Connect with us

জাতীয়

কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক যেন মরণফাঁদ, ঝরছে শিক্ষার্থীদের জীবন

Published

on

ইবি প্রতিনিধি:

দক্ষিন-পশ্চিমাঞ্চলের সাথে উত্তর বঙ্গের একমাত্র যোগাযোগ ব্যবস্থা কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক। এই মহাসড়কের মাঝবিন্দুতে অবস্থান ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ কিলোমিটার দূরত্বে কুষ্টিয়া এবং ২২ কিলো. দূরত্বে ঝিনাইদহ শহর। অধিকাংশ শিক্ষার্থী দুই শহরে নিয়মিত যাতায়াত করে থাকেন।

জানা যায়, সড়কটি দিয়ে প্রতি মিনিটে ৪০টি ভারী যানবাহন চলাচল করে থাকেন। মহাসড়কটি খানাখন্দে ভরে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক দিয়ে যানচলাচল অসম্ভাব হয়ে পড়ে। বিভিন্ন স্থানে আস্তর উঠে গিয়ে তৈরি হয়েছে বড় বড় খাদ। কর্তৃপক্ষের অবহেলা আর যথাসময়ে প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় এখন এটির বেহাল দশা এবং প্রতিনিয়ত দুর্ভোগের শিকার দূরপাল্লার যাত্রী-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

বিশেষ করে লক্ষ্মীপুর-মধুপুর দীর্ঘ ৫ কিলোমিটারজুড়ে সড়কটি প্রায় পর্যুদস্ত। যাতায়াতের সময় গাড়ির ঝাঁকুনিতে অতিষ্ঠ হতে হয় শিক্ষার্থী, রোগী-সহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ। এতে যেমন সীমাহীন দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এবং একই সাথে রয়েছে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি। গত কয়েক মাসে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থী সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন এবং পাড়ি দিতে হয়েছে পরপারে। দ্রুত সংস্কার চান শিক্ষার্থীরা। বারাংবার আলোচনা করার পরেও যথোপযুক্ত বাস্তবায়ন দেখছেন না ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। নিরাপদ সড়কের দাবিতে জোড়ালো আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এদিকে আজ সোমবার (১৬ জুন) পবিত্র ঈদুল আযহা’র ছুটি কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার পথে কুষ্টিয়া- ঝিনাইদহ মহাসড়কে বাস-ট্রাক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাশেদুল ইসলাম। একই বাসে আব্দুর রাজ্জাক ও রনি নামে দুই ইবি শিক্ষার্থী-সহ কয়েকজন যাত্রী গুরুতর আহত হন।

চলতি বছরে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি এ সড়কে ইবি’র একটি শিক্ষার্থীবাহী বাস ধানক্ষেতে উল্টে পড়ে যায়। এতে অন্তত ২০ শিক্ষার্থী আহত হন।

এছাড়া ক্যাম্পাস থেকে সিএনজি যোগে বাড়িতে যাওয়ার সময় সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মনির হোসেন। গত ২৫ সেপ্টেম্বর দুপুরে কুষ্টিয়া শহরে ট্রাকের সাথে সিএনজির সংঘর্ষে মারাত্মকভাবে আহত হয়ে পরে চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান।

পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মনিরের নিহতের ঘটনায় নিরাপদ সড়কের দাবি-সহ ৫ দফা দাবিতে কুষ্টিয়া-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে আন্দোলনে নামেন ইবি শিক্ষার্থীরা। এতে নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন, কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ পর্যন্ত মহাসড়ক সংস্করণ-সহ আরও বেশ কিছু দাবি জানানো হয়। তবে এ সকল দাবির তেমন কোন কার্যকর বাস্তবায়ন ঘটেনি। যার ফলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্ববৃন্দ।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাসলিমা আক্তার জানান, ‘ইবির যাতায়াত ব্যবস্থায় দীর্ঘস্থায়ী অব্যবস্থাপনা ও প্রাতিষ্ঠানিক অমনোযোগের ফলে সৃষ্ট প্রাণঘাতী বিপর্যয় গভীরভাবে উদ্বেগজনক। শিক্ষার্থীদের জীবনের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণে প্রশাসনিক আন্তরিকতা ও কার্যকর উদ্যোগ এখন অপরিহার্য। বিগত বছর মনিরের মর্মান্তিক মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীদের ন্যায়সঙ্গত ৫ দফা দাবি সত্ত্বেও প্রশাসনিক অকার্যকারিতা ও প্রতিশ্রুতির প্রহসনে পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটেনি। প্রশাসনকে অবিলম্বে জবাবদিহিমূলক কাঠামোর আওতায় এনে পূর্বঘোষিত দাবিগুলোর কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাদিয়া মাহমুদ মীম বলেন, ‘এখন পর্যন্ত যতবারই নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন হয়েছে, কোনো প্রকার দাবির বাস্তবায়ন আমাদের নজরে পড়েনি। ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া রাস্তা সংস্করণ-সহ বিশ্ববিদ্যালয় মেইনগেটের সামনে স্পিডব্রেকার নতুনভাবে সংযোজন করতে হবে। কুষ্টিয়া থেকে ঝিনাইদহ পর্যন্ত একটি নির্দিষ্ট গতি নির্ধারণ করে সেই গতির সীমা অতিক্রমকারী যানবাহনকে শাস্তির আওতায় আনতে হবে। রাস্তা সংস্করণের দাবি বাস্তবায়ন না হলে সকল সাধারণ শিক্ষার্থী আবারও নিরাপদ সড়কের দাবিতে রাস্তায় নামতে বাধ্য হবে।’

এ বিষয়ে ইবি শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক সাহেদ আহম্মেদ বলেন, ‘ক্যাম্পাস খোলার পর উপাচার্য বরাবর নিরাপদ সড়ক নিশ্চিতকরণ, মহাসড়ক সংস্করণ-সহ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্মারকলিপি প্রদান ও দ্রুত সময়ের মধ্যে এগুলো বাস্তবায়নের দাবি জানাবো। তবে যদি এর ব্যত্যয় ঘটে তাহলে প্রাথমিক পর্যায় মানববন্ধন কর্মসূচি ও পরবর্তীতে সড়ক অবরোধের মত কঠোর কর্মসূচি পালন করবো।’

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ইবি শাখার সমন্বয়ক এস. এম. সুইট বলেন, ‘আমাদের কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়কের বেহাল দশা এবং লোকাল বাস ও পরিবহনের অনিয়ন্ত্রিত গতির কারণে আর কত প্রাণ ঝড়লে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ প্রশাসনের টনক নড়বে! আমরা এর আগে গত প্রশাসনের সময় নিরাপদ সড়কের দাবিতে আন্দোলন করেছি এবং সর্বশেষ কয়েক মাস আগেও মহাসড়ক অবরোধ করে আমাদের দাবিগুলো জানিয়ে এসেছি। এরপরও প্রশাসন কোন কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারিনি। অনতিলম্বে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ মহাসড়ক সংস্কার না হলে আমরা সকল শিক্ষার্থীদের নিয়ে আন্দোলন গড়ে তুলবো।’

ইবি শাখা ছাত্রশিবির সভাপতি মো. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘ছাত্রশিবির সবসময় শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে সচেতন। সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষার্থীর মৃত্যু আমাদের প্রচণ্ডভাবে মর্মাহত করেছে। আমরা বিভিন্ন সময়ে বৈঠকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে কুষ্টিয়া-ঝিনাইদহ থেকে ক্যাম্পাস পর্যন্ত সড়ক সংস্কারের দাবি জানিয়েছি। আশ্বাস পেলেও এখনো উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখিনি। বিশ্ববিদ্যালয় খোলা হলেই আমরা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করবো যেন তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সড়ক সংস্কারের জন্য তাগিদ দেয়। পাশাপাশি নিহত শিক্ষার্থীর ক্ষতিপূরণ ও আহতদের চিকিৎসা ব্যয় বহন করতে হবে। এই দুর্ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করে পদক্ষেপ নিতে হবে। যদি অল্প সময়ের মধ্যে সড়ক সংস্কারসহ সড়ক নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া না হয় আমরা শিক্ষার্থীদের নিয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেব।’

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠা নিয়ে হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগে স্থগিত

Published

on

By

তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেছেন আপিল বিভাগ। একইসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় প্রতিষ্ঠার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য আগামী ১৬ জুন নির্ধারণ করেছেন আদালত। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত হাইকোর্টের রায় স্থগিত থাকবে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশ দেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। অপরপক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।

এর আগে সকালে তিন মাসের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের জন্য পৃথক স্বাধীন সচিবালয় করার নির্দেশ দিয়ে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানি শুরু হয়।

গত ২১ মে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ৭ এপ্রিল ১৮৫ পৃষ্ঠার হাইকোর্টের রায় প্রকাশ করা হয়। এর আগে ২ সেপ্টেম্বর বিচারপতি আহমেদ সোহেল ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর বেঞ্চ এই রায় দেন।

রায়ে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির-সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদের এমন বিধান বাতিল করেন হাইকোর্ট। ফলে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ, শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত হলো। একইসঙ্গে অধস্তন আদালতের জন্য ২০১৭ সালে করা শৃঙ্খলাবিধি বাতিল করা হয়েছে।

আদালতে রিটকারীদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। অ্যামিকাস কিউরি ছিলেন সিনিয়র অ্যাডভোকেট শরীফ ভূঁইয়া। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন তৎকালীন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।

২০২৪ সালের ২৫ আগস্ট সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ, ২০১৭ সালের জুডিসিয়াল সার্ভিস (শৃঙ্খলা) বিধিমালার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং বিচার বিভাগীয় পৃথক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার নির্দেশনা চেয়ে সুপ্রিম কোর্টের সাত আইনজীবী রিটটি করেন। পরে একই বছরের ২৭ অক্টোবর হাইকোর্ট ‍রুল জারি করেন।

সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, বিচার-কর্ম বিভাগে নিযুক্ত ব্যক্তিদের এবং বিচার বিভাগীয় দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল-নির্ধারণ, পদোন্নতি ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) ও শৃঙ্খলা বিধান রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত। সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি তা প্রয়োগ করে থাকেন।

রিটকারীদের আইনজীবীর মতে, ১১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত রয়েছে।

একই অনুচ্ছেদ রাষ্ট্রপতি এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করবেন বলে উল্লেখ রয়েছে। মূলত রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত এ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের সরাসরি হস্তক্ষেপ দেখা যায়, যা বিচার বিভাগের স্বাধীনতাকে খর্ব করে।

১৯৭২ সালের সংবিধানে অধস্তন আদালতের দায়িত্ব পালনরত ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের এ দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের ওপর ন্যস্ত ছিল।

১৯৭৪ সালে সংবিধানের চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে ম্যাজিস্ট্রেটদের নিয়ন্ত্রণ (কর্মস্থল নির্ধারণ, পদোন্নতিদান ও ছুটি মঞ্জুরিসহ) শৃঙ্খলা বিধানের দায়িত্ব রাষ্ট্রপতির ওপর ন্যস্ত করা হয়। পরে সংবিধানের পঞ্চম সংশোধনীর মাধ্যমে এবং ‘সুপ্রিমকোর্টের সহিত পরামর্শক্রমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক তাহা প্রযুক্ত হইবে’ শব্দগুলো সন্নিবেশিত করা হয়।

এরপর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ পঞ্চম সংশোধনী আইন অসাংবিধানিক মর্মে ঘোষণা করলে পঞ্চদশ সংশোধন আইন, ২০১১ এর মাধ্যমে ১১৬ অনুচ্ছেদের বর্তমান একই বিধানটি প্রতিস্থাপন করা হয়। বর্তমানে সংবিধানের ১১৬ অনুচ্ছেদে এ বিধানটিই বিদ্যমান রয়েছে।

Continue Reading

top1

বাংলা, ইতিহাস ও দর্শনের অনার্স কোর্স বাতিল হচ্ছে

Published

on

By

দেশের উচ্চশিক্ষাকে কর্মমুখী করতে শিক্ষা কাঠামোতে সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন খসড়া মডেল অনুযায়ী বাংলা, ইতিহাস, দর্শনসহ প্রায় ৬ বিষয়ের অনার্স কোর্স বাতিল করা হচ্ছে। এসব বিষয় অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে সমন্বয় করা হবে। একই সঙ্গে আইটি ও কারিগরির বিষয় বাড়ানো হচ্ছে। শিক্ষার সঙ্গে কর্মসংস্থানের সংযোগ বাড়াতে পাঠ্যক্রমে যুক্ত হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার সিকিউরিটি, আউটসোর্সিং ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষতাভিত্তিক বিষয়। এছাড়া কলেজ পর্যায়েই চালু হচ্ছে ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ, প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে ক্যারিয়ার সেন্টার এবং শেখানো হবে সাতটি বিদেশি ভাষা।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা গতকাল ইত্তেফাককে এসব তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি নিয়ে এখনো আলোচনা চলছে। সকলের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী দেশে সনদনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে দক্ষতাভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর এবং বাস্তব ও কর্মমুখী শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশনা দেন। পরে একাধিক অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেন, আমরা এমন একটি শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই, যেখানে শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, বরং দক্ষ ও কর্মক্ষম মানবসম্পদ তৈরি হবে। শিক্ষাবিদরা বলেন, কর্মের সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে পারছে না দেশের প্রচলিত শিক্ষা। এজন্য দিন দিন শিক্ষিত ও তরুণ বেকারের চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার আশঙ্কাজনক। দেশে উচ্চশিক্ষিত বেকারত্বের হার গত ১৩ বছরে আট গুণ বেড়েছে। দেশে ৮৫ শতাংশ কর্মসংস্থানই অপ্রাতিষ্ঠানিক।

