Connect with us

ফিচার

৫৬ বছর বয়সে এইচএসসি পাশ করলেন শাম্মী আক্তার

Published

on

অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও পরিবারের অনুপ্রেরণায় ৫৬ বছর বয়সে এইচএসসি পরীক্ষায় পাশ করেছেন খুলনার শাম্মী আক্তার। বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে খুলনার মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ থেকে এই বছর পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি জিপিএ ৩.১৮ পেয়ে সাফল্য অর্জন করেন।শাম্মী আক্তার জানিয়েছেন, তার এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে নিজের মনোবল, স্বামী ও সন্তানের উৎসাহ এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তির মিশ্রণ। ১৯৮৮ সালে দশম শ্রেণিতে পড়ার সময় বিয়ে হওয়ায় পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। সংসার, সন্তান ও দায়িত্বের মাঝে শিক্ষার স্বপ্ন কখনো ভেঙে যায়নি তার।২০১৯ সালে ছেলে ও স্বামীর উৎসাহে আবারও পড়াশোনার আগ্রহ জাগে তার মনে। খুলনার ইকবাল নগর বালিকা বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও কোর্স বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং বদলি প্রতিষ্ঠান থেকেও ভর্তি বাতিলের খবর পাওয়ায় এক পর্যায়ে ভেঙে পড়েছিলেন। তবে ২০২১ সালে এক শিক্ষকের খুদে বার্তায় নতুনভাবে শুরু হয় তার আশা। স্বামী ও সন্তানের সঙ্গে পরামর্শ করে নিয়মিত পড়াশোনা শুরু করেন। ২০২৩ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাস করার পর তিনি উদ্যোক্তা হিসেবে বেকারত্ব দূর করার উদ্যোগও নেন। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খুলনার করিমনগরের বাড়িতে একটি ছোট ব্যবসা শুরু করেন।

শাম্মী আক্তার বলেন, প্রতিদিনের পরিশ্রম ও ধৈর্যই আমাকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে। সব কাজ শেষ করার পর রাত ১১টার পরে পড়তে বসতাম। কোনো প্রাইভেট শিক্ষক ছিল না, অনেক সময় ইংরেজি ইউটিউব দেখে শিখেছি। কখন যে রাত ১টা বা ৩টা বাজে যেত, টেরই পাইনি।তিনি আরও বলেন, আমার খুব ইচ্ছা ছিল উচ্চ ডিগ্রি নেওয়ার, কিন্তু পারিনি। দশম শ্রেণিতে পড়াকালীন বিবাহ হয়। তারপর সন্তানদের দিকে বেশি মনোনিবেশ করেছি। তাদের সফলতা আমাকে অনুপ্রেরণা দিয়েছে। এই বয়সে এসে অনেকে পারবে কিনা জানি না, কিন্তু ইনশাআল্লাহ আমি পেরেছি। বয়স শুধু একটা সংখ্যা মাত্র। আমি সামনে পড়াশোনা চালিয়ে যাব, এবার অনার্সে ভর্তি হব।শাম্মীর স্বামী অবসরপ্রাপ্ত সেনা সার্জেন্ট হাফিজুর রহমান মোল্লা বলেন, আমি সবসময় পাশে থেকেছি। বলেছি, ভালো ফলাফল লাগবে না, পাস করে আসো। এতে সমাজের জন্যও কিছু করা সম্ভব। দৈনন্দিন কাজে সহযোগিতা করেছি।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top2

‘ভেবেছিলাম লাফ দিয়ে পড়লে পরিবার অন্তত লাশটা পাবে’

Published

on

By

ঢাকা জেলার আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরীন ফ্যাশনস গার্মেন্টসের অগ্নিকাণ্ডের ১৩ বছর পূর্ণ হয়েছে আজ সোমবার (২৪ নভেম্বর)। ২০১২ সালের এই দিনে ওই ফ্যাক্টরিতে আগুনে পুড়ে মারা যান ১১২ জন শ্রমিক। আহত হন একশ’র বেশি শ্রমিক। অগ্নিকাণ্ডের সময় গার্মেন্টসটির পঞ্চম তলায় কাজ করছিলেন জরিনা খাতুন। আগুন লাগার পর তিনিসহ অন্য শ্রমিকরা ছাদের দিকে ছোটেন। সেখানে তালা দেখে নিচে নামেন। এ সময় নিরাপত্তারক্ষী আল আমিন তাদের বলেন কিছুই হয়নি, উপরে যাও। এরপর তিনি নিচের গেট লাগিয়ে দেন। পরে তিন তলা থেকে লাফ দেন। তার বাম পায়ের হাড় ভেঙ্গে যায়। এখনও শরীরের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছেন।

অগ্নিকাণ্ডের সময় কেন লাফ দিয়েছিলেন প্রশ্নে জরিনা খাতুন বলেন, ‘সেদিন বাঁচার আশায় লাফ দেইনি। আগুনে পুড়ে মরলে পরিবার লাশটা পেতো না। লাফ দিয়ে পড়লে পরিবার অন্তত লাশটা পাবে। এই ভাবনা থেকে লাফিয়ে পড়েছি। লাফ দিয়ে এমনভাবে বাঁচলাম, এখন সবার কাছে বোঝা হয়ে গেছি। এখন মনে হয়, সেদিন আগুনে পুড়ে মরে গেলেও ভালো হতো। সন্তান বড় হলে বাবা মার জন্য কিছু করে। আর আমার বৃদ্ধ বাবা-মা আমার জন্য কষ্ট করছেন।’

ক্ষতিপূরণ না পওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘দীর্ঘ ১৩ বছরেও ক্ষতিপূরণ পাইনি। ড. ইউনূস সরকার ক্ষমতায় আসার পর শ্রম উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ আমাদের নিয়ে একটা কমিটি করেন। ড. ইউনূস দেশের নারীদের জন্য অনেক কিছু করেছেন। ভেবেছি, আমাদের ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়বিচার করবেন। কিন্তু তিনিও হতাশ করেছেন। গত বছরের নভেম্বরের ২৪ তারিখে শ্রম উপসচিব আমাদের বলেছিলেন, আমাকে এক মাস সময় দেন। এর মাঝে আপনাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। এরপর এক বছর পার হচ্ছে। আর কেউ কোনও খোঁজ নেয়নি।’

বিচারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার বিচার এক বছরের মধ্যে করতে পারে, অথচ ১৩ বছর পরও আমরা বিচার পাই না। আমাদের পরিকল্পিতভাবে মেরে ফেলার চেষ্টা করা হয়েছে। কোনও স্টাফ তো মারা যায়নি। সিকিউরিটি গার্ড আল আমিনও মরেনি। যা মরেছে সব শ্রমিক। এতোগুলো শ্রমিক মারা গেলো, অথচ প্রধান আসামি দেলোয়ার এখনও বাহিরে।’ 

জরিনা খাতুন বলেন, ‘আমি অসুস্থ মানুষ। আমার কষ্টের শেষ নাই। আমাদের পুনর্বাসনও হলো না। আমরা কোথায় দাঁড়াবো। সেই জায়গাটুকুও নেই। আমরা তাদের বিচার চাই, পাশাপাশি ক্ষতিপূরণও চাই।’

এই অগ্নিকাণ্ডে অবহেলার অভিযোগে তৎকালীন সময়ে পুলিশ একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। এক বছরের মধ্যে অভিযোগপত্র জমা পড়ে। এরপর ২০১৫ সালে গার্মেন্টসের মালিক দেলোয়ার হোসেনসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন আদালত। ওই বছরের ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয় সাক্ষ্যগ্রহণ। এরপর থেকে দীর্ঘ ১০ বছরে সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ পড়ে ৬৮ বার। এর মধ্যে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে মাত্র ১৬ জন সাক্ষী উপস্থিত করেছেন সর্বশেষ এক বছরে। গত ১৮ নভেম্বর এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের তারিখ ছিল। তবে ওইদিন কোনও সাক্ষী আসেননি। এজন্য ঢাকার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ প্রথম আদালতের বিচারক নাসরিন জাহান পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য ২০২৬ সালের ৯ মার্চ তারিখ ধার্য করেন।

সর্বশেষ সাক্ষ্যদাতা মমিনুর জবানবন্দিতে বলেন, ২৪ নভেম্বর ২০১২ সালে সন্ধ্যায় তাজরীন ফ্যাশনসের তৃতীয় তলায় ফিনিশিং সুপার ভাইজার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। হঠাৎ ফায়ার অ্যালার্মের শব্দ পান। তিনি ইনচার্জ মুস্তাফিজুর রহমানকে বলেন, মনে হয় নিচে আগুন লেগেছে। তারা বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। তারা বের হতে পারছিলেন না। তখন তারা কয়েকজন তৃতীয় তলার জানালা ভেঙে নিচে লাফ দেন। লাফ দেওয়ার ফলে তিনি আহত হন। অন্যান্য লোকজন তাকে উদ্ধার করে। অসুস্থ অবস্থায় তাকে নারী শিশু হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে কয়েকটি হাসপাতালে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হন।

জবানবন্দিতে তিনি বলেন, আগুনের সূত্রপাত বিল্ডিংয়ের গোডাউন থেকে হতে পারে বলে জেনেছি। আগুন কীভাবে লেগেছে জানি না। নিচ তলার স্টোর থেকে আগুন লাগার কথা শুনেছি। তবে তার সাক্ষ্যকে আসামিপক্ষের সাক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন গার্মেন্টস শ্রমিক ঐক্য ফোরামের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম সবুজ।

তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তাজরীনের মালিকপক্ষ অগ্নিকাণ্ড কবলিত গার্মেন্টসটিতে তালাবদ্ধ করে শ্রমিকদের বের হতে না দিয়ে, নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করেছে। সারা পৃথিবীর মানুষ বিষয়টি জানে। আর আমাদের রাষ্ট্র সে বিচার নিয়ে দেরি করছে, অবহেলা করছে। আগের মতোই এখনও বিচার প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতা দেখছি। রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবীরা ভালোভাবে কাজ করছেন না। প্রধান আসামি দেলোয়ার হোসেন সর্বশেষ পরপর দুই হাজিরায় (২৯ সেপ্টম্বর ও ১৮ নভেম্বর) আদালতে উপস্থিত হয়নি। তার পক্ষ থেকে আইনজীবী সময়ের আবেদন (টাইম পিটিশন) করেন। তাকে অসুস্থ হিসেবে উল্লেখ করছেন। অসুস্থতার কোনও কাগজ আদালতে দাখিল করা হয়নি।’

মামলার দীর্ঘসূত্রিতা ও বিচার শেষ হওয়া নিয়ে ঢাকার প্রথম অতিরিক্ত জেলা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাসিস্ট্যান্ট পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটি আসলে দুঃখজনক। এসব রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ মামলা দ্রুত বিচার হওয়া উচিত বলে মনে করি। এখানে অবশ্যই আমাদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এজন্য এসব আলোচিত রাষ্ট্রীয় মামলা যদি অন্যান্য বড় মামলার মতো ট্রাইব্যুনাল গঠন করে দ্রুত শেষ করা যেতো তাহলে ভালো হতো। সংশ্লিষ্ট ঘটনার ভুক্তভোগী এবং যারা অপরাধী তাদের বিচার দ্রুত জাতি দেখতে পেতো।’

মামলায় অভিযুক্ত অপর আসামিরা হলেন— প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মাহমুদা আক্তার, স্টোর ইনচার্জ (সুতা) আল আমিন, সিকিউরিটি ইনচার্জ আনিসুর রহমান, সিকিউরিটি সুপারভাইজার আল আমিন, স্টোর ইনচার্জ হামিদুল ইসলাম লাভলু, অ্যাডমিন অফিসার দুলাল উদ্দিন, প্রকৌশলী এম মাহবুবুল মোর্শেদ, সিকিউরিটি গার্ড রানা ওরফে আনোয়ারুল, ফ্যাক্টরি ম্যানেজার আব্দুর রাজ্জাক, প্রোডাকশন ম্যানেজার মোবারক হোসেন মঞ্জুর, শামীম ও শহীদুজ্জামান দুলাল। আসামিদের মধ্যে আল আমিন, রানা, শামীম ও মোবারক হোসেন পলাতক। আর বাকি সব আসামি জামিনে আছেন।

উল্লেখ‍্য, অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়, কারখানা ভবনটি ইমারত নির্মাণ আইন মেনে করা হয়নি। জরুরি বহির্গমন পথ ছিল না। তিনটি সিঁড়ির মধ্যে দুটি নিচতলার গুদামের ভেতরে এসে শেষ হয়েছে। ওই গুদামে আগুন লাগার পর শ্রমিকেরা বের হতে চাইলে কারখানার ম্যানেজার শ্রমিকদের বাধা দিয়ে বলেন, আগুন লাগেনি, অগ্নিনির্বাপণের মহড়া চলছে। এরপর তিনি বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দেন।

Continue Reading

ফিচার

‘কন্যা সন্তান সৃষ্টিকর্তার শ্রেষ্ঠ উপহার’

Published

on

By

 ॥ সাইফুল ইসলাম মিঠু ॥

বিশ্বলোকে মানুষ ব্যক্তি হিসেবে কিছু উপহার নিজের স্বাভাবিক জীবনযাপনের মাঝেও পেয়ে থাকে। এটা তার সৃষ্টিকর্তার দেয়া একান্ত অনুগ্রহ। তেমনি এক উপহার কন্যা শিশু। প্রতি বছর ৩০ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত হয়। বাংলাদেশের সমাজে যাতে মহিলারা ভেদাভেদ বা বৈষম্যের শিকার না হন, সেদিকে লক্ষ রেখে জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্য নিয়ে ২০০০ সালে মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় কন্যাশিশু দিবস পালনের আদেশ জারি করে। আদেশে বলা হয়, শিশু অধিকার সপ্তাহের (২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর) মধ্যে একটি দিন অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর কন্যাশিশু দিবস হিসেবে পালন করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। উল্লেখ্য, জাতিসংঘের সদস্য রাষ্ট্রসমূহে ২০১২ সাল থেকে প্রতি বছরের ১১ অক্টোবর পালিত হয় আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস। এদিকে প্রতি বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৫ অক্টোবর পর্যন্ত আন্তর্জাতিক শিশু সপ্তাহ পালন করা হয়। এই শিশু সপ্তাহের দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ৩০ সেপ্টেম্বর পালন করা হয় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস হিসেবে।

