Connect with us

জাতীয়

কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক যেন মরণফাঁদ, ঝরছে শিক্ষার্থীদের জীবন

Published

on

ইবি প্রতিনিধি:

দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে উত্তর বঙ্গের একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক। এই মহাসড়কের মাঝবিন্দুতে অবস্থান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ কিলোমিটার দূরত্বে কুষ্টিয়া এবং ২২ কিলো. দূরত্বে ঝিনাইদহ শহর। অধিকাংশ শিক্ষার্থী দুই শহরে নিয়মিত যাতায়াত করে থাকেন।

জানা যায়, সড়কটি দিয়ে প্রতি মিনিটে ৪০টি ভারী যানবাহন চলাচল করে থাকেন। মহাসড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক দিয়ে যানচলাচল অসম্ভাব হয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে আস্তর উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় খাদ। কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর যথাসময়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় এখন এটির বেহাল দশা এবং প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার দূরপাল্লার যাত্রী-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বিশেষ করে লক্ষ্মীপুর-মধুপুর দীর্ঘ ৫ কিলোমিটারজুড়ে সড়কটি প্রায় পর্যুদস্ত। যাতায়াতের সময় গাড়ির ঝাঁকুনিতে অতিষ্ঠ হতে হয় শিক্ষার্থী, রোগী-সহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। এতে যেমন সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এবং একই সাথে রয়েছে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি। গত কয়েক মাসে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন এবং পাড়ি দিতে হয়েছে পরপারে। দ্রুত সংস্কার চান শিক্ষার্থীরা। বারাংবার আলোচনা করার পরেও যথোপযুক্ত বাস্তবায়ন দেখছেন না ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। নিরাপদ সড়কের দাবিতে জোড়ালো আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এদিকে আজ সোমবার (১৬ জুন) পবিত্র ঈদুল আযহা’র ছুটি কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার পথে কুষ্টিয়া- ঝিনাইদহ মহাসড়কে বাস-ট্রাক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম। একই বাসে আব্দুর রাজ্জাক ও রনি নামে দুই ইবি শিক্ষার্থী-সহ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন।

চলতি বছরে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এ সড়কে ইবি’র একটি শিক্ষার্থীবাহী বাস ধানক্ষেতে উল্টে পড়ে যায়। এতে অন্তত ২০ শিক্ষার্থী আহত হন।

এছাড়া ক্যাম্পাস থেকে সিএনজি যোগে বাড়িতে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মনির হোসেন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে কুষ্টিয়া শহরে ট্রাকের সাথে সিএনজির সংঘর্ষে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে পরে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনিরের নিহতের ঘটনায় নিরাপদ সড়কের দাবি-সহ ৫ দফা দাবিতে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নামেন ইবি শিক্ষার্থীরা। এতে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ পর্যন্ত মহাসড়ক সংস্করণ-সহ আরও বেশ কিছু দাবি জানানো হয়। তবে এ সকল দাবির তেমন কোন কার্যকর বাস্তবায়ন ঘটেনি। যার ফলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ববৃন্দ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসলিমা আক্তার জানান, ‘ইবির যাতায়াত ব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী অব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক অমনোযোগের ফলে সৃষ্ট প্রাণঘাতী বিপর্যয় গভীরভাবে উদ্বেগজনক। শিক্ষার্থীদের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে প্রশাসনিক আন্তরিকতা ও কার্যকর উদ্যোগ এখন অপরিহার্য। বিগত বছর মনিরের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীদের ন্যায়সঙ্গত ৫ দফা দাবি সত্ত্বেও প্রশাসনিক অকার্যকারিতা ও প্রতিশ্রুতির প্রহসনে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটেনি। প্রশাসনকে অবিলম্বে জবাবদিহিমূলক কাঠামোর আওতায় এনে পূর্বঘোষিত দাবিগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া মাহমুদ মীম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যতবারই নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন হয়েছে, কোনো প্রকার দাবির বাস্তবায়ন আমাদের নজরে পড়েনি। ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া রাস্তা সংস্করণ-সহ বিশ্ববিদ্যালয় মেইনগেটের সামনে স্পিডব্রেকার নতুনভাবে সংযোজন করতে হবে। কুষ্টিয়া থেকে ঝিনাইদহ পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট গতি নির্ধারণ করে সেই গতির সীমা অতিক্রমকারী যানবাহনকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। রাস্তা সংস্করণের দাবি বাস্তবায়ন না হলে সকল সাধারণ শিক্ষার্থী আবারও নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।’

এ বিষয়ে ইবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘ক্যাম্পাস খোলার পর উপাচার্য বরাবর নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ, মহাসড়ক সংস্করণ-সহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্মারকলিপি প্রদান ও দ্রুত সময়ের মধ্যে এগুলো বাস্তবায়নের দাবি জানাবো। তবে যদি এর ব্যত্যয় ঘটে তাহলে প্রাথমিক পর্যায় মানববন্ধন কর্মসূচি ও পরবর্তীতে সড়ক অবরোধের মত কঠোর কর্মসূচি পালন করবো।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সমন্বয়ক এস. এম. সুইট বলেন, ‘আমাদের কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের বেহাল দশা এবং লোকাল বাস ও পরিবহনের অনিয়ন্ত্রিত গতির কারণে আর কত প্রাণ ঝড়লে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ প্রশাসনের টনক নড়বে! আমরা এর আগে গত প্রশাসনের সময় নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করেছি এবং সর্বশেষ কয়েক মাস আগেও মহাসড়ক অবরোধ করে আমাদের দাবিগুলো জানিয়ে এসেছি। এরপরও প্রশাসন কোন কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারিনি। অনতিলম্বে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক সংস্কার না হলে আমরা সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলবো।’

ইবি শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ছাত্রশিবির সবসময় শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে সচেতন। সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু আমাদের প্রচণ্ডভাবে মর্মাহত করেছে। আমরা বিভিন্ন সময়ে বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছি। আশ্বাস পেলেও এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিনি। বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হলেই আমরা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবো যেন তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সড়ক সংস্কারের জন্য তাগিদ দেয়। পাশাপাশি নিহত শিক্ষার্থীর ক্ষতিপূরণ ও আহতদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে হবে। এই দুর্ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নিতে হবে। যদি অল্প সময়ের মধ্যে সড়ক সংস্কারসহ সড়ক নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হয় আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেব।’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

আগামী সপ্তাহেই দিল্লি যেতে পারেন প্রধানমন্ত্রী, প্রস্তুতি দুই দেশেই

Published

on

By

দিল্লিতে বিমসটেক সম্মেলনের আগে, আগামী সপ্তাহেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফরের প্রস্তুতি চলছে।

ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, প্রধানমন্ত্রীর সফরের সম্ভাব্য তারিখ হতে পারে ২২-২৩ অগাস্ট; অর্থাৎ, ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ঠিক এক সপ্তাহ পর।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি। কর্মকর্তারাও নাম প্রকাশ করে কথা বলতে রাজি হননি।

তবে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোও তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে শুরু করেছে।

এনডিটিভি লিখেছে, সম্ভাব্য এই সফরে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে তারেক রহমানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হতে পারে। এর মধ্যে বাণিজ্য, যোগাযোগ, জ্বালানি, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা গুরুত্ব পেতে পারে।

সব ঠিক থাকলে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এটাই হবে তারেক রহমানের প্রথম ভারত সফর। দুই প্রতিবেশী দেশের সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণের ক্ষেত্রেও এ সফর তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠবে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বরাতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, দুই দিনের এই সফরকে দ্বিপক্ষীয় সফর হিসেবেই পরিকল্পনা করা হচ্ছে।

গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জিতে বিএনপি ক্ষমতায় আসার পরপরই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দ্বিপক্ষীয় সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিল নরেন্দ্র মোদীর সরকার।

এছাড়া সেপ্টেম্বরে নয়া দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস সম্মেলনের আউটরিচ অধিবেশনেও বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী ব্রিকসের আয়োজনে যোগ দেবেন কি না, তা নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের তরফে স্পষ্ট কিছু বলা হয়নি। তবে গত সপ্তাহে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের বক্তব্যে ব্রিকসের চেয়ে দ্বিপক্ষীয় সফরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল।

ঢাকার সরকারি সূত্রগুলো বলছে, প্রতিবেশী দেশটিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রথম সফরের জন্য নীরবে হলেও নিশ্চিতভাবেই প্রস্তুতি এগিয়ে চলছে।

গত সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাই কমিশনার (যিনি ভারতের কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মর্যাদা পান) দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠকটি এই সংক্ষিপ্ত সফরের বিষয়ে মত পরিবর্তনে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেছেন, জাতিসংঘ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতে আগামী ২৭ বা ২৮ অগাস্ট যুক্তরাষ্ট্রে চলে যাবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। তার আগে তিনি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ভারত সফরে যোগ দেবেন।

মোদী-তারেকের সম্ভাব্য প্রথম বৈঠক

এনডিটিভি লিখেছে, নরেন্দ্র মোদী ও তারেক রহমানের সম্ভাব্য বৈঠকের দিকে বিশেষ নজর থাকবে দুই দেশেরই।

তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপির সরকার ক্ষমতায় আসার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক সমীকরণে পরিবর্তন এসেছে। এর ফলে ঢাকার সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারতকেও নতুন করে কৌশল নির্ধারণ করতে হচ্ছে।

২০২৪ সালের অগাস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কে টানাপড়েন তৈরি হয়। বিশেষ করে ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থান এবং তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর অনুরোধ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চাপা উত্তেজনা রয়েছে।

তবে গত নির্বাচনের পর থেকে দিল্লি ও ঢাকা দুই তরফেই সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা দেওয়া হয়েছে বিভিন্নভাবে। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগও কিছুটা বাড়ার ইঙ্গিত মিলেছে।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এপ্রিলে নয়াদিল্লি সফর করে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে ১০ অগাস্ট ঢাকায় ভারতীয় হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন।

সেখানেও বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বার্তা এসেছে; তবে সেজন্য ‘সহায়ক পরিবেশ’ তৈরির ওপর জোর দিয়েছে ঢাকা।

আর এর অংশ হিসেবে ভারতে অবস্থানরত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখার বিষয়টি আলোচনায় আসছে।

শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ ‘বড় ইস্যু’

এনটিভি লিখেছে, ভারত সফরে তারেক রহমানের আলোচনায় শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বাংলাদেশ ছাড়ার পর থেকে শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করছেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার পর তাকে দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য নয়াদিল্লির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুরোধ জানায় ঢাকা।

ভারত বলে আসছে, বাংলাদেশের অনুরোধ তারা ‘যথাযথ আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায়’ পর্যালোচনা করছে। তবে ভারত তাকে ফেরত দেবে, তেমন সম্ভবনা দেখছেন না অধিকাংশ বিশ্লেষক।

গত ৫ অগাস্ট দিল্লির সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা বক্তব্য দেওয়ার পর ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল ঢাকা।

দিল্লির সাউথ এশিয়া ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে সেদিন অডিও কলে যুক্ত হন শেখ হাসিনা। তিনি সেখানে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরও দেন।

রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি আওয়ামী লীগের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি তোলেন এবং বাংলাদেশে ফিরে আসার ইচ্ছার কথা জানান।

মানবতাবিরোধী অপরাধে দাণ্ডিত শেখ হাসিনা যাতে দিল্লিতে বসে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালাতে না পারেন, সেজন্য আগেই ভারত সরকারের সহযোগিতা চেয়েছিল বাংলাদেশ।

অনুষ্ঠানটির আগে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছিলেন, এটি একটি বেসরকারি সংগঠনের আয়োজন এবং এতে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আর ওই অনুষ্ঠানে যে মতামত প্রকাশ করা হতে পারে, ভারত সরকার তাতেও কোনো সমর্থন দিচ্ছে না।

