মূল অংশে যান
শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬ · ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ · ২৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি ✍️ Blog / Citizen Journalism👤 লগইন
ব্রেকিং
ফিচার

‘স্যরি’ শব্দের জন্ম যেভাবে

দৈনন্দিন কথোপকথনে বহুল ব্যবহৃত ‘সরি’ শব্দটির অর্থ ও ব্যবহার সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে।

অলটাইম নিউজ ডেস্ক প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৭:৪১ পূর্বাহ্ণ · আপডেট: ৭ নভেম্বর ২০২৬, ৮:৫১ অপরাহ্ণ · ২ মিনিটে পড়ুন
‘স্যরি’ শব্দের জন্ম যেভাবে
ছবি: সংগৃহীত

কাউকে কষ্ট দিলে, ভুল করলে কিংবা অনিচ্ছাকৃতভাবে কারও মনে আঘাত দিলে আমরা সাধারণত একটি ছোট শব্দ ব্যবহার করি—‘সরি’। কখনো এটি অনুশোচনা প্রকাশ করে, কখনো অন্যের দুঃখে সমবেদনা জানায়, আবার কখনো নিজের ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাওয়ার মাধ্যম হয়ে ওঠে। শব্দটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এতটাই পরিচিত অংশ যে, এর পেছনে থাকা দীর্ঘ ইতিহাস নিয়ে খুব কম মানুষই ভাবেন। অথচ একসময় ‘সরি’ শব্দটির অর্থ সরাসরি ক্ষমা চাওয়া ছিল না।

ইংরেজি ‘Sorry’ শব্দটির উৎপত্তি প্রাচীন ইংরেজি ‘Sarig’ শব্দ থেকে। সে সময় এর অর্থ ছিল দুঃখিত, ব্যথিত কিংবা মানসিকভাবে কষ্ট পাওয়া। অর্থাৎ, শব্দটি মূলত অন্যের কাছে ক্ষমা চাওয়ার জন্য নয়, বরং নিজের ভেতরের দুঃখ, যন্ত্রণা ও বেদনা প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হতো। ইংরেজি ‘Sore’ শব্দের সঙ্গেও এর ভাষাগত সম্পর্ক রয়েছে। ‘Sore’ বলতে সাধারণত শারীরিক ব্যথা, ক্ষত বা যন্ত্রণা বোঝানো হয়। দুটি শব্দের মধ্যেই কষ্ট ও বেদনার ধারণা রয়েছে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ‘Sorry’ শব্দটির অর্থ ও ব্যবহার পরিবর্তিত হতে থাকে। দ্বাদশ শতকের দিকে শব্দটি অনুশোচনা, অপরাধবোধ এবং কোনো ঘটনার জন্য মানসিকভাবে দুঃখিত হওয়ার অর্থে ব্যবহৃত হতে শুরু করে। অর্থাৎ, কেউ কোনো ভুল করলে বা অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটলে তার জন্য নিজের দুঃখ ও অনুতাপ প্রকাশের ক্ষেত্রে শব্দটির ব্যবহার বাড়তে থাকে।

পরবর্তী সময়ে শব্দটি শুধু নিজের কষ্ট প্রকাশের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি। অন্য কেউ কষ্ট পেলে তার প্রতি সহমর্মিতা জানানো এবং নিজের ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়ার ভাষা হিসেবেও এটি প্রতিষ্ঠিত হয়। যেমন, কারও প্রিয়জন মারা গেলে ‘I am sorry’ বলে সমবেদনা জানানো হয়। আবার নিজের কোনো ভুলের জন্যও একই শব্দ ব্যবহার করে অনুশোচনা প্রকাশ করা হয়। অর্থাৎ, পরিস্থিতি অনুযায়ী শব্দটি কখনো সহমর্মিতা, কখনো অনুশোচনা, আবার কখনো ক্ষমা প্রার্থনার অর্থ বহন করে।

অনলাইন ব্যুৎপত্তি অভিধান Etymonline-এর তথ্য অনুযায়ী, ‘I am sorry’ না বলে শুধু ‘Sorry’ ব্যবহার করে ক্ষমা চাওয়ার প্রচলন শুরু হয় ১৮৩৪ সালের দিকে। এর মধ্য দিয়ে শব্দটির ব্যবহার আরও সংক্ষিপ্ত ও সহজ হয়ে ওঠে। ধীরে ধীরে কথোপকথনে একক শব্দ হিসেবেই ‘Sorry’ ক্ষমা চাওয়ার স্বাভাবিক প্রকাশে পরিণত হয়।

ভাষার বিবর্তনের এই ইতিহাস দেখায়, একটি শব্দের অর্থ ও ব্যবহার সময়ের সঙ্গে কীভাবে বদলে যেতে পারে। যে শব্দ একসময় নিজের মনের দুঃখ ও যন্ত্রণা প্রকাশের জন্য ব্যবহৃত হতো, সেটিই পরবর্তী সময়ে অন্যের কাছে ক্ষমা চাওয়া কিংবা সমবেদনা জানানোর গুরুত্বপূর্ণ ভাষায় পরিণত হয়েছে।

তবে ‘সরি’ বলা শুধু একটি শব্দ উচ্চারণের বিষয় নয়। আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশের সঙ্গে নিজের ভুলের দায় স্বীকার করা এবং প্রয়োজনে সেই ভুল সংশোধনের চেষ্টাও জড়িত। তাই ছোট্ট এই শব্দটির গুরুত্ব কেবল ভাষায় নয়, মানুষের পারস্পরিক সম্পর্ক ও অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রেও অনেক বেশি।

খবরটি পড়ে আপনার প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে বা খবর সংরক্ষণ করতে লগইন করুন · নতুন? অ্যাকাউন্ট খুলুন (বিনামূল্যে)

💬 মন্তব্য

✍️ মন্তব্য লিখুন… — মন্তব্য করতে বিনামূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন
আগে থেকেই অ্যাকাউন্ট আছে? লগইন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

মন্তব্য লেখকের নিজস্ব মত, AllTimeNews-এর নয়। অশালীন, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিজ্ঞাপনমূলক মন্তব্য মুছে ফেলা হবে। · গোপনীয়তা / Datenschutz