রঙে-ঢঙে মাখা আজকের আধুনিক দুনিয়ায়ও জাহেলি যুগের প্রেতাত্মারা সজাগ। কেবল বিভিন্ন দিবস পালন ও আবেগময় শব্দ দ্বারা প্রকৃত কল্যাণের অবস্থান থেকে এসব চতুরেরা বহু দূরেই থাকে তাদের অবস্থান। কন্যাদের নিয়ে কুরআন ও হাদিসে রয়েছে সতর্কবাণী। কন্যাসন্তান জন্ম হলে জাহেলি যুগের সমাজপতিরাও নাখোশ হতো। মেয়েদের জীবন্ত কবর দিতো অনেক বর্বর পিতা। আল্লাহ তায়ালা তাদের বাস্তব অবস্থার কথা কুরআনে এভাবে তুলে ধরেছেন, অর্থাৎ ‘আর যখন তাদের কাউকে কন্যাসন্তানের সুসংবাদ দেয়া হয়; তখন তাদের চেহারা কালো হয়ে যায়। আর সে থাকে দুঃখ ভারাক্রান্ত। তাকে যে সংবাদ দেয়া হয়েছে, সে দুঃখে সে কওমের থেকে আত্মগোপন করে। আপমান সত্ত্বেও কি একে (কন্যাসন্তানকে) রেখে দেবে, না মাটিতে পুঁতে ফেলবে? জেনে রেখ, তারা যা ফয়সালা করে, তা কতই না মন্দ!।’ (সূরা নাহল : ৫৮-৫৯)।

হজরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ‘যে ঘরের (পরিবারের) প্রথম সন্তান কন্যা হয়; সে ঘর হয় বরকতময়। বর্তমান সমাজে দেখা যায়, কন্যাসন্তান হওয়ার কারণে অনেক নারীকে স্বামী পরিত্যক্তা হতে হয়। কন্যাসন্তান জন্মের পরই শুরু হয় মা ও শিশুর প্রতি চরম অবহেলা। কন্যাশিশু ও নারীর প্রতি চরম অবহেলা ও অবিচার হলো জাহেলি যুগের চিত্র। যে সমাজে নারীর কোনো মর্যাদা ছিল না। নারী ও কন্যাদের ভোগ ও আনন্দ বিনোদনের সামগ্রী হিসেবে মনে করা হতো। আজকের সমাজেও দেশে দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে মডেল বা নায়িকা ও বিশ্ব সুন্দরী নাম দিয়ে মূলত কন্যাসন্তানদের প্রকৃত সম্মান নষ্ট করা হয়। কন্যা (মেয়ে) কত দামি তা শিখতে হবে প্রিয়নবী মুহাম্মদ সা.-এর বিধান জেনেই।

কন্যাসন্তানের প্রতি সুবিচার ও যথাযথ দায়িত্ব পালন করা বিশ্বনবীর নির্দেশ। তিনি কন্যাদের প্রতি সুবিচার করতে বলেছেন। তাছাড়া কন্যাসন্তান মানুষের জান্নাত লাভেরও উপায়। হাদিসে এসেছে- আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, ‘আমার কাছে এক মহিলা এলো। তার সঙ্গে তার দুই মেয়েও ছিল। সে আমার কাছে কিছু সাহায্য প্রার্থনা করল। আমার কাছ থেকে সে একটি খেজুর ছাড়া কিছুই পেল না। আমার কাছে থাকা খেজুরটি আমি তাকে দিয়ে দিলাম। সে তা-ই গ্রহণ করল এবং তা (খেজুরটি) দুই টুকরো করে তার (ওই মহিলার) দুই মেয়ের মাঝে বণ্টন করে দিল। সে (মহিলা) তা থেকে কিছুই খেল না। তারপর সে (মহিলা) ও তার দুই মেয়ে উঠে পড়ল এবং চলে গেল। এমন সময় রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমার কাছে আসলেন। আমি তাঁর কাছে ওই মহিলার কথা বললাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, ‘যাকে কন্যাসন্তান দিয়ে কোনো কিছুর মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়; আর ওই ব্যক্তি তাদের (কন্যাসন্তানের) প্রতি যথাযথ আচরণ করে, তবে তা তার জন্য (জাহান্নামের) আগুন থেকে রক্ষাকারী হবে।’ (মুসলিম, মুসনাদে আহমদ)।