কিন্তু তারপরও দিল্লিতে শেখ হাসিনার সংবাদ সম্মেলন হতে দেওয়ায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানায় বাংলাদেশ সরকার। ‘দণ্ডিত পলাতক আসামিকে’ বক্তৃতার সুযোগ করে দেওয়াকে সার্বভৌমত্বের উপর আঘাত হিসেবে বর্ণনা করা হয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অবস্থানের দিকে ইঙ্গিত করে ওই বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, “দুঃখজনকভাবে, ২০১৩ সালের প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী অভিযুক্ত অপরাধী হাসিনাকে ফেরতের বিষয়ে ভারত সরকারের কাছে বাংলাদেশের বারংবার পাঠানো অনুরোধের কোনো জবাব এখনও মেলেনি।

“এর বিপরীতে, যে কোনো অজুহাতেই হোক, তাকে প্রকাশ্যে মতবিনিময়ের সুযোগ করে দেওয়া আমাদের জনগণের অনুভূতিতে গভীর আঘাত এবং বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ক্ষতিকর।”

এরপর ৭ অগাস্ট নিয়মিত ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল আবারো বলেন, ওই আয়োজনে ভারত সরকারের কোনো ভূমিকা ছিল না এবং সেখানে যা কিছু বলা হয়েছে, তাও সমর্থন করে না সরকার।

ঢাকার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার মধ্যে ১০ অগাস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ হয় নতুন ভারতীয় হাই কমিশনার ত্রিবেদীর।

ওই বৈঠকের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেন, ভারতের কাছে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চাওয়ার পাশাপাশি তাকে রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখতে বলেছে ঢাকা।

পরদিন দিল্লির ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়ালকে এ বিষয়ে আবারো প্রশ্ন করেন সাংবাদিকরা। শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ বিষয়ে জানতে চান একজন সাংবাদিক। শেখ হাসিনার মামলার নথি ঢাকা থেকে পাঠানো হয়েছে কিনা, সে প্রশ্নও তিনি করেন।

জবাবে জয়সওয়াল বলেন, “এ বিষয়ে ভারতের অবস্থান স্পষ্ট। ভারতের নিজস্ব প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়ায় বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আর বিষয়ে নতুন কোনো তথ্য থাকলে জানিয়ে দেওয়া হবে।”

‘সংশ্লিষ্ট সূত্রের’ বরাত দিয়ে এনডিটিভি লিখেছে, তারেক রহমান ও ভারতীয় হাই কমিশনারের বৈঠকেও শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়।

“তবে দুই দেশের সামগ্রিক সম্পর্ক যাতে এই একটি প্রশ্নে আটকে না যায়, সে জন্য বিষয়টি কীভাবে আলোচনায় আনা হবে, তাও উভয় সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।”

পানি, বাণিজ্য ও সীমান্ত

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে শেখ হাসিনা প্রসঙ্গের পাশাপাশি আরও বেশ কিছু অমীমাংসিত সমস্যা রয়েছে। দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য বৈঠকে বাণিজ্য ও ট্রানজিট, জ্বালানি সহযোগিতা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং যোগাযোগব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হতে পারে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দীর্ঘ স্থলসীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক ও পরিবহন যোগাযোগও রয়েছে। ফলে রাজনৈতিক সম্পর্কের উন্নতি হলে এসব ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব থাকবে।

পানি বণ্টনও দুই দেশের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে পারে। ১৯৯৬ সালে সই হওয়া গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির মেয়াদ আসছে ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। সে কারণে স্বাভাবিকভাবেই চুক্তি নবায়নের আলোচনা বৈঠকে গুরুত্ব পাবে।

অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে স্থিতিশীল সম্পর্ক ভারতের জন্যও জরুরি। দুই দেশের অভিন্ন সীমান্তের পাশাপাশি বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এবং ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর সঙ্গে এর যোগাযোগও নয়াদিল্লির কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ

দুই দেশের সাম্প্রতিক তৎপরতায় সম্পর্কের স্বাভাবিকতা ফিরিয়ে আনার আগ্রহের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে বেশ ভালোভাবেই। সেই প্রেক্ষাপটে তারেক রহমানের সম্ভাব্য ভারত সফর বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতের পর হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছিলেন, ভারতের জনগণ ও প্রধানমন্ত্রী মোদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরের অপেক্ষায় আছেন।

