হলে আগুন, সাংবাদিক পরিচয় শুনে কল কেটে দিলেন প্রভোস্ট
জাককানইবি প্রতিনিধি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) দোলনচাঁপা হলে গ্যাসের চুলা থেকে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে আতঙ্কিত হয়ে মেঝেতে পড়ে এক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তথ্য জানতে সাংবাদিকরা হল প্রভোস্টের সঙ্গে যোগাযোগ করলে সাংবাদিক পরিচয় পাওয়ার পরপরই কল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে।
শনিবার (৭ নভেম্বর) বিকেল ৩টা ৪০ মিনিটের দিকে হলের তৃতীয় তলার ৩০৭ নম্বর কক্ষের উত্তর-পূর্ব কোণে এ ঘটনা ঘটে।
দোলনচাঁপা হলের হাউস টিউটর ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুমনা আক্তার সুমি জানান, হলের তৃতীয় তলার রান্নাঘরের গ্যাসলাইনের পাইপে লিকেজ থাকায় গ্যাস নির্গত হচ্ছিল। এ সময় এক শিক্ষার্থী রান্না করতে গেলে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়। আগুন দেখে আতঙ্কিত হয়ে ওই শিক্ষার্থী মেঝেতে পড়ে যান।
তিনি বলেন, “তাঁর কান্নাকাটি দেখে প্রথমে আমরা আশঙ্কা করেছিলাম, হয়তো তাঁর হাত ভেঙে গেছে। তবে সৌভাগ্যবশত তাঁর হাত ভাঙেনি এবং তিনি গুরুতর আহতও হননি।”
অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে বক্তব্য জানতে হল প্রভোস্ট ও ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক উম্মে ফারহার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করেন সাংবাদিকরা। তবে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পরপরই তিনি কল কেটে দেন। পরবর্তী সময়ে আবার যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, “আমি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলি না।”
পরবর্তী কথোপকথনে প্রভোস্ট জানান, ঘটনার সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। সরাসরি পরিস্থিতি না দেখে নির্ভরযোগ্য তথ্য দেওয়ার সুযোগ নেই। এ সময় হলের গ্যাসলাইন স্থাপন ও চুলার যন্ত্রাংশের বিষয়েও কথা বলেন তিনি।
হল প্রভোস্টের দাবি, দোলনচাঁপা হলে আগে গ্যাসের ব্যবস্থা ছিল না। ডাইনিং পরিচালনা নিয়ে জটিলতা তৈরি হওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে সম্প্রতি গ্যাসের সংযোগ দেওয়া হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, গ্যাসলাইন স্থাপনের এক বছরও হয়নি। ফলে চুলার যন্ত্রাংশ দীর্ঘদিন মেরামত না করার কারণে আগুন লাগার বিষয়ে মিস্ত্রির দেওয়া তথ্য তিনি নাকচ করেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোশাররফ হোসেন এ বিষয়ে বলেন, “আমি বর্তমানে ক্যাম্পাসে অবস্থান করছি না। তবে দায়িত্বশীল পদে থেকে এ ধরনের আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। ক্যাম্পাসে ফিরে এ বিষয়ে খোঁজখবর নেব এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব"
উল্লেখ্য, এর আগে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি দোলনচাঁপা হলের ৪০৬ নম্বর কক্ষে এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে জুনিয়র রুমমেটকে মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষার্থীর বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাংবাদিকরা হল প্রভোস্ট উম্মে ফারহার সঙ্গে যোগাযোগ করলে সেসময়ও তাঁর বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ ওঠে।
তখন কথোপকথনে তিনি বলেছিলেন, “আমি অনেক কিছু জানি, যা আপনাদের বলব না। আপনাদের সাংবাদিকগিরি একধরনের ফাতরামি করা ছাড়া কিছুই না।”
খবরটি পড়ে আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া জানাতে বা খবর সংরক্ষণ করতে লগইন করুন · নতুন? অ্যাকাউন্ট খুলুন (বিনামূল্যে)
💬 মন্তব্য
✍️ মন্তব্য লিখুন… — মন্তব্য করতে বিনামূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুনএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
মন্তব্য লেখকের নিজস্ব মত, AllTimeNews-এর নয়। অশালীন, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিজ্ঞাপনমূলক মন্তব্য মুছে ফেলা হবে। · গোপনীয়তা / Datenschutz





