Connect with us

top1

যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হামাস ও ইসরায়েল, মৃত্যু উপত্যকা গাজায় প্রাণের উচ্ছ্বাস

Published

on

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

গাজায় দুই বছরের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের অবসানের ইঙ্গিত দিয়ে অবশেষে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সম্মত হয়েছে ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় ও মিশর, কাতার এবং তুরস্কের সহযোগিতায় এই ঐতিহাসিক চুক্তিটি সম্ভব হয়েছে। বৃহস্পতিবার এই ঘোষণার পর গাজার যুদ্ধবিধ্বস্ত রাস্তায় নেমে আসে ফিলিস্তিনিদের আনন্দের ঢল, অন্যদিকে ইসরায়েলে জিম্মিদের পরিবারে বয়ে যায় স্বস্তির নিঃশ্বাস।

তিন দিন ধরে মিশরের শার্ম আল-শেখে অনুষ্ঠিত পরোক্ষ আলোচনার পর উভয় পক্ষ ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার প্রথম ধাপে সম্মত হয়। এই ধাপে যুদ্ধবিরতি, ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি বন্দীদের মুক্তি এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের মতো বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে হামাস জানায়, তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছেছে যা গাজায় যুদ্ধের সমাপ্তি, ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার এবং বন্দি বিনিময়ের নিশ্চয়তা দেবে। ইসরায়েল যাতে চুক্তিটি পুরোপুরি মেনে চলে, তা নিশ্চিত করতে হামাস প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এবং অন্যান্য মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই চুক্তিকে “ইসরায়েলের জন্য একটি মহান দিন” বলে অভিহিত করেছেন। জিম্মিদের পরিবারের প্রতি বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “ঈশ্বরের সহায়তায় আমরা তাদের সবাইকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনব।” বৃহস্পতিবার রাতেই ইসরায়েলের মন্ত্রিসভা এই চুক্তির রূপরেখা অনুমোদন করে।

উল্লাসে ফেটে পড়েছে গাজা ও তেল আবিব

চুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়ার সাথে সাথে গাজার তরুণরা রাস্তায় নেমে এসে নেচে-গেয়ে এবং স্লোগান দিয়ে উল্লাস প্রকাশ করে। খান ইউনিসের বাসিন্দা আব্দুল মজিদ আব্দ রাব্বো রয়টার্সকে বলেন, “এই যুদ্ধবিরতির জন্য, রক্তপাত বন্ধের জন্য আল্লাহকে ধন্যবাদ। শুধু আমি নই, পুরো গাজা আজ খুশি।”

একই ধরনের আবেগঘন দৃশ্য দেখা যায় তেল আবিবেও। হামাসের হাতে আটক এক জিম্মির মা, আইনভ জাঙ্গাউকার কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি শ্বাস নিতে পারছি না। আমার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো না। আমি ওকে (ছেলেকে) কী বলব? শুধু জড়িয়ে ধরে চুমু খাব।”

চুক্তির খুঁটিনাটি ও পরবর্তী পদক্ষেপ

চুক্তি অনুযায়ী, হামাস আগামী কয়েকদিনের মধ্যে নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ ২০ জন জীবিত জিম্মিকে মুক্তি দেবে। এর বিনিময়ে ইসরায়েল প্রায় ২,০০০ ফিলিস্তিনি বন্দিকে মুক্তি দেবে, যাদের মধ্যে যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দিরাও রয়েছে। চুক্তি কার্যকর হওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনীকে গাজার বেশিরভাগ জনবহুল এলাকা থেকে একটি নির্দিষ্ট সীমারেখায় সরে আসতে হবে।

এই পদক্ষেপগুলো সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে তা দীর্ঘমেয়াদী শান্তি আলোচনার পথ প্রশস্ত করবে। একইসাথে, দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে থাকা গাজায় জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ তৈরি হবে। একটি আন্তর্জাতিক সংস্থার মতে, আগস্ট মাসেই গাজার পাঁচ লাখের বেশি মানুষ দুর্ভিক্ষের কবলে পড়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, সোমবারের মধ্যেই জিম্মিদের মুক্তি দেওয়া হতে পারে।

বিশ্বনেতাদের প্রতিক্রিয়া ও শান্তির আশা

গাজায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছে গোটা বিশ্ব। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশের নেতারা এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন এবং উভয় পক্ষকে চুক্তি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, জাতিসংঘ এই চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নে সহায়তা করবে এবং গাজায় মানবিক ত্রাণ ও পুনর্গঠন কার্যক্রম জোরদার করবে।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস এই সমঝোতাকে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধানের পথে এগিয়ে যাওয়ার একটি সুযোগ হিসেবে দেখছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান চুক্তিতে মধ্যস্থতার জন্য ট্রাম্প, কাতার ও মিশরকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার এই মুহূর্তটিকে জিম্মিদের পরিবার ও গাজার বেসামরিক মানুষের জন্য “গভীর স্বস্তির” বলে উল্লেখ করেছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ উভয়েই স্থায়ী শান্তির পথে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন।

শান্তির পথে চ্যালেঞ্জ

যুদ্ধবিরতির এই খবর আশার সঞ্চার করলেও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এখনও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জের মুখে। মার্কিন বিশেষজ্ঞ অ্যারন ডেভিড মিলারের মতে, ট্রাম্পের ব্যক্তিগত উদ্যোগ এবং আরব দেশগুলোর সমন্বিত চাপ এই চুক্তিকে সম্ভব করেছে। তবে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং যুদ্ধ-পরবর্তী গাজার শাসন ব্যবস্থা নিয়ে এখনও অস্পষ্টতা রয়ে গেছে।

ট্রাম্পের পরিকল্পনায় গাজার ভবিষ্যৎ প্রশাসনে হামাসের কোনো ভূমিকা না রাখার কথা বলা হয়েছে। নেতানিয়াহুও গাজার শাসনভার ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। এতকিছুর পরেও, প্রথম ধাপের এই চুক্তি কার্যকর হওয়ার খবরই বিশ্বজুড়ে স্বস্তি এনেছে এবং গাজাবাসীকে দিয়েছে নতুন করে বাঁচার আশা।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

top1

সরকারের ঋণ বেড়েছে ২৩ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা

Published

on

By

বাজেট ঘাটতি মেটাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) সরকারের অভ্যন্তরীণ ঋণ সংগ্রহের চিত্রে বড় পরিবর্তন দেখা গেছে। এ সময়ে সরকার প্রায় পুরোপুরি ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে ৮৪ শতাংশের বেশি ঋণ নিয়েছে। বিপরীতে জাতীয় সঞ্চয়পত্রসহ ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে ঋণ সংগ্রহ কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। ফলে অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রধান উৎস হিসেবে ব্যাংক খাতের গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গবেষণা বিভাগের প্রকাশিত ‘মাসিক প্রতিবেদন অন গভর্নমেন্ট ডোমেস্টিক বোরোয়িং-এপ্রিল ২০২৬’ অনুযায়ী, গত অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে সরকারের মোট নিট অভ্যন্তরীণ ঋণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৫ হাজার ৩৭৪ কোটি টাকা, যা পুরো অর্থবছরের জন্য নির্ধারিত ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যের ৮৪ দশমিক ৩ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে সরকারের নিট অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ছিল ৮১ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে সরকারের এ ঋণ বেড়েছে প্রায় ২৩ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা। প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত অর্থবছরের বাজেটে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা ছিল। এর মধ্যে ১ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এবং ২১ হাজার কোটি টাকা ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়। তবে প্রথম ১০ মাসেই ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে। অন্যদিকে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে সংগ্রহ লক্ষ্যের অনেক নিচে রয়েছে।

২০২৫-২৬ অর্থবছরে জুলাই-এপ্রিল সময়ে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৪ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা নিট ঋণ নিয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ৫০ হাজার ৭৮৭ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংক থেকে সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে প্রায় ৫৪ হাজার কোটি টাকা।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, সরকারি ট্রেজারি বিল ও ট্রেজারি বন্ডের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংক ঋণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে একই সময়ে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে সরকারের নিট ঋণ হয়েছে মাত্র ৭৬৮ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এ উৎস থেকে সরকারের নিট ঋণ ছিল ৩১ হাজার ৫৫ কোটি টাকা। ফলে এক বছরের ব্যবধানে এ খাত থেকে ঋণ সংগ্রহ প্রায় পুরোপুরি কমে গেছে।

প্রতিবেদন বলছে, জাতীয় সঞ্চয়পত্রে সরকারের নিট ঋণ ঋণাত্মক হওয়াই এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ। জুলাই-এপ্রিল সময়ে জাতীয় সঞ্চয়পত্র বিক্রি হয়েছে ৭৫ হাজার ৮২০ কোটি টাকা। একই সময়ে মেয়াদপূর্তিসহ বিভিন্ন কারণে পরিশোধ করতে হয়েছে ৭৬ হাজার ২৫০ কোটি টাকা। ফলে সরকারকে নিট ৪২৯ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে নিট পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৭ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা।

শুধু এপ্রিল মাসের হিসাবেও একই প্রবণতা দেখা যায়। ওই মাসে সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ২৫ হাজার ৪৩৬ কোটি টাকা ঋণ নিলেও পরিশোধ করেছে ৩০ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা। ফলে মাস শেষে ব্যাংক খাতে সরকারের নিট পরিশোধ দাঁড়ায় ৪ হাজার ৮৮৮ কোটি টাকা। একই সময়ে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে সরকার ১ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা নিট ঋণ সংগ্রহ করেছে।

প্রতিবেদনে শরিয়াহভিত্তিক সরকারি অর্থায়নের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উপকরণের তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। এতে দেখা যায়, ইসলামী ব্যাংকগুলোর তারল্য ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ইসলামিক ইনভেস্টমেন্ট বন্ড (বিজিআইআইবি)-এর নিট স্থিতি জুলাই-এপ্রিল সময়ে ৬ হাজার ৬১১ কোটি টাকা বেড়েছে। এ ছাড়া বাংলাদেশ গভর্নমেন্ট ইনভেস্টমেন্ট সুকুক (বিজিআইএস)-এর স্থিতি এপ্রিল শেষে বেড়ে ৩৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, গত অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে সরকারি সিকিউরিটিজ—বিশেষ করে ট্রেজারি বিল ও ট্রেজারি বন্ড-ইস্যুর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ বাড়ায় ব্যাংক ঋণের ওপর সরকারের নির্ভরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। একই সময়ে জাতীয় সঞ্চয়পত্রসহ ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে অর্থ সংগ্রহ কমে যাওয়ায় অভ্যন্তরীণ ঋণের কাঠামোয় বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে।

এ বিষয়ে চেঞ্জ ইনিশিয়েটিভের রিসার্চ ফেলো ও অর্থনীতিবিদ এম হেলাল আহমেদ কালবেলাকে বলেন, বর্তমানে সরকারের নিট অভ্যন্তরীণ ঋণের পরিমাণ ১ লাখ ৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছেছে। ভবিষ্যতে এ ঋণ আরও বাড়ার পাশাপাশি সুদ পরিশোধের চাপও বৃদ্ধি পাবে, যা বাজেটের একটি বড় অংশ গ্রাস করার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

তিনি বলেন, সংকট মোকাবিলায় সরকারের ঋণগ্রহণ অনেকাংশেই স্বাভাবিক এবং অনেক ক্ষেত্রে অনিবার্য। তবে এ ঋণ যেন দীর্ঘমেয়াদে দেশকে ঋণের ফাঁদে না ফেলে, সেটিই হওয়া উচিত। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি সংকট এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তার কারণে সরকারকে বিভিন্ন উৎস থেকে ঋণ নিতে হচ্ছে। কিন্তু এ পরিস্থিতি থেকে টেকসইভাবে উত্তরণের জন্য দেশের নিজস্ব সম্পদ আহরণের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। এজন্য রাজস্ব আদায় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে কঠোর ব্যয়-সাশ্রয়ী নীতি অনুসরণ করতে হবে। স্বল্পমেয়াদে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে ঋণনির্ভরতা হ্রাস এবং কর-জিডিপি অনুপাত বাড়িয়ে রাজস্ব আহরণ জোরদার করা প্রয়োজন।

Continue Reading

top1

২০৩০ সালের মধ্যে সড়কে মৃত্যু অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের

Published

on

By

২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা ৫০ শতাংশ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকায় প্রাপ্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নবিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে মন্ত্রী এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

মন্ত্রী বলেন, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক কর্মদশকের (২০২১-৩০) বৈশ্বিক কর্মপরিকল্পনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাংলাদেশ সড়ক নিরাপত্তা জোরদারে আইনি, নীতিগত ও প্রযুক্তিনির্ভর বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। 

তিনি জানান, সরকার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা সম্প্রসারণ, দুর্ঘটনার পর দ্রুত জরুরি সেবা নিশ্চিতকরণ এবং বিশেষ করে পথচারীদের নিরাপত্তা জোরদারে মহাসড়কে লক্ষ্যভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, সেফ সিস্টেম অ্যাপ্রোচ এবং আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার আলোকে ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে একটি সমন্বিত সড়ক নিরাপত্তা আইন চূড়ান্ত করে তা অনুমোদন ও প্রণয়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবন্ধ।

সড়ক নিরাপত্তাকে জাতীয় রাজনৈতিক অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করে শেখ রবিউল আলম বলেন, ২০৩০ সালের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে দৃঢ় রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর অংশীদারত্ব এবং সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীলতা অপরিহার্য। তিনি সকল সড়ক ব্যবহারকারীর জন্য নিরাপদ, টেকসই ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সড়ক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত সড়ক নিরাপত্তা উন্নয়নবিষয়ক জাতিসংঘের উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। প্রতিনিধি দলের অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন- সড়ক পরিবহণ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হক, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এবং বাংলাদেশ রোড সেফটি প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ শব্বির হাসান খান।

মঙ্গলবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠেয় ‘সড়ক নিরাপত্তায় বহুখাতভিত্তিক সমন্বয় জোরদার: সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা সফলভাবে কমিয়ে আনা দেশগুলোর সর্বোত্তম চর্চা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়’ শীর্ষক সাইড ইভেন্টে মন্ত্রী যৌথ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

সূত্র: বাসস

Continue Reading

top1

হজযাত্রীদের জন্য বিমান ভাড়া নিয়ে সুখবর

Published

on

By

আগামী ২০২৭ সালের পবিত্র হজযাত্রীদের জন্য সুখবর দিয়েছে সরকার। ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের হজযাত্রীদের জন্য বিমান ভাড়া গত বছরের তুলনায় ৩৭ হাজার টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সচিবালয়ে ২০২৭ সালের হজ প্যাকেজ ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

জামায়াতকে টেক্কা দিয়ে ‘প্রকৃত বিরোধী দল’ হওয়ার চেষ্টায় কয়েকটি দল

ধর্মমন্ত্রী বলেন, সরকার ২০২৭ সালের জন্য সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুটি হজ প্যাকেজ ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় সর্বনিম্ন হজ প্যাকেজের মূল্য ৫ লাখ ৫ হাজার ৬৪৮ টাকা এবং দ্বিতীয় প্যাকেজের মূল্য ৬ লাখ ১৫ হাজার ২৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া বেসরকারি প্যাকেজ ৫ লাখ ১৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

Continue Reading

Trending