“আমাদের ইস্যু হবে, বাংলাদেশের ইস্যু হবে। কিন্তু মানুষের ইস্যু একটাই যে—ভালো সম্পর্ক। আর ভালো সম্পর্ক হলে উইন-উইন সিচুয়েশন। এটা আমাদের ঐতিহাসিকভাবে আছে, এটা তো আপনি বদলাতে পারবেন না। প্রতিবেশী তো বদলাতে পারবেন না, ইতিহাস বদলাতে পারবেন না।”

আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের ওপর জোর দিয়ে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, “আমি সবসময় বলি, আমরা শুধু সীমান্ত ভাগাভাগি করি না, আমরা স্বপ্নও ভাগাভাগি করি। আমরা তো স্বপ্ন ভাগাভাগি করি, তাই তো?

“আমার মনে হচ্ছে, আগামী দিন খুবই ভালো হবে। ইস্যুজটা শর্ট-আউট করতেই হবে, দুদিক থেকে। আমি খুবই আত্মবিশ্বাসী।”

এনটিভি লিখেছে, এই সফরেই দুই দেশের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে—এমন প্রত্যাশা নেই। শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো, পানি বণ্টন, বাণিজ্য এবং সীমান্তসংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে আরও আলোচনা ও সমঝোতার প্রয়োজন হবে।

“তবে তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি বৈঠক ভারতের নেতৃত্বকে বাংলাদেশের অবস্থান জানার একটি রাজনৈতিক সুযোগ করে দিতে পারে। একইভাবে নতুন বাংলাদেশ সরকারের কাছে নিজেদের প্রত্যাশাগুলো তুলে ধরার সুযোগ পাবেন নরেন্দ্র মোদী।”

ভারতের সংবাদমাধ্যমটি লিখেছে, “সফরের তারিখ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী সপ্তাহে তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফর হলে সেটি বাংলাদেশ-ভারতের নতুন রাজনৈতিক সম্পর্কের প্রথম বড় পরীক্ষা হয়ে উঠতে পারে।

“দুই দেশের জন্য এখন মূল লক্ষ্য হতে পারে আবার সরাসরি আলোচনা শুরু করা এবং কঠিন প্রশ্নগুলোকে সামগ্রিক সম্পর্ক ছাপিয়ে যেতে না দেওয়া।

Continue Reading

top1

গ্যাস সংকটে চট্টগ্রামে সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভে সিএনজি চালকরা

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

চট্টগ্রাম নগরে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে সিএনজি অটোরিকশা চালকদের ভোগান্তি চরমে উঠেছে। ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষা করেও গ্যাস না পেয়ে শুক্রবার ভোর থেকে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন কয়েকশ চালক।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) ভোর থেকে নগরের ষোলশহর এলাকায় সড়কে অবস্থান নেন তারা। এতে মুরাদপুর থেকে দুই নম্বর গেইট পর্যন্ত যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

চালকদের অভিযোগ, নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও অনেক চালক গ্যাস পাচ্ছেন না। কবে নাগাদ সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, সে বিষয়েও স্টেশন কর্তৃপক্ষ নির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারছে না।

শুক্রবার সকালে ষোলশহরের ফসিল ফিলিং স্টেশনের সামনে গ্যাসের জন্য কয়েকশ সিএনজি অটোরিকশা দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষার পরও গ্যাস না পেয়ে ক্ষুব্ধ চালকরা একপর্যায়ে সড়কে অবস্থান নিয়ে অবরোধ শুরু করেন।

শাহিদুল নামে এক চালক বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে গাড়ি নিয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি। গ্যাস না পাওয়ায় গাড়ি চালাতে পারছি না। কখন গ্যাস পাব, সেটাও কেউ বলতে পারছে না। এভাবে দিনের পর দিন বসে থাকলে পরিবার নিয়ে কীভাবে চলব?’

