Connect with us

সাহিত্য ও গল্প

‘অসমাপ্ত কথা’

Published

on

মো.সাকিব মল্লিক

নীলা এবং রাতুল। ওরা দুই বছরের ছোট-বড়। মানে নীলা রাতুলের চেয়ে দুই বছরের ছোট এবং রাতুল নীলার চেয়ে দুই বছরের বড়। নীলা উচ্চতায় মাঝারি। গত নভেম্বরে তার বয়স পনেরো পেরিয়ে ষোলোতে পড়লো। কানে সবসময় সে দুল পরে। তার চোখের মনি সাধারণের তুলনায় একটু বেশি কালো, গায়ের রং ফর্সা, চুল হালকা কোঁকড়ানো। রাতুল আবার অতটা ফর্সা নয়, তবে অনেকটা লম্বা। আর দশটা ছেলের মতোই রাতুল।তবে অন্যদের থেকে রাতুল অনেক ভালো শ্রোতা। কেউ যখন কিছু বলে তখন রাতুল সেটা মন দিয়ে শুনতে পছন্দ করে এবং অল্পতে রেগে যাওয়ার স্বভাব তার নেই। এটাকে অন্যরা গুণ ভাবে কি না সে জানে না, তবে রাতুল ভাবে এটাই তার বড় গুণ।

রাতুল ও নীলা দুজন দুজনকে চেনে ছোটবেলা থেকেই। তারা ছোট থেকেই একই পাড়ায় থাকে। তাই সম্পর্কে তারা পাড়ার চাচতো ভাইবোনই বলা চলে। নীলা বয়সে ছোট হওয়ায় কখনো রাতুলের সাথে নিজে থেকে কথা বলার সাহস পেত না। রাতুল মাধ্যমিক পাস করে স্থানীয় একটা কলেজে উচ্চমাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষে পড়ালেখা করছে৷ ছাত্র হিসেবে খুব একটা খারাপও না, আবার খুব একটা ভালোও না।

কৃষক বাবার ছেলে, বাবাকে সে অনেক ভালোবাসে।বাবার কাজে সে সবসময় সাহায্য করে। বাবাও ছেলের লেখাপড়ার খরচ দিতে কখনো পিছিয়ে যান না। এভাবেই রাতুল চালিয়ে যাচ্ছে তার পড়ালেখা। তার সাথের অনেকেই পড়ালেখা ছেড়ে এখন কাজ করে সংসারে অবদান রাখার চেষ্টা করছে। অনেকে তো মনেই করেন গ্রামে থেকে লেখাপড়া শিখলেও পরে ভালো কিছু করা সম্ভব না। রাতুল এসব কথায় বিশ্বাস করে না। সে তার পড়ালেখা চালিয়ে যাচ্ছে নিজ ইচ্ছাতেই৷

নীলার বাবা একজন সরকারি কর্মকর্তা। মোটা বেতন পান। নিয়মিত তাকে শহরে যাওয়া-আসা করতে হয়। শহর দুই ঘন্টার পথ৷ নীলা সামনের বার এসএসসি দিবে। পড়ালেখায় সে বেশ ভালো। স্কুলেও সে যায় নিয়মিত। স্কুলে যাওয়ার সময় রাতুলের সাথে তার প্রতিদিনই দেখা হয়। রাতুল ওই রাস্তা দিয়েই চলাফেরা করে। তবে কখনো তাদের মধ্যে কথা হয়না। অবশ্য কথা হবেই বা কেন, সবাই তার নিজ কাজে ব্যস্ত। নীলা যায় স্কুলে, অন্যদিকে রাতুল যায় কলেজে বা তার বাবার সাথে দেখা করতে; স্কুলের সামনের মাঠে।

একদিন রাতুল কলেজের উদ্দেশ্যে বার হলো। অবশ্য এটা তার প্রতিদিনের কাজেরই অংশ। রাস্তা বেশ ফাঁকা। কিছুটা সামনে এসে একটা মোড়৷ ওই মোড়ে চায়ের দোকান। ওখানে স্থানীয় ছেলেরা-বড়রা আড্ডা দেয়। কী যেন বাড়ি ভুলে রেখে আসায় রাতুল ওই দিন কলেজ থেকে বাড়ির দিকে ফিরে আসছিল। সে বেশ ব্যস্ত। কারণ তাকে আবার কলেজে ফিরতে হবে। হঠাৎ সে রাস্তায় একটা জটলা মতো দেখলো। কৌতুহলী হয়ে সে কাছে যেতেই দেখে নীলা চায়ের দোকানের ছেলেদের সাথে চেচিয়ে কি যেন বলছে।

রাতুল এগিয়ে গেলো। নীলা রাতুলকে বললো আমি স্কুলে যাওয়ার সময় এরা আমাকে দেখে আজেবাজে কথা বলছে এবং কয়েকদিন থেকেই এমন করছে। আজ সে বিরক্ত হয়ে এদের যেই বলতে যাচ্ছে এমন যেন না করে, তখন ছেলেগুলো উল্টা তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। রাতুল বেশ ঠান্ডা ও ভদ্র স্বভাবের ছেলে। সে মেয়েদের অনেক সম্মান করে। সে লক্ষ করে দেখলো নীলাকে বিরক্ত করা ছেলেগুলো তার কলেজের। সবাই ফার্স্ট ইয়ারের।

রাতুল তাদের বললো তোমরা কলেজে না যেয়ে রাস্তায় মেয়েদের সাথে এমন করো কেন?  আরও অনেক কথাই রাতুল ওদের বুঝিয়ে বললো। তবে কলেজের বড়ভাই হওয়ায় ওই ছেলেগুলো তখন রাতুলকে কোনো কিছু বলে নাই এটা রাতুল ওদের হাবভাব দেখে ঠিকই বুঝে গেল।

ছেলেগুলো সরে গেল সেখান থেকে ঠিকই কিন্তু রাতুল বুঝলো নীলাকে তারা একা পেলে পরে কিছু বলতে পারে। রাতুল ভাবলো ছেলেগুলোকে পরে ডেকে বিস্তারিত বুঝিয়ে বলবে। সেদিন রাতুল নীলাকে বাড়ি পর্যন্ত এগিয়ে দেয়। রাস্তায় রাতুল ও নীলা কেউ কারো সাথে কোনো কথা বলে নি। বাড়ির সামনে এসে নীলা শুধু বললো আপনি আমাকে কয়েকটা দিন স্কুলে যাওয়া ও আসার সময় সাথে করে পৌঁছে দেবেন। রাতুল ভাবলো ওই ছেলেগুলো আবার কোনো ঝামেলা করতে পারে। তখন সে মুখে কিছু না বলে, নীলার কথায় সম্মতিসূচক মাথা নাড়লো।

নীলা বললো কাউকে যেন রাস্তায় ঘটে যাওয়া আজকের বিষয়টি না বলে রাতুল। নীলা সেদিন ক্লাস করে নি, রাস্তার ওইখান থেকে বাড়ি চলে আসছে। বাড়িতে মা শুনলে বলেছে আজ ক্লাস হবে না, তাই চলে এসেছি। পরের দিন থেকে রাতুল নীলাকে স্কুলে এগিয়ে দেয় এবং আসার সময় বাড়ির গেট পর্যন্ত পৌঁছে দেয়৷ এভাবে রাতুল ও নীলা রাস্তায় অল্প অল্প করে দুজন দুজনের সাথে কথা বলা শুরু করে। দুজনেই বেশ লাজুক প্রকৃতির। দুজনেই চায় একে অন্যের সাথে কথা বলতে কিন্তু কোন বিষয় দিয়ে কথা বলা শুরু করবে তা খুঁজে পায় না।

তাই বিভিন্ন অপ্রাসঙ্গিক কথা দিয়েই তাদের প্রতিদিনের কথা শুরু হতো। আস্তে আস্তে দিনে দিনে দুজনের মাঝের জড়তা দূর হয়ে যেতে থাকে। একদিন নীলা রাতুলকে বলে আপনিও তো ওইসব ছেলেদের মতো আমাকে বাজে কথা বলতে পারতেন, কিন্তু আপনি তো ওদের মতো না। কেন? নীলার এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দেয় না রাতুল। নীলা এভাবে প্রায় প্রত্যেকদিনই নানা রকম প্রশ্ন করে রাতুলকে। রাতুল সব মনোযোগ দিয়ে শোনে। মাঝে মাঝে উত্তর দেয়, মাঝে মাঝে দেয় না।