প্রকৃতপক্ষে সন্তান-সন্ততি (ছেলে-মেয়ে উভয়েই) আল্লাহ তায়ালার নেয়ামত ও শ্রেষ্ঠ উপহার। ইসলাম উভয়কেই আলাদা সম্মান ও মর্যাদা দিয়েছে। কাউকে কারও থেকে ছোট করা হয়নি কিংবা অবজ্ঞার চোখে দেখা হয়নি। কন্যাসন্তানের মাধ্যমে মহান আল্লাহ পরিবারে সুখ ও বরকত দান করেন। হাদিসে এমন কথা উল্লেখ হয়েছে। বাংলাদেশ মুসলিম সংখ্যাধিক মানুষের একটি দেশ। এখানকার অধিকাংশ মানুষের ধর্ম বিশ্বাস ইসলামকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে। সুতরাং কন্যাশিশু লালন-পালনে এখানে শুধু দিবস পালন নয়, বরং ধর্মীয় নির্দেশনা যথাযথভাবে পরিবারগুলোতে অনুসরণ করতে হবে।

কিন্তু আমাদের সমাজে এখনো অনেক পরিবারে কন্যাসন্তান জন্ম নিলে ইতিবাচক চোখে দেখা হয় না। অনেকে আবার মেয়ে সন্তানের মায়ের ওপর নাখোশও হন। বিভিন্ন কায়দায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন। কন্যাসন্তান হলে অপছন্দ করা, তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা এবং তাদের লালন-পালনের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন না করা, ইসলামপূর্ব বর্বর জাহেলি যুগের কুপ্রথা। এমন কাজে আল্লাহ তায়ালা ভীষণ অসন্তুষ্ট হন। রাসূল (সা.) মেয়েদের অনেক বেশি ভালোবাসতেন। মেয়েরা ছিল তার আদরের দুলালী। আজীবন তিনি কন্যাদের ভালোবেসেছেন এবং কন্যাসন্তান প্রতিপালনে অন্যদের উদ্বুদ্ধ করেছেন। কন্যাসন্তান লালন-পালনে অনেক উৎসাহ দিয়েছেন।

আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে নবী (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি দুটি কন্যাকে তারা সাবালিকা হওয়া পর্যন্ত লালন-পালন করবে, কিয়ামতের দিন আমি এবং সে এ দুটি আঙুলের মতো পাশাপাশি আসবো (অতঃপর তিনি তার আঙুলগুলো মিলিত করে দেখালেন)’। (মুসলিম, মুসনাদ আহমদ)।

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) বলেন, রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, ‘যার ঘরে কন্যাসন্তান জন্মগ্রহণ করলো, অতঃপর সে ওই কন্যাকে কষ্ট দেয়নি, মেয়ের ওপর অসন্তুষ্টও হয়নি এবং পুত্র সন্তানকে তার ওপর প্রাধান্য দেয়নি, তাহলে ওই কন্যার কারণে আল্লাহ তায়ালা তাকে জান্নাতে প্রবেশ করাবেন।’ (মুসনাদ আহমদ)।

হযরত আবদুল্লাহ উমর (রা.) বর্ণনা করেন, রাসূল (সা.) এরশাদ করেন, ‘ওই নারী বরকতময়ী ও সৌভাগ্যবান, যার প্রথম সন্তান মেয়ে হয়। কেননা, (সন্তানদানের নেয়ামত বর্ণনা করার ক্ষেত্রে) আল্লাহ তায়ালা মেয়েকে আগে উল্লেখ করে বলেন, তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান দান করেন, আর যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন।’ (কানযুল উম্মাল)।

প্রসঙ্গত কন্যাসন্তান প্রতিপালনে শুধু পিতাকেই নয়; ভাইকেও উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। বোনের কথাও বলা হয়েছে হাদিসে। যারা মনে করেন, মেয়ে বা বোনের পেছনে টাকা খরচ করলে ভবিষ্যতের তার কোনো প্রাপ্তি নেই, তারা মূলত ভুলের মধ্যে আছেন।

আবু সাঈদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল (সা.) বলেন, ‘কারও যদি তিনটি মেয়ে কিংবা বোন থাকে অথবা দুটি মেয়ে বা বোন থাকে, আর সে তাদের ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় করে এবং তাদের সঙ্গে সদাচার করে, তবে সে অবশ্যই জান্নাতে প্রবেশ করবে।’ (মুসনাদ আহমদ)।