আরেক চালক বলেন, দুই দিন ধরে গাড়ি চালাতে পারেননি। এতে কোনো আয় নেই, অথচ গাড়ির জমা ও সংসারের খরচ ঠিকই দিতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও গ্যাস না পাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন তারা।

সরকার হোসেন নামে এক চালক বলেন, চট্টগ্রাম শহরের প্রায় সব ফিলিং স্টেশনেই একই পরিস্থিতি। কোথাও গ্যাস নেই, আবার কোথাও গ্যাসের জন্য দীর্ঘ লাইন। সংকটের সমাধান না হলে রাস্তায় নামা ছাড়া তাদের আর কোনো উপায় নেই।

ষোলশহরের ফসিল ফিলিং স্টেশনের এক কর্মকর্তা জানান, গ্যাসের সরবরাহ না থাকায় সিএনজি অটোরিকশায় গ্যাস দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত তাদেরও কিছু করার নেই।

চালকরা জানান, গ্যাস সংকটে শুধু তাদের আয়-রোজগারই বন্ধ হয়নি, ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরাও। নগরের বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে একই পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় সিএনজি অটোরিকশার সংখ্যা কমে গেছে। ফলে যাত্রীদেরও বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

এদিকে সড়ক অবরোধের কারণে সকাল থেকেই মুরাদপুর, ষোলশহর ও দুই নম্বর গেইট এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে চালকদের সড়ক ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ করছে। তবে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার নিশ্চয়তা না পাওয়া পর্যন্ত সড়ক ছাড়তে রাজি নন বিক্ষুব্ধ চালকরা।

পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহেদুল ইসলাম জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশের টিম রয়েছে। চালকদের সড়ক থেকে সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

Continue Reading

top1

ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচলে আসছে সমন্বিত নীতিমালা

Published

on

By

ডিজিটাল ডেস্ক

সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় চলাচলকারী তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) ব্যবস্থাপনায় সমন্বিত নীতিমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।

একই সঙ্গে এসব যানবাহনের লাইসেন্সিং ও নিবন্ধনের জন্য সমন্বিত কর্তৃপক্ষ নির্ধারণ এবং বিদ্যমান বিধিমালা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ই-রিকশা ব্যবস্থাপনা নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব উদ্যোগের কথা জানানো হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

সভায় নগর ব্যবস্থাপনা, যান চলাচলে শৃঙ্খলা, সড়ক নিরাপত্তা এবং বিদ্যমান বাস্তবতার আলোকে ব্যাটারিচালিত ই-রিকশা ব্যবস্থাপনায় কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা বিভিন্ন মতামত ও সুপারিশ তুলে ধরেন।

প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ এবং স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬-এর আলোকে ই-রিকশা ব্যবস্থাপনার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। সুষ্ঠু ও কার্যকরভাবে এটি বাস্তবায়ন করা গেলে নগরীর যানজট নিয়ন্ত্রণ, যান চলাচলে শৃঙ্খলা এবং সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সরকারের মাধ্যমে নিয়মতান্ত্রিক লাইসেন্সিং ও নিবন্ধন কার্যক্রম চালু হলে একদিকে ই-রিকশা ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আসবে, অন্যদিকে সরকারের কোষাগারে রাজস্ব জমা হবে।

এ লক্ষ্যে বিদ্যমান বিধিমালা সময়োপযোগী করে সিটি করপোরেশন, পৌরসভা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদের জন্য একটি সমন্বিত লাইসেন্সিং কর্তৃপক্ষ নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। এজন্য প্রচলিত বিধিমালা সংশোধনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্থানীয় সরকার বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সিটি করপোরেশন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার নিবন্ধন ও চালকের লাইসেন্স প্রদানের সুযোগ সৃষ্টি করতে ‘স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ধারা ও তফসিল ইতোমধ্যে সংশোধন করা হয়েছে।

এর আগে সিটি করপোরেশন এলাকায় ই-রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার বিভাগ ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৫’ জারি করে। পরে ১৭ ডিসেম্বর এটি গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়।

সভায় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. হাদিউজ্জামান ই-রিকশা ব্যবস্থাপনা ও সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে বিশেষজ্ঞ মতামত দেন।

এ সময় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আব্দুস সালাম, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Continue Reading

Trending