এতো এতো কথা বলার পরও যে রাতুল বিরক্ত হয় না, এ বিষয়টা নীলার খুবই ভালো লাগে। কয়েকদিন পরই নীলার এসএসসি পরীক্ষা শুরু হবে, রাতুল নীলাকে ভালোভাবে পরীক্ষা দেওয়ার কথা বলে। নীলা বলে আমি ভালোভাবে পরীক্ষা না দিলে আপনার কী? কথাটা রাতুলের মনে কষ্ট দেয়। রাতুল নিজেও বুঝতে পারে না নীলার এই কথায় তার কেন মনের ভিতর খারাপ লাগলো। নীলার পরীক্ষা শেষ হয়ে রেজাল্ট বের হওয়ার তারিখ ঠিক হয়ে যায়। পরীক্ষার সময়ও রাতুলের সাথে রাস্তায় নীলার দেখা হতো। তবে তখন খুব বেশি একটা কথা হতো না।

রেজাল্ট দেওয়ার দুইদিন আগে নীলা একদিন হঠাৎ রাস্তায় রাতুলকে বলে কাল আপনি বিকালে একবার আমার সাথে দেখা করতে পারবেন? রাতুল প্রথমে বলে আমাদের তো রাস্তায় নিয়মিতই দেখা হয়, কথাও হয়; তাহলে আবার বিকালে কেন?  কিন্তু নীলার জোরাজোরিতে রাতুল রাজি হয়। কাল নীলা ডেকেছে, কেন ডাকলো, কিছু কি বলবে আমাকে? বললেও কী বলবে?  এসব নানা রকম ভাবতে ভাবতে সেই রাতে রাতুলের ঘুমাতে দেরি হয়ে গেল।

রাতুলের মনে হচ্ছিল নীলাকে কেন জানি সে ভালোবাসে ফেলেছে এবং কাল দেখা হলে তখন সে নীলাকে বলবে কথাটা৷ ঘুমের মধ্যেও রাতুল নীলাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখলো। ঘুম ভাঙলো সকাল নয়টায়। চায়ের দোকানে যেয়ে চায়ে চুমুক দিতেই সে শুনতে পেল সবাই কী নিয়ে যেন কথা বলছে। খেয়াল করে শুনে দেখলো একজন নীলাদের গ্রাম থেকে আজ সকালে শহরে চলে যাওয়ার কথা বলছে। তারা বলাবলি করছে নীলার বাবা নীলাকে শহরের ভালো কলেজে পড়াবে বলে অনেক আগে থেকেই গ্রাম থেকে চলে যাওয়ার চিন্তা করে রেখেছিল। রাতুল ভাবলো নীলা কী জানতো যে তারা চলে যাবে?

আর যদি জানতোই তাহলে তাকে আগে কেন বলেনি। না কি দেখা করতে চেয়েছিল এইটা বলার জন্যই। একথাতো সেদিন রাস্তায় বললেই পারতো। তাহলে কি নীলা আমাকে ভালোবাসতো; একথা বলার জন্য ডেকেছিল। কী বলতে চেয়েছিল নীলা?  

এখন কি নীলার আমার কথা মনে পড়ছে, ভাবতে ভাবতে রাতুলের চোখের জল মুখ বেয়ে পড়তে লাগলো।

লেখা: মো. সাকিব মল্লিক, শিক্ষার্থী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

সর্বশেষ

যুক্তরাষ্ট্রে ফুল-ফান্ডেড পিএইচডি’র সুযোগ পেলেন বেরোবি শিক্ষার্থী ইমরান

Published

on

By

বেরোবি প্রতিনিধি

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের ২০১৫–১৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. ইমরান যুক্তরাষ্ট্রের University of Wyoming-এ অর্থনীতি (Economics) বিষয়ে ফুল-ফান্ডেড পিএইচডি করার সুযোগ অর্জন করেছেন। সেখানে তিনি অর্থনীতি বিভাগের রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাঁর গবেষণার আগ্রহের ক্ষেত্র Climate Finance, Resource Economics এবং Applied Econometrics। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানে কাজ করে নীতিনির্ধারণ ও টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তিনি।

নিজের এই দীর্ঘ যাত্রার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ইমরান বলেন, কম সিজিপিএ থাকায় উচ্চশিক্ষার অনেক সুযোগ তাঁর জন্য সীমিত হয়ে পড়েছিল। তবে ধারাবাহিক গবেষণার অভিজ্ঞতা ও শিক্ষকতা তাঁর এই অর্জনের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।