কন্যাসন্তান প্রতিপালনে যেন বৈষম্য না করা হয় এবং বস্তুবাদী ব্যক্তিরা যেন হীনম্মন্যতায় না ভোগেন, তাই তাদের কন্যা প্রতিপালনে ধৈর্য ধরার উপদেশ দেওয়া হয়েছে। শোনানো হয়েছে পরকালে বিশাল প্রাপ্তির সুসংবাদ।

পরিশেষে কন্যাসন্তানদের প্রতি অবিচারকারী বা অবহেলাকারীদের প্রতি কুরআনের এ আয়াতটিই যথেষ্ট। আল্লাহ বলেন, ‘নভোম-ল ও ভূম-লের রাজত্ব আল্লাহ তায়ালারই। তিনি যা ইচ্ছা, সৃষ্টি করেন, যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন। অথবা তাদেরকে দান করেন পুত্র ও কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা করে দেন। নিশ্চয় তিনি সর্বজ্ঞ, ক্ষমতাশীল। (সূরা আশ-শুরা : ৪৯-৫০)। সুতরাং সাবধান! কন্যাসন্তান জন্ম নিলেই কোনো নারীকে দোষারোপ করা ঠিক নয়; বরং কন্যাসন্তানের প্রতি সুবিচার করুন। প্রিয়নবী মুহাম্মদ সা. বাইরে থেকে ফিরে ঘরে প্রথম ফাতিমা তথা কন্যাসন্তানদের সাথে আগে দেখা করতেন। এমনকি ঘরে কোনো উপহার বা খাবার নিয়ে এসে তিনি প্রথম মেয়েদের মাঝে তা বণ্টন করে দিতেন। তাই আমাদেরও উচিত ছেলে সন্তানের মতোই মেয়েদের সমান আদর-যত্নে, মায়া-মমতায় বেড়ে ওঠার সব দায়িত্ব পালন করা। আল্লাহ তায়ালা মুসলিম উম্মাহকে কন্যাসন্তান ও নারীদের প্রতি জাহেলি যুগের মতো আচরণ করা থেকে বিরত থাকার তাওফিক দান করুন। তাদের প্রতি সদয় হওয়ার এবং যথাযথ দায়িত্ব পালন করে হাদিসে ঘোষিত ফজিলত লাভের তাওফিক দান করুন।

লেখক : সাংবাদিক।

mithunalamdanga@gmail.com

ঢাকা, বাংলাদেশ।

Continue Reading

ফিচার

হেমন্তের বিদায়লগ্নে ইবির সাতচল্লিশে পদার্পণ

Published

on

By

মো. মোসাদ্দেক হোসেন

‎‎হেমন্তের ফসলভেজা সুবাস যখন ধীরে ধীরে ম্লান হতে শুরু করে, ঠিক তখনই শীত তার কোমল সাদা আবছায়ার মাধ্যমে প্রকৃতিতে অস্তিত্বের জানান দেয়। দুই ঋতুর এই মিলনক্ষণে প্রকৃতি যেন অদৃশ্যভাবে নতুন এক আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। ম্লান আলো, বাতাসে জমে ওঠা শীতল স্নিগ্ধতা, আর কুয়াশা এসবই যেন নীরব অতিথির মত নেমে আসে সকালের মাঠে, প্রান্তরে। শুকনো পাতার খসখস শব্দ আর শিশিরভেজা ঘাসের আদ্রতা মিলেমিশে তৈরি করে এক অনির্বচনীয় আমেজ, যেন হেমন্তের হাত ধরেই প্রকৃতি মধুর সংবরণে বরণ করে নিচ্ছে শীতকে।‎‎

ঠিক এমনই এক ঋতুসন্ধিক্ষণের দিনে আজ থেকে ৪৭ বছর আগে ১৯৭৯ সালের ২২ নভেম্বর, প্রথম যাত্রা শুরু করে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ। প্রকৃতির এই নীরব পরিবর্তনের মতোই সেদিন উচ্চশিক্ষার বুকে রচিত হয়েছিল এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা, যা আজও টিকে আছে ৪৭ বছরের ধারাবাহিকতায়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে দলকানা ভিসির পতন হলে, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪, থেকে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ণধার ও ১৪ তম উপাচার্যের মহান দায়িত্ব গ্রহণ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. নকীব মোহম্মদ নসরুল্লাহ।‎‎

২২ নভেম্বর প্রতিষ্ঠিত স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম এ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অসংখ্য কণ্টকাকীর্ণ পথ পেরিয়ে স্বকীয় পন্থায় দৃঢ় স্বরে উচ্চশিক্ষার দিগন্ত উন্মোচন করে আসছে কয়েক যুগ ধরে। ‎সবুজে ঘেরা কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক সংলগ্ন এ ক্যাম্পাসটি ১৭৫ একর জুড়ে বিস্তৃত। এখানে রয়েছে ৯টি অনুষদ, ৩৬টি বিভাগ ও শিক্ষার্থীদের আবাসনের জন্য ৫ টি ছাত্র ও ৩ টি ছাত্রী আবাসিক হল। প্রকাশিত তথ্য মতে বর্তমানে এর শিক্ষার্থী সংখ্যা ১৯৮৯৭ জন, শিক্ষক ৪১১ জন এবং বিদেশি শিক্ষার্থী ১৮ জন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে প্রায় ১ লাখেরও বেশি বই, ৩০ হাজার পান্ডুলিপি ও ১৯ হাজারেরও বেশি বিদেশি জার্নালের সাবস্ক্রিপশন রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত পিএইচডি ৭৪৯ জনকে , এমফিল ৮৫৫ জনকে, মাস্টার্স ২২,৫৮১ এবং অনার্স ২৪,৯৩৩ জনকে প্রদান করা হয়েছে।ইবির দুই অধ্যাপক ড. হাবিবুর রহমান ও ড. মিজানুর রহমান ২০২৫ সালে এলসেভিয়ার প্রকাশনা ও স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক প্রকাশিত বিশ্বের শীর্ষ ২% বিজ্ঞানীর তালিকায় স্থান পেয়েছেন। তাঁদের গবেষণার সাইটেশন যথাক্রমে ২৩৩৬ ও ৩০৮৬।বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে একটি তিন তলা ভবন বিশিষ্ট চিকিৎসা কেন্দ্র যা ২৪/৭ সেবা দেয় পীড়িত শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও রয়েছে আইসিটি সেল যা প্রযুক্তি সহায়তা নিশ্চিত করে। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী সেল, খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমেও এ বিশ্ববিদ্যালয় সমৃদ্ধ। চীন, জাপান, কোরিয়া, ব্রুনাইসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে একাধিক MoU চুক্তি  রয়েছে এবং রয়েছে  IIER যা বিভিন্ন গবেষণা ও ভাষা শিক্ষা ভিত্তিক কার্যক্রম পরিচালনা করে।‎‎

কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহের মিলন স্থলে শান্তিডাঙ্গা-দুলালপুরে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যাপীঠ আজ দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শিক্ষা-গবেষণার প্রাণকেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। গত বছর উপাচার্যের নেতৃত্বে নতুন প্রশাসন যে সংস্কার অভিযানের সূচনা করেছিল, তার ইতিবাচক ফল এখন অনেকাংশেই দৃশ্যমান।‎‎বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের গত এক বছরের সাফল্যগাঁথা সত্যিই অভিনন্দনের দাবিদার। কেন্দ্রীয় লাইব্রেরিতে ‘জব কর্নার’ চালু করে শিক্ষার্থীদের ক্যারিয়ার গঠনে যুগোপযোগী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা সরাসরি তাদের পেশাগত ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল করবে। শিক্ষার্থীদের মাঝে স্মার্ট আইডি কার্ড বিতরণের মাধ্যমে ডিজিটালাইজেশনের দিকে আরেক ধাপ এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়। আন্তর্জাতিকীকরণের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে চীনের সাউথইস্ট ফরেস্ট্রি ইউনিভার্সিটি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ইসলামিক থটের মতো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে। নতুন অনুষদ ‘ইসলামিক ও তুলনামূলক ধর্মতত্ত্ব’ চালু করে ইসলামী শিক্ষার সাথে আধুনিক শিক্ষার সমন্বয়ের মূল লক্ষ্যকে আরও এগিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়াও শিক্ষার্থীদের সার্বিক উন্নয়নে প্রশাসন বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে যেমন হলে, হলে পানির ফিল্টার স্থাপন, আধুনিক রিডিং রুমের ব্যবস্থা, খাবার মান পর্যবেক্ষন ইত্যাদি এবং সম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে শিক্ষাদানের পরিবেশ উন্নয়নের কাজ ও দৃশ্যমান। ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানেও বিশ্ববিদ্যালয়ের সাফল্য ঈর্ষণীয়। ভলিবল, ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টনসহ বিভিন্ন আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় প্রতিযোগিতায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে চলেছে।

তবে, এ অর্জন, এ সফল্যগাঁথা স্বাভাবিক শিক্ষার্থীদের দৈনন্দিন সংকট পূরণে কতটুকু পূর্ণতা পেয়েছে এবং কী বলছেন শিক্ষার্থীরা? ‎‎বিশ্ববিদ্যালয়ের ‎আইন বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী সাজ্জাদুজ জাওয়াদ আকন্দ বলেন, “প্রত্যন্ত অঞ্চলের ইবি সৌন্দর্যে মনোহর হলেও তড়িৎ আধুনিকতার দিক দিয়ে অনেকটায় পশ্চাৎ স্বর, বর্তমান প্রশাসন হরেক রকম অর্জন দেখালেও দ্রুত আবাসন, সেশনজট নিরসন, প্রশাসনিক ও ফি পরিশোধ প্রক্রিয়ার দ্রুত ডিজিটালাইজেশন এখন সার্বজনীন দাবি। এছাড়াও সম্প্রতি ইবিতে শিক্ষার্থীদের জন্য ই-পেমেন্ট সেবা চালুর খবর অনেকটা স্বস্তিদায়ক তবে নিউজে ইদানীং ইবির নানা অব্যবস্থাপনার চিত্রও দৃশ্যমান যা এ বিদ্যাপীঠের ভাবমূর্তি অনেকাংশে ক্ষুণ্ন করে এর মধ্যে অন্যতম বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় লোডশেডিং হলেই মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ইন্টারনেট অচল হওয়া, ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের অবাধ বিচরণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার ঝুঁকি এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের অর্থসংকটে নির্মাণাধীন হলের কাজ থমকে যাওয়ায় ভোগান্তিতে রয়েছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে, বিগত প্রশাসনের নিয়োগ সংক্রান্ত দুর্নীতি তদন্তে অসহযোগিতা ও ফাইল গায়েবের মতো গুরুতর অভিযোগের কথা শুনা গেছে। যা মনে হচ্ছে তদন্ত প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করছে এবং বর্তমান প্রশাসনের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।”

বাংলা বিভাগের ২য় বর্ষের শিক্ষার্থী আহসানুল ধ্রুব বলছেন, আমরা এ প্রসাশনের কাছে আাশাবাদী, তবে, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন বিষয়ে গভীর ও উচ্চ মাত্রার পড়াশোনাই আমাদের প্রধান কাজ যা সরাসরি নির্ভরশীল আমাদের সুস্বাস্থ্যের উপর। স্বাস্থ্য ঠিক না থাকলে পড়াশোনা, খেলাধুলা বা আনুষাঙ্গিক কাজ কোনটাতেই যথাযথ মনোনিবেশ সম্ভব না। সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজন পুষ্টিকর খাদ্য, কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে আবাসিক হলগুলোর খাবারের মান উন্নয়নে কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। নিম্নমানের খাবারের কারণে শিক্ষার্থীদের নিজেই রান্না করতে হয়, এতে সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি হিটার সহ বিভিন্ন ইলেকট্রিক যন্ত্র ব্যবহারের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যুৎ ব্যয়ও বাড়ছে সাথে শিক্ষার্থীদের মৌলিক চাহিদা উপেক্ষিত হচ্ছে। এই সমস্যা সমাধানে কেন্দ্রীয়ভাবে রান্না করে সব হলে সরবরাহের একটা উদ্যোগ নিলে সুফল পাওয়া যেতে পারে, এতে মানোন্নয়ন, তদারকি, নজরদারি ও ব্যবস্থাপনার জটিলতা অনেকটায় নিরসন ও হবে।”

‎‎এ বিশ্ববিদ্যালয় কেবল একটি সার্টিফিকেট বা ডিগ্রি অর্জনের জায়গা নয়, এটি প্রায় ১৯ হাজার শিক্ষার্থীর স্বপ্ন, ভবিষ্যৎ ও সম্ভাবনার কারিগরিক কারখানা। ৪৭ বছরের এই দীর্ঘ পথচলায় ইবি অনেক প্রতিবন্ধকতা, সংকট ও পরিবর্তনের সাক্ষী হয়েছে। প্রতিটি সংকট, প্রতিটি পরিবর্তনই একটি করে নতুন দর্শন দিয়েছে, উন্মোচন করেছে নতুন সম্ভাবনার দ্বার। তাই নতুন বর্ষে প্রত্যাশা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় তার সকল আশু সংকট নিরসন করে ঐতিহ্য, স্বকীয়তা ও আধুনিকতার সমন্বয়ে হয়ে উঠবে শিক্ষার্থী বান্ধব প্রফুল্যতর ও সজীব শিক্ষা নীতি সমৃদ্ধ আধুনিক, আন্তর্জাতিক মান সম্পূর্ন একটি উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের শ্রেষ্ঠ উচ্চশিক্ষার বাতিঘর।‎‎‎

‎লেখক: শিক্ষার্থী, আইন বিভাগ

‎ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ

Continue Reading

Trending