এদিকে পাবলিক পরীক্ষার দীর্ঘ সময়সূচির কারণে শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমানো এবং স্কুল-কলেজগুলোতে স্বাভাবিক পাঠদান সচল রাখতে বড় ধরনের সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দেশের সবচেয়ে বড় দুটি পাবলিক পরীক্ষা এসএসসি ও এইচএসসির বিষয় সংখ্যা এবং পরীক্ষা গ্রহণের কর্মদিবস উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) এরই মধ্যে এ-সংক্রান্ত একটি প্রাথমিক ধারণাপত্র ও কর্মপরিকল্পনা তৈরি করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এনসিটিবি সূত্র জানায়, বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা শেষ করতে ২৫ থেকে ৩০ কর্মদিবস এবং এইচএসসিতে ৩০ থেকে ৩৫ কর্মদিবস বা তারও বেশি সময় লেগে যায়। এই দীর্ঘ সময় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহূত হওয়ায় হাজার হাজার স্কুলে স্বাভাবিক পাঠদান বন্ধ থাকে। এতে অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীদের শিখন ঘণ্টা (লার্নিং আওয়ার্স) মারাত্মকভাবে কমে যাচ্ছে। পাশাপাশি দীর্ঘ পরীক্ষার কারণে পরীক্ষার্থীরাও অসহনীয় মানসিক চাপে ভোগে। এই জটলা ও চাপ কাটানোই সরকারের নতুন পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য।

সরকার ২০২৮ সাল থেকে যে নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে, তাতে নতুন চারটি বিষয় যুক্ত করার কথা বলেছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এরমধ্যে ক্রীড়া ও সংস্কৃতি নিয়ে দুটি বিষয় পড়তে হবে চতুর্থ শ্রেণি থেকে। আর ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে যুক্ত হবে ‘কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা’ এবং ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’। এছাড়া নতুন শিক্ষাক্রমে বাংলা ও ইংরেজি ছাড়াও তৃতীয় ভাষা শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হবে। সেক্ষেত্রে কোনো একটি বিষয়ের সঙ্গে ‘বড় অধ্যায়’ যুক্ত হতে পারে। সোমবার বিকালে সচিবালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলনে এসে নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রথমত বিদ্যমান শিক্ষাক্রমকে সঠিকভাবে পরিমার্জন করে, বাস্তব সম্মতভাবে এটাকে আমরা রিভাইজ করে এই ২০২৭ সালে দিচ্ছি। আর টোটাল চেইঞ্জ যেটা আশা করছেন, সেটা আমরা কাজ শুরু করেছি। ২০২৮ সালে গিয়ে আপনারা সেটা দেখতে পারবেন, এখন নয়। কারিকুলাম খুব সুন্দর হচ্ছে এবং চারটি নতুন বিষয় যুক্ত হচ্ছে।’

এরআগে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা মাহদী আমিন নতুন শিক্ষাক্রমে চারটি নতুন বিষয় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘১৬ বছরের সব সমস্যা হয়তো এক দিনে এক বছরে সমাধান করা যাবে না। আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের সর্বোচ্চ আন্তরিকতা রয়েছে। যতটা দ্রুত সম্ভব আমরা প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনব। এখানে কারিকুলামের ভেতরে একটি অংশ রয়েছে, যেখানে প্রয়োজনীয় সংযোজন, বিয়োজন, পরিমার্জন করতে হবে। পাশাপাশি নতুন কিছু বিষয় আমরা যুক্ত করছি।’

সনদনির্ভর শিক্ষা থেকে দক্ষতা, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক উচ্চশিক্ষার বড় রূপান্তরের পথে হাঁটছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেন, দেশের উচ্চশিক্ষায় দীর্ঘদিনের প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থানমুখী করে গড়ে তুলতে বড় ধরনের সংস্কার কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে।

Continue Reading

top1

সরকারি দলের ঠিকাদাররা কাজ পাচ্ছেন না, সংসদে উদ্বেগ

Published

on

By

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উন্নয়নকাজে বহিরাগত ঠিকাদারদের আধিপত্য এবং কাজ বারবার হাতবদলের কারণে গ্রামীণ অবকাঠামোর মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জাতীয় সংসদে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংসদ সদস্যরা স্থানীয় ঠিকাদারদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

জবাবে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিদ্যমান ক্রয়বিধি (পিপিআর) পর্যালোচনা করে স্থানীয় যোগ্য ঠিকাদারদের সুযোগ দেওয়ার বিষয়টি সরকার গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।’

সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দল বিএনপির সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বিষয়টি উত্থাপন করেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে তিনি বলেন, ‘এলজিইডির মাধ্যমে গ্রামীণ সড়ক, সেতু, কালভার্ট, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ নানা উন্নয়নকাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে স্থানীয় কাজ অন্য জেলা বা বিভাগের ঠিকাদারদের দেওয়া হচ্ছে।

এসব ঠিকাদার নিয়মিত কাজ তদারকি করেন না এবং স্থানীয় বাস্তবতা সম্পর্কেও পর্যাপ্ত ধারণা রাখেন না।’
সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে কাজগুলো একাধিকবার হাতবদল হওয়া। মূল ঠিকাদার কাজ নিয়ে পরে স্থানীয় পর্যায়ে অন্যদের কাছে ছেড়ে দেন। এতে মাঝপথে বিপুল অর্থ চলে যায় এবং শেষ পর্যন্ত কম বাজেটে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে কাজ শেষ করা হয়।

ফলে কাজের গুণগত মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। স্থানীয় পেশাদার ঠিকাদারদের সুযোগ দেওয়া হলে তারা এলাকার প্রয়োজন সম্পর্কে বেশি অবগত থাকেন এবং জনগণের কাছে সরাসরি জবাবদিহির কারণে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করেন।’

জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, ‘এলজিইডির কাজ সরকারি ক্রয় আইন (পিপিএ) ও সরকারি ক্রয়বিধি (পিপিআর) অনুসারে সম্পন্ন করা হয়। পাঁচ কোটি টাকা পর্যন্ত সীমিত দরপত্রের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট জেলার ঠিকাদাররাই অংশ নিতে পারেন। তবে উন্মুক্ত দরপত্রে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে দেশের যেকোনো প্রান্তের ঠিকাদার অংশ নেওয়ার সুযোগ পান।

যে বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে।’ পরে সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য আশরাফ উদ্দিন ই-জিপি ব্যবস্থার অপব্যবহারের অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, অতীতে প্রভাবশালী কিছু ঠিকাদার কাগজে-কলমে শক্তিশালী প্রোফাইল দেখিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের কাজ পাচ্ছেন। কিন্তু তারা নিজেরা কাজ না করে পর্দার আড়ালে থেকে একাধিক ধাপে কাজ বিক্রি করে দিচ্ছেন। দাম কমতে কমতে শেষ পর্যায়ে যে ঠিকাদার কাজ করেন, তিনি বাধ্য হয়ে নিম্নমানের মালামাল ব্যবহার করেন। এর ফলে জনগণ কাঙ্ক্ষিত সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

জবাবে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের উদ্বেগের সঙ্গে একমত পোষণ করেন। তিনি বলেন, ‘মাঠ পর্যায়ের এই বাস্তব সমস্যার বিষয়ে সরকার পুরোপুরি অবগত। কাজের হাতবদল এবং নিম্নমানের নির্মাণকাজ ঠেকাতে প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছে। তিনি জানান, যোগ্য স্থানীয় ঠিকাদাররা যাতে ন্যায্যভাবে কাজ পান এবং গ্রামীণ অবকাঠামোর গুণগত মান নিশ্চিত করা যায়, সে লক্ষ্যে বিদ্যমান পিপিআর পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।’

Continue Reading

Trending