টার পরীক্ষার উত্তরপত্র তিনি পাবেন কিনা এ নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। এদিকে এই কোর্সের ইন্টারনাল মার্কের জটিলতা দূর করতে বিভাগীয় কমিটির সিদ্ধান্তে অধ্যাপক ড. নাজিমুদ্দিনকে মিডটার্ম/টিউটোরিয়াল পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয় বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

এদিকে বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের পরীক্ষা ও ফলাফল কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় পরবর্তী ব্যাচেরও একাডেমিক কার্যক্রম পিছিয়ে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। এ অবস্থায় সেশনজট দূর করা, দ্রুত পরীক্ষা গ্রহণ এবং পরীক্ষার সময়সূচি ও ফল প্রকাশের বিষয়ে সুস্পষ্ট পরিকল্পনা চেয়ে বিভাগীয় সভাপতির কাছে প্রায় ৫০ জন শিক্ষার্থীর স্বাক্ষরসংবলিত স্মারকলিপি দিয়েছেন উভয় শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা।

স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা উল্লেখ করেন, চতুর্থ বর্ষের প্রথম ও দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষা যথাসময়ে সম্পন্ন করা তাদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু পরীক্ষা সংক্রান্ত নির্দিষ্ট সময়সূচি, সম্ভাব্য তারিখ, ফরম পূরণ, পরীক্ষা গ্রহণ ও ফল প্রকাশসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ না থাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। দীর্ঘসূত্রতার কারণে হতাশা, মানসিক চাপ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে বলেও স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, যথাসময়ে স্নাতক (সম্মান) পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম শেষ না হলে বিসিএস, বিজেএস, বার কাউন্সিলসহ বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক ও পেশাগত পরীক্ষায় অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে সময়গত ও যোগ্যতাগত জটিলতার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি উচ্চশিক্ষা, চাকরি ও পেশাগত জীবনে প্রবেশের পরিকল্পনাও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ছে। এ কারণে চতুর্থ বর্ষের প্রথম ও দ্বিতীয় সেমিস্টারের পরীক্ষার জন্য সুস্পষ্ট, বাস্তবসম্মত ও সময়বদ্ধ রোডম্যাপ প্রণয়ন ও প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, “দিনে পাঁচটা করে ক্লাস নিয়ে শারীরিক-মানসিক টর্চার করা হয়, এদিকে পরীক্ষার নাম নেই। পরীক্ষা হলে রেজাল্ট নেই। এর আগে বিভিন্ন দাবির পরিপ্রেক্ষিতে একাডেমিক ক্যালেন্ডার দেওয়া হলেও সেগুলোর কোনো বাস্তবায়ন নেই। বলতে কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু আমাদের স্যাররা মিথ্যাবাদী। পরীক্ষা নিয়ে স্যাররা মজা নেন। শিক্ষার্থীদের হক নষ্ট করেন। এখন আবার চতুর্থ বর্ষে উঠে তৃতীয় বর্ষের কোর্সের মিডটার্ম পরীক্ষা দিতে হচ্ছে। দ্বিতীয় সেমিস্টারের ৩১০১, ৩১০৩ ও ৩১০৪ কোর্সের মিডটার্ম পরীক্ষার জন্য ফল আটকে আছে। ৪ জুলাই প্রথম পরীক্ষা হয়েছে, আজ প্রায় ১০০ দিন। তৃতীয় বর্ষের প্রথম সেমিস্টারের ফলও ১১০ দিনে দেওয়া হয়েছিল।”

তিনি বলেন, “অন্যান্য বিভাগ তাদের শিক্ষকদের সহযোগিতায় এগিয়ে যাচ্ছে, আর আমাদের বিভাগে আমাদের শিক্ষকরাই আমাদের পিছনে টেনে ধরেন। অন্যান্য বিভাগ ৪.২ পরীক্ষা দেবে, সেখানে আমরা তৃতীয় বর্ষেরই ফল পাইনি। এই বিভাগে পরীক্ষা-রেজাল্টের দাবি নিয়ে দৌড়াতে দৌড়াতে জুতা ক্ষয় হয়ে যায়। আগামী ফেব্রুয়ারিতেও সম্ভবত বিজিএসের সার্কুলার দেবে। শুধুমাত্র স্যারদের কারণে আমরা এগুলো হারাব।”

তিনি আরও বলেন, “আমার আব্বু-আম্মু দুজনই দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থতায় ভুগছেন। তারা শুধু জিজ্ঞেস করেন, কবে অনার্স শেষ করে বাসায় যাব। বাসায় কাউকে জানাতেও পারি না যে আমি কোন জাহান্নামের মধ্যে আছি। বাড়িতে জিজ্ঞেস করে কবে পড়াশোনা শেষ হবে, লজ্জায় বলতে পারি না। সামাজিকভাবে অপমান, অপদস্ত ও জীবন নিয়ে অনিশ্চয়তা দিন দিন আমাদের অন্ধকার করে দিচ্ছে।”

এ বিষয়ে ৩২০১ ও ৩২০৩ নম্বর কোর্সের শিক্ষক সহযোগী অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ওহাব শাহীন বলেন, আমি যে দুইটা কোর্স নিয়েছিলাম, অনেক আগেই নম্বরপত্র জমা দিয়েছি। বাকিটা খোঁজ নিয়ে দেখতে পারেন।

৩২০৪ নম্বর কোর্সের শিক্ষক অধ্যাপক ড. নুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করলে প্রথমে কোর্সের নাম জানতে চাইলেন। কোর্সের নাম শুনার পর তিনি ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে পরীক্ষা কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. জাকারিয়া মজুমদার বলেন, গত মাসের ৩০ অক্টোবর বুধবার পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখি অধ্যাপক ড. আনোয়ারুল ওহাব শাহীন ওনার দুইটা কোর্সের নম্বর জমা দেওয়া হয়নি বলে আমি এটা নিয়ে কাজ করতে পারিনি। আর আমি গত সপ্তাহ থেকে বেশ কিছুদিন অসুস্থ থাকায় আর এটা নিয়ে কাজ করা হয়নি। খুব দ্রুত ফলাফল প্রকাশের কাজ করা হচ্ছে।

বিভাগীয় সভাপতি অধ্যাপক ড. আলতাফ হোসেন বলেন, “তৃতীয় এবং চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা আমার কাছে রেজাল্ট ও পরীক্ষার বিষয়ে বারবার আসে এবং স্মারকলিপি দিয়েছে। বিভাগীয় মিটিংয়ে আমি সেটা তুলে ধরেছি। আশা করি শিগগিরই রেজাল্ট প্রকাশ হবে।”

তবে সংশ্লিষ্ট কোর্সের শিক্ষকরা নম্বরপত্র জমা হয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করলে মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

এর আগে বিভাগের সার্বিক জটিলতা ও শিক্ষার্থীদের অভিযোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপ-উপাচার্য সরেজমিনে তদন্ত করেছিলেন। তবে ওই তদন্তের পর এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি বলে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ। এবিষয়ে পূর্বের তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমতাজ হোসেনের কাছে জানতে চেয়ে একাধিক বার কল দিলেও পাওয়া যায়নি।

Continue Reading

Trending