Connect with us

ক্যাম্পাস

রাকসু নির্বাচনে লড়বেন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী নাঈম

Published

on

‘আমার বন্ধুরা বলেছে তুমি পারবে’

প্রান্ত কুমার দাশ, রাবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম হোসেন। জন্মগতভাবে যিনি একজন দৃষ্টি প্রতিবন্ধী। অথচ দৃষ্টিহীন হয়েও তিনি দেখতে পান এমন এক স্বপ্ন—যা অনেক সক্ষম মানুষও দেখার সাহস পায় না। সেই স্বপ্ন হলো পরিবর্তনের। আর এই স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতেই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে অংশগ্রহণ করার। ‘সহকারী পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক’ পদে জমা দেন মনোনয়ন পত্র। প্রার্থীদের প্রাথমিক তালিকায়ও তার নাম এসেছে। তার এই যাত্রায় অনুপ্রেরণা হিসেবে হাজির হয়েছে তার বন্ধুরাসহ অনেকেই। সকলের কথা বলতে গিয়ে নাঈম বললেন, ‘আমার বন্ধুরা বলেছে তুমি পারবে। তুমি সেই ব্যক্তি যার দ্বারা কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব।’

নাঈম ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তার বাড়ি লক্ষীপুর জেলার সদরে। জন্ম থেকেই চোখে আলো না পাওয়া এই তরুণের পৃথিবী আর আট-দশ জন তরুণের মতো নয়। সম্পূর্ণ আলাদা। ছোট থেকে লড়াই সংগ্রামে মাঝে ভর্তি হয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ে।বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো এই প্রতিযোগিতাপূর্ণ পরিবেশে, শত প্রতিকূলতার মাঝেও, তিনি যা ভাবেন, তা হয়তো আর আট-দশ জন ভাবতে পান না। শিক্ষার্থী হয়ে নাঈমের মতো দৃষ্টি প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীদের মতো সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারেন না। লাইব্রেরির মতো প্রতিষ্ঠানেও তাদের জন্য নেই কোনো বিকল্প ব্যবস্থা। যে সমস্যা নিয়ে নাঈম কতৃপক্ষকে বার বার বলতে গেলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।

মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন নাঈম হোসেন।

বেশ আক্ষেপ নিয়ে নাঈম বললেন, ‘অন্ধত্বের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে আমার অ্যাক্সেস (প্রবেশাধিকার) নেই। প্রশাসনকে অনেকবার এ কথা জানিয়েছি। কিন্তু তারা আমার কথা আমলে নেননি।’ কারণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করলেন, ‘আমি কোনো লিগ্যাল অথোরিটি (বৈধ কতৃপক্ষ) ছিলাম না। রাকসুতে যদি একজন প্রার্থী হিসেবে আসতে পারি, তবে কিছু বলার অধিকার পাবো।’ 

দীর্ঘ তিনযুগ পর ক্যাম্পাস জুড়ে রাকসু নির্বাচনের আমেজ, ক্লাসরুম থেকে চায়ের দোকান—সর্বত্র প্যানেল-প্রার্থীদের নিয়ে চলছে সুক্ষ্ম বিশ্লেষণ। এই সময়ে প্রার্থীরাও যখন সাধারণ শিক্ষার্থীদের মন জয়ে ব্যস্ত; তখন নাঈমদের মতো এসব বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের নিয়ে ভাববার যেন কেউ নেই। অথচ এই শিক্ষার্থীদের নিয়েই ভাবতে চান নাঈম হোসেন। আবার শুধু যে এই শিক্ষার্থী তাও নয়, কাজ করতে চান ক্যাম্পাসের সকলের জন্য। এই তরুণ ভাঙতে চান সমাজের প্রচলিত ধারণা। সেই লক্ষ্যেই নির্বাচনে প্রার্থীতা ঘোষণা করা বলে জানিয়েছেন তিনি।

অদম্য এই নাঈম বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশন (পিডিএফ)-এর একজন সদস্য। বুধবার নাঈম হোসেনের সঙ্গে এই প্রতিবেদক কথা বলেন।

নির্বাচনে আসার পেছনে কোনো বিশেষ কোনো ঘটনা বা অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জানতে চান এই প্রতিবেদক। নাঈম বললেন, ‘ক্যাম্পাসে কাটানো তিন বছরের অভিজ্ঞতা থেকে আমি এটুকুই বুঝেছি যে, আমাদের ক্যাম্পাসের যে পরিবেশ তা মানুষের জন্য খুবই নিম্ন মানের। আমার মনে হলো, এই অবস্থার পরিবর্তনে ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। আমি এই অবস্থার পরিবর্তনে কাজ করতে চাই।’

তবে এই কাজ সবার জন্য বলে জানালেন নাঈম। তিনি বললেন, ‘ক্যাম্পাসের ফিজিক্যালি চ্যালেঞ্জড ডেভেলপমেন্ট ফাউন্ডেশনের (পিডিএফ) সদস্যরা আমার পরিবারের মতো। তাদের জন্য কাজ করা আমার দায়িত্ব। তবে আমি শুধু তাদের নয়, সব শিক্ষার্থীর জন্যই একটি সুন্দর ক্যাম্পাস গড়তে চাই।’

এই কঠিন পথে চলার সাহস তিনি পেয়েছেন বন্ধু ও পিডিএফ-এর সদস্যদের কাছ থেকে। তাদের অনুপ্রেরণাতেই নাঈম আজ পরিবর্তনের স্বপ্ন দেখছেন। নির্বাচনে জয়-পরাজয় নিয়ে তিনি চিন্তিত নন, বরং আত্মবিশ্বাসী। একটি কথা তিনি বার বার বললেন, ‘আমি বদলাতে চাই, আমি পরিবর্তন চাই।’

নাঈম বললেন, ‘বন্ধুরাসহ আমার পিডিএফ পরিবার বলেছে তুমি সেই ব্যক্তি যার দ্বারা কিছু পরিবর্তন করা সম্ভব। আমি সর্বোপরি সবার জন্য, যারা ক্যাম্পাসে ভুগছে, তাদের জন্য হেল্পিং হ্যান্ড হিসেবে কাজ করতে চাই। আমি সম্পূর্ণ ক্যাম্পাস নিয়ে কাজ করতে চাই।’

নাঈমের এই লড়াই কেবল একটি নির্বাচনে জেতার জন্য নয়, বরং সমাজের গভীরে থাকা একটি ধারণা ভাঙার লড়াই। তিনি বলেন, ‘আমাদের সমাজে একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে, প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা সমাজের জন্য কিছু করতে পারে না। আমি এই ধারণা ভেঙে দিতে চাই।’

নির্বাচনে জয়ের বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী বলে জানান নাঈম। তিনি বলেন, ‘আমি নির্বাচনে জয়-পরাজয় নিয়ে চিন্তিত নই। কিন্তু আমি আত্মবিশ্বাসী যে, ইনশাআল্লাহ পারব। সকলের কাছে বার্তা থাকবে যে, আমি বদলাতে চাই। আমি পরিবর্তন করতে চাই। এটাই আমার বার্তা। এখন পর্যন্ত সবার থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি।’

নির্বাচনের অংশগ্রহণের সিদ্ধান্তে কোনো নেতিবাচক মন্তব্যের শিকার হয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যখনই প্রার্থীতার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, তখন থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নেতিবাচক মন্তব্য পাইনি। তবে ভবিষ্যতের কথা বললে পারছি না। আর অন্যান্য ক্যাম্পাসে দেখেছি যে, ডিজএবল শিক্ষর্থীদের নিয়ে অনেক কথা উঠছে।’

নির্বাচনী প্রচারণা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় আমি একজন মানুষের ভোট নিচ্ছি, মানে আমি তার দায়িত্ব নিচ্ছি। তাই সবার আগে আমার দায়িত্ব তাকে বোঝানো, আমাকে কেন ভোট দেবে। এক্ষেত্রে আমি সরাসরি সাক্ষাৎকে বেশি উৎসাহিত করবো। এটা আমার ব্যক্তিগত কৌশল হবে।’

ছোটবেলা থেকেই মানুষের জন্য কাজ করার স্বপ্ন দেখতেন নাঈম। তিনি বলেন, ‘কেবল চাকরির পেছনে ছোটা আমার লক্ষ্য নয়। আমি স্বাধীনভাবে সমাজের জন্য এমন কিছু করতে চাই, যা মানুষের উপকারে আসবে।’

প্রান্ত কুমার দাশ 

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

০১৭৫১৬৮৭৪৪৯

১০

top3

ইবির নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা ড. মো. মামুন আল রশীদ

Published

on

By

ইবি সংবাদদাতা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ। উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান আগামী এক বছরের জন্য তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশ সূত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামের মেয়াদ ২৭ সেপ্টেম্বর (২০২৬) শেষ হওয়ায় তাঁর স্থলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এক বছরের জন্য ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। অফিস আদেশ অনুযায়ী, নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

এদিকে, দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

নবনিযুক্ত ছাত্র উপদেষ্টা বলেন, আমি চিঠি পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা এবং বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়ে সামনে আগাবো ইনশাআল্লাহ।
ইবি সংবাদদাতা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন ফলিত রসায়ন ও কেমিকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদ। উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান আগামী এক বছরের জন্য তাঁকে এ পদে নিয়োগ দেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. আতিকুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।

অফিস আদেশ সূত্রে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা আরবী ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামের মেয়াদ ২৭ সেপ্টেম্বর (২০২৬) শেষ হওয়ায় তাঁর স্থলে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মামুন আল রশীদকে ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ থেকে এক বছরের জন্য ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. একেএম মতিনুর রহমান। অফিস আদেশ অনুযায়ী, নতুন ছাত্র-উপদেষ্টা বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

এদিকে, দীর্ঘদিন নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে ছাত্র-উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় অধ্যাপক ড. মো. ওবায়দুল ইসলামকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানানো হয়েছে।

নবনিযুক্ত ছাত্র উপদেষ্টা বলেন, আমি চিঠি পেয়েছি। কর্তৃপক্ষের কাছে কৃতজ্ঞ। সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা এবং বেশকিছু পরিকল্পনা নিয়ে সামনে আগাবো ইনশাআল্লাহ।

Continue Reading

top3

ববিতে পটুয়াখালী জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার কর্মশালা অনুষ্ঠিত

Published

on

By

ববি প্রতিনিধি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে পটুয়াখালী জেলা ছাত্র কল্যাণ পরিষদের নবীন বরণ ও ক্যারিয়ার কর্মশালা ২০২৫-২৬ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার ( ২৭ শে সেপ্টেম্বর) বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনানন্দ দাস হলে আজমাইন সাকিব এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি শুরু হয়। অনুষ্ঠানটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন ছুটি মন্ডল ও তুষার শিবলী।

অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও ক্রেষ্ট দিয়ে বরণ করে নেওয়ার পাশাপাশি একটি ফলপ্রসূ ক্যারিয়ার কর্মশালার আয়োজন করা হয়। কর্মশালায় বক্তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের জীবনের শুরু থেকেই লক্ষ্য নির্ধারণ ও ভবিষ্যতের ক্যারিয়ার গড়ে তোলার নানা দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

প্রধান অতিথি ববি উপাচার্য ড. মামুন অর রশীদ বলেন, ” আমাদের বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশ মধ্যে ৩৩ তম বিশ্ববিদ্যালয়। অন্য ২৫ টি বাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের তুলনা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক কিছু আছে। তাই আমি সকল ছাত্র ছাত্রীদের আমি অনুরোধ করবো আমরা শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের নেগেটিভ দিকগুলো দেখবো না পজেটিভ দিক গুলো সামনে তুলে আনবো যা বিশ্ববিদ্যালয়ে আছে আরো অনেক কিছু পাবো। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় ভবন ৩ অর্থ মন্ত্রণালয়ের থেকে অনুমোদন দিলে আমার কাজ শুরু করতে পারবো । আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় পর্যায় প্রোজেক্টটি আলরেডি স্টাট করেছি। আগামী সপ্তাহ আমাদের ১৫ তম ব্যাচের সেন্টাল অরিয়েন্টশন হবে। সবাই অভিনন্দন জানাচ্ছি। পটুয়াখালী থেকে অগত মেহমানদের অভিনন্দন ও জ্ঞাতিগপন করছি। পটুয়াখালী ছাত্র কল্যাণ পরিষদ কে ধন্যবাদ জানাচ্ছি এতো সুন্দর একটা অনুষ্ঠানে আয়োজন করার জন্য। সবশেষ একটা কথা বলবো গুনগান বা ক্ষতি হোক আমি তোমাদের লোক।”

প্রধান আলোচক বাউফল পৌর বিএনপি সভাপতি মোঃ হুমায়ুন কবির বলেন, “অক্সিজেন ছাড়া যেমন বাতাসের মূল্য নেই তেমন সততা ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হওয়ারও মূল্য নেই। তোমরা যারা নবীন শিক্ষার্থী আছো তারা আগামী দিনের সম্পদ। মাদক বা সকল প্রকার অনৈতিক কাজ থেকে তোমরা তোমাদের বিরত রাখবা। তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।”

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আজমাইন সাকিব বলেন, “পটুয়াখালী জেলা থেকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকাই আমাদের মূল লক্ষ্য। নবীনদের অ্যাকাডেমিক ও ক্যারিয়ার বিষয়ক দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্যই এই আয়োজন।”

অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন বর্ষের জ্যেষ্ঠ ও নবীন শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা ও ক্যারিয়ার কর্মশালা শেষে এক আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

Continue Reading

top3

পবিপ্রবি ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের গবেষণাগার উদ্বোধন

Published

on

By

পবিপ্রবি প্রতিনিধি

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) -এর ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের শিক্ষা, গবেষণা ও ব্যবহারিক কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করার লক্ষ্যে একটি বিদ্যমান গবেষণাগারের সংস্কার ও আধুনিকায়ন (refurbished) এবং একটি নতুন আধুনিক গবেষণাগার উদ্বোধন করা হয়েছে।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের মাৎস্যবিজ্ঞান অনুষদের অভ্যন্তরে অবস্থিত পূর্বের ‘Seafood Processing, Quality and Safety Laboratory’-এর সংস্কার ও আধুনিকায়নকৃত অংশ এবং খামার ভবনে নবনির্মিত ‘Advanced Analytical Laboratory’ প্রধান অতিথি হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এ. বি. এম. সাইফুল ইসলাম এবং ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আতিকুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাব-প্রজেক্ট ম্যানেজার (SPM), HEAT-ATF Sub-project (PIN-13571) এবং , ফিশারিজ টেকনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এস. এম. হেমায়েত জাহান Seafood Processing, Quality and Safety Laboratory-এর উদ্বোধন করেন। পরবর্তীতে তিনি খামার ভবনে অবস্থিত Advanced Analytical Laboratory-এ যান। সেখানে তিনি ল্যাবটির নামফলক উন্মোচন ও ফিতা কাটার মাধ্যমে ল্যাবটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন এবং সংশ্লিষ্ট ল্যাব/প্রকল্পের ওয়েবসাইটও উদ্বোধন করেন |

উদ্বোধনের পর প্রধান অতিথি ও অতিথিবৃন্দ ল্যাবের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রফেসর ড. মো. মিজানুর রহমান ল্যাবে স্থাপিত ও ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত বিভিন্ন আধুনিক যন্ত্রপাতির কার্যক্রম, ব্যবহারিক গুরুত্ব এবং ভবিষ্যৎ গবেষণার সম্ভাবনা সম্পর্কে অতিথিদের অবহিত করেন। ল্যাবের প্রতিটি যন্ত্রের মাধ্যমে কি ধরনের নমুনা প্রস্তুত, বিশ্লেষণ ও গবেষণা করা যাবে—সে বিষয়েও তিনি বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন | পরে দোয়া ও মোনাজাতের মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক কল্যাণ ও সফলতা কামনা করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

Advanced Analytical Laboratory-তে গবেষণা ও নমুনা বিশ্লেষণের জন্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রপাতি ও সহায়ক সরঞ্জাম রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো ; Fluorescence fingerprinting instruments and Fourier Transform Infrared (FTIR) Spectroscopy. এছাড়াও আরো ১৫ টির মতো ইন্সট্রুমেন্ট ল্যাবরেটরীতে রয়েছে।

গবেষণার মূল লক্ষ্য ফ্লুরোসেন্স ফিঙ্গারপ্রিন্ট প্রযুক্তি
এই ল্যাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ গবেষণা লক্ষ্য হলো Fluorescence Fingerprint coupled with Chemometrics প্রযুক্তির মাধ্যমে সামুদ্রিক খাদ্য ও মৎস্যজাত পণ্যের গুণমান ও নিরাপত্তা বিশ্লেষণের জন্য দ্রুত, আধুনিক ও non-invasive পদ্ধতি উন্নয়ন করা।

উল্লেখ্য, এই গবেষণা কার্যক্রমের মাধ্যমে মাছ ও অন্যান্য seafood-এর freshness, quality, chemical changes, authenticity এবং বিভিন্ন quality/safety indicator দ্রুত মূল্যায়নের জন্য fluorescence signal ও chemometric modelling ব্যবহৃত হয় অর্থাৎ প্রচলিত পদ্ধতিতে সামুদ্রিক খাদ্য ও অন্যান্য জলজ খাদ্যপণ্যের গুণগত মান নির্ণয় এবং মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণ প্রক্রিয়া তুলনামূলকভাবে সময়সাপেক্ষ, শ্রমনির্ভর এবং জটিল। বিশেষ করে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে নমুনা প্রস্তুতকরণসহ বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে অনেক সময় এক থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে। এর বিপরীতে, ফিঙ্গারপ্রিন্টিংভিত্তিক আধুনিক বিশ্লেষণাত্মক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অল্প সময়ের মধ্যে নমুনার রাসায়নিক ও ভৌত বৈশিষ্ট্য বিশ্লেষণ করা সম্ভব। এ প্রযুক্তির মাধ্যমে মাত্র কয়েক সেকেন্ড থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্তকরণ করা যেতে পারে, যা প্রচলিত পদ্ধতির তুলনায় দ্রুত ও কার্যকর বিশ্লেষণের সুযোগ সৃষ্টি করে।

এছাড়াও, বিভিন্ন ধরনের অ্যাডাল্টার বা ভেজাল শনাক্তকরণের ক্ষেত্রেও ফিঙ্গারপ্রিন্টিং একটি কার্যকর ও সহজতর পদ্ধতি হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারে। তুলনামূলকভাবে সরল নমুনা প্রস্তুতির মাধ্যমে বিভিন্ন খাদ্যপণ্যে উপস্থিত অনাকাঙ্ক্ষিত উপাদান বা ভেজাল শনাক্ত করার সুযোগ থাকায় খাদ্যের গুণগত মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে এ প্রযুক্তির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সামগ্রিকভাবে, দ্রুততা, কম শ্রমের প্রয়োজনীয়তা এবং সহজ বিশ্লেষণ পদ্ধতির কারণে ফিঙ্গারপ্রিন্টিং প্রযুক্তি সামুদ্রিক খাদ্য ও জলজ সম্পদভিত্তিক পণ্যের গুণগত মান নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে একটি সম্ভাবনাময় আধুনিক প্রযুক্তি।

Continue Reading

Trending