তিনি জানান, ২০১৮ সালে বন্ধু ফিরোজ মিয়ার সঙ্গে অধ্যাপক ড. মো. নূর আলম সিদ্দিকের তত্ত্বাবধানে গবেষণার সঙ্গে যুক্ত হন। শুরু থেকেই অধ্যাপক সিদ্দিকী তাঁদের গবেষণাপত্র পড়তে, নোট নিতে এবং গবেষণার ভিত্তি গড়ে তুলতে উৎসাহিত করেন। গবেষণার বিভিন্ন জটিলতা ও চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় তিনি সবসময় দিকনির্দেশনা দিয়েছেন এবং হাতে-কলমে গবেষণার কৌশল শিখিয়েছেন।

ইমরান বলেন, একসময় তিনি উচ্চশিক্ষার স্বপ্নও দেখতেন না। কিন্তু অধ্যাপক সিদ্দিকীর অনুপ্রেরণা, দিকনির্দেশনা ও সার্বক্ষণিক সহযোগিতা তাঁকে নতুনভাবে ভাবতে শিখিয়েছে। এ সাফল্যের জন্য তিনি তাঁর বাবা-মা, বোন, সহধর্মিণী, বন্ধু ফিরোজ মিয়া এবং পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি আরও জানান, তাঁদের যৌথভাবে লেখা একাধিক গবেষণা নিবন্ধ SSCI, SCIE ও Scopus-সূচিভুক্ত আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। নিবন্ধগুলো Elsevier, Sage, Emerald এবং Springer Nature-এর মতো বিশ্বখ্যাত প্রকাশনা সংস্থার জার্নালে প্রকাশিত হওয়ায় পিএইচডি আবেদনের ক্ষেত্রে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক সম্মেলনে গবেষণাপত্র উপস্থাপনের মাধ্যমে তাঁরা ‘Best Paper Award’ অর্জন করেন। যাত্রার শেষ পর্যায়ে Finland-এর LAB University of Applied Sciences-এর অধ্যাপক ড. সজল কবিরাজও তাঁকে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা ও সহযোগিতা প্রদান করেন।

পিএইচডিতে ভর্তির অভিজ্ঞতা সম্পর্কে ইমরান বলেন, সামাজিক বিজ্ঞান ও ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ে ফুল-ফান্ডেড পিএইচডি অর্জন তুলনামূলকভাবে কঠিন। ভালো সিজিপিএ গুরুত্বপূর্ণ হলেও গবেষণার অভিজ্ঞতা, মানসম্মত গবেষণা প্রকাশনা এবং শক্তিশালী সুপারিশপত্র (Recommendation Letter) একজন আবেদনকারীকে অন্যদের তুলনায় এগিয়ে রাখে। তাই তিনি শিক্ষার্থীদের স্নাতক পর্যায় থেকেই গবেষণায় সম্পৃক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন।

ইমনের এই সাফল্যে গর্ব প্রকাশ করেছেন ফিন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের শিক্ষক ও তাঁর গবেষণা-তত্ত্বাবধায়ক অধ্যাপক ড. মো. নূর আলম সিদ্দিক। তিনি বলেন, ইমরান ও ফিরোজ নিয়মিত গবেষণায় সময় দিয়েছেন এবং নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেছেন। তাঁদের এই অর্জন বিভাগের জন্য অত্যন্ত আনন্দের এবং এটি ভবিষ্যৎ শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করবে।

তিনি আরও বলেন, বিভাগের গবেষণামুখী পরিবেশই শিক্ষার্থীদের এমন সাফল্যের ভিত্তি তৈরি করেছে। বিভাগীয় প্রধান ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন হিসেবে তিনি ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের জন্য একটি গবেষণাবান্ধব ও একাডেমিক পরিবেশ গড়ে তুলতে কাজ করে যাবেন।

Continue Reading

top3

তরমুজের খোসা-বীজেও মিলবে উপকার

Published

on

By

গ্রীষ্মের কাঠফাটা গরমে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে এবং তৃষ্ণা মেটাতে তরমুজের বিকল্প নেই। যদিও আমরা সাধারণত সুস্বাদু এ ফলটির শুধু লাল অংশ খেয়ে থাকি। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজের খোসার ভেতরের সাদা অংশ এবং বীজও শরীরের জন্য অনেক উপকারী।

তরমুজ প্রায় ৯২ শতাংশ পানি দিয়ে তৈরি, যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে।

এর ভেতরে থাকা বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান শরীরের নানা কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
খোসার সাদা অংশের উপকারিতা

তরমুজের লাল অংশের পরের সাদা অংশে রয়েছে সিট্রুলিন নামের উপাদান। এটি শরীরে রক্ত চলাচল ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং এনার্জি বাড়ায়। ব্যায়ামের পর ক্লান্তি কমাতেও এটি সহায়ক হতে পারে।

এতে থাকা ফাইবার হজম শক্তি বাড়ায় এবং কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে সাহায্য করে। ভিটামিন সি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, আর ভিটামিন এ ও সি ত্বক ভালো রাখতে সহায়তা করে। এ ছাড়া এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, কোলেস্টেরল ও শর্করা কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।

ত্বক, কিডনি ও শরীরের জন্য উপকারী

তরমুজ শরীর থেকে অতিরিক্ত পানি ও বর্জ্য বের করতে সাহায্য করে, যা কিডনির জন্য ভালো।

এতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বক সতেজ রাখতে এবং বয়সের ছাপ কমাতে সহায়তা করে। এ ছাড়া লাইকোপেন ও অন্যান্য উপাদান শরীরে জ্বালাপোড়া কমাতে এবং শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।

ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক

তরমুজের খোসায় ক্যালরি খুব কম থাকে। তাই এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হতে পারে। নিয়মিত খেলে বিপাকক্রিয়াও উন্নত হয়।

বীজের পুষ্টিগুন

তরমুজের বীজেও রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। এতে ফাইবার, ম্যাগনেসিয়াম ও ফোলেট থাকে, যা হার্ট ভালো রাখতে সাহায্য করে এবং খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে ভূমিকা রাখে।

তরমুজের সাদা অংশ ছোট টুকরা করে কেটে কাঁচা সালাদ হিসেবে খাওয়া যায়। লেবু ও বিট লবণ মিশিয়ে খেলে স্বাদ আরো ভালো হয়। এটি ডাল বা তরকারির সঙ্গে রান্না করেও খাওয়া যায়। কেউ আবার ভাজি করেও খান। তবে পুষ্টিমান অটুট রাখতে কাঁচা খাওয়াই উত্তম।

এ ক্ষেত্রে হালকা লেবু, বিট লবণ মিশিয়ে সালাদ বানাতে পারেন। আবার চাইলে বরফকুচি, পুদিনাপাতা ও লেবুর রসসহযোগে ব্লেন্ড করে জুস বানিয়েও খেতে পারেন। এ ছাড়া সাধারণ খাওয়ারযোগ্য পানিতে বরফের টুকরা, তরমুজের খোসার টুকরা, পুদিনাপাতা, লেবু ইত্যাদি সারারাত ভিজিয়ে রেখে পরদিন ডিটক্স ওয়াটার বানিয়ে পান করুন এই পানি।

বীজ শুকিয়ে বা হালকা ভেজে খাওয়া যায়, যা স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকস হিসেবে কাজ করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, তরমুজ শুধু একটি ফল নয়, এর প্রতিটি অংশই শরীরের জন্য প্রাকৃতিক পুষ্টির উৎস।

Continue Reading

জাতীয়

ভিন্ন আবহে শুরু ভাষা আন্দোলনের মাস, নেই বইমেলার আমেজ

Published

on

By

শুরু হয়েছে বাঙালির ভাষা আন্দোলনের মাস ফেব্রুয়ারি। তবে এবার ফেব্রুয়ারি মাসের শুরুটা ব্যতিক্রম। দীর্ঘদিনের ধারাবাহিকতা ভেঙে ভাষার মাসের প্রথম দিনে শুরু হচ্ছে না “অমর একুশে বইমেলা”। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে এবার নির্ধারিত সময়ে শুরু হচ্ছে না বইমেলা।

প্রতিবছর ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন থেকেই ভাষা আন্দোলনের স্মরণে নানা কর্মসূচির পাশাপাশি বইমেলার আয়োজন বাঙালির সাংস্কৃতিক জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা আর বইমেলার মিলিত আবহেই সাধারণত শুরু হয় ভাষার মাস। এবার সেই পরিচিত চিত্র অনুপস্থিত।

ফেব্রুয়ারি বাঙালির কাছে শুধুই একটি মাস নয়। এটি আত্মত্যাগ, প্রতিবাদ ও ভাষাভিত্তিক পরিচয় অর্জনের মাস। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ঢাকার রাজপথে জীবন উৎসর্গের মধ্য দিয়ে বাঙালির জাতীয় জীবনে প্রতিষ্ঠিত হয় মাতৃভাষার অধিকার। যারা সেদিন শহীদ হয়েছিলেন, তাদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই পুরো মাসজুড়ে নানা কর্মসূচি পালিত হয়।

ভাষা আন্দোলনের ঐতিহাসিক তাৎপর্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পায় ১৯৯৯ সালে। ওই বছর ইউনেস্কো ২১ ফেব্রুয়ারিকে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করে। এরপর থেকে একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু বাংলাদেশ নয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার প্রতীক হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

ভাষা আন্দোলনের সূত্রপাত ঘটে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পরপরই। ১৯৪৮ সালের ২১ মার্চ ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে এক জনসভায় পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল, গণপরিষদের সভাপতি ও মুসলিম লিগের সভাপতি মোহাম্মদ আলি জিন্নাহ ঘোষণা দেন, ‘পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হবে উর্দু, অন্য কোনও ভাষা নয়।’ একই বক্তব্য তিনি কার্জন হলেও দেন। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ছাত্র ‘না’ ‘না’ বলে প্রতিবাদ জানান। পরে একদল ছাত্র জিন্নাহর কাছে স্মারকলিপি দিয়ে বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানান। এর মধ্য দিয়েই রাষ্ট্রভাষা আন্দোলনের সূচনা ঘটে।

এর আগে ১৯৪৭ সালের সেপ্টেম্বরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্র ও অধ্যাপক গড়ে তোলেন তমদ্দুন মজলিস। রাষ্ট্রভাষা প্রশ্নে সভা-সমাবেশ ও আলোচনার মাধ্যমে সংগঠনটি আন্দোলনকে সংগঠিত করে তোলে। পাশাপাশি গঠিত হয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ, যা আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করে।

১৯৪৮ সালের ২ মার্চ তমদ্দুন মজলিস, গণআজাদী লীগ, পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগসহ বিভিন্ন সংগঠনের উদ্যোগে ফজলুল হক হলে সর্বদলীয় রাষ্ট্রভাষা সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ওই দিনই ১১ মার্চ সারা পূর্ব বাংলায় সাধারণ ধর্মঘট পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ধর্মঘট চলাকালে শেখ মুজিবুর রহমান, শামসুল হক, অলি আহাদসহ ৬৯ জনকে গ্রেফতার করা হলে ঢাকায় ১৩ থেকে ১৫ মার্চ ধর্মঘট পালিত হয়।

ভাষা আন্দোলনের ধারায় নতুন উত্তেজনা তৈরি হয় ১৯৪৮ সালের শেষ দিকে। করাচিতে অনুষ্ঠিত নিখিল পাকিস্তান শিক্ষা সম্মেলনে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ফজলুর রহমান বাংলা ভাষা আরবি হরফে লেখার প্রস্তাব দেন। পরের বছর ১২ ফেব্রুয়ারি পেশোয়ারে অনুষ্ঠিত শিক্ষা উপদেষ্টা বোর্ডের সভায় তিনি বাংলা হরফ বাতিল করে আরবি হরফ প্রবর্তনের ঘোষণা দেন। এর প্রতিবাদে ১৯৪৯ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্রছাত্রীরা প্রতিবাদ সভা করেন এবং বাংলা হরফ রক্ষার আন্দোলন জোরদার করেন।

ক্রমেই বাংলাভাষার সমমর্যাদার দাবিতে পূর্ব বাংলায় আন্দোলন দানা বাঁধে। আন্দোলন দমনে সরকার ঢাকায় ১৪৪ ধারা জারি করে মিছিল ও সমাবেশ নিষিদ্ধ করে।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি ১৪৪ ধারা অমান্য করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ এলাকায় পুলিশের গুলিতে সালাম, জব্বার, রফিক, বরকত, শফিকসহ আরও অনেকে শহীদ হন।

রক্তের বিনিময়ে অর্জিত ভাষার অধিকার বাঙালিকে আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে নতুন পথ দেখায়। সেই পথ ধরেই এগিয়ে যায় স্বাধিকার আন্দোলন, যার পরিণতিতে ১৯৭১ সালে নয় মাসের মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে জন্ম নেয় স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ।

i

Continue Reading

Trending