কে আপনাকে মনে মনে অপছন্দ করে? আচরণেই বুঝবেন যেভাবে
কেউ আপনাকে মনে মনে অপছন্দ করেন কি না, তা সব সময় সরাসরি বোঝা যায় না। বিশেষ করে কর্মক্ষেত্র বা সামাজিক পরিবেশে অনেকেই নিজেদের অপছন্দের বিষয়টি প্রকাশ করেন না। তবে মনোবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের চোখের দৃষ্টি, মুখের অভিব্যক্তি ও শারীরিক ভাষায় কিছু সূক্ষ্ম সংকেত থাকতে পারে, যা তার মনোভাব সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাময়িকী ‘বিবিসি সায়েন্স ফোকাস’-এর এক প্রতিবেদনে এমন পাঁচটি আচরণের কথা তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন স্বাস্থ্য মনোবিজ্ঞানী অ্যাবি জর্ডান। তাঁর মতে, এসব আচরণ এককভাবে কারও অপছন্দের নিশ্চিত প্রমাণ নয়। তবে একই ব্যক্তির মধ্যে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে একাধিক লক্ষণ বারবার দেখা গেলে বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া যেতে পারে।
১. চোখে চোখ রেখে কথা বলতে চান না
কথা বলার সময় মানুষ সাধারণত যার প্রতি আগ্রহী বা যার সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করে, তার দিকে বেশি তাকায়। অন্যদিকে, কেউ যদি বারবার চোখ সরিয়ে নেন, ঘরের বিভিন্ন দিকে তাকান কিংবা চোখে চোখ রেখে কথা বলা এড়িয়ে চলেন, তাহলে তা আপনার সঙ্গে মানসিক দূরত্বের ইঙ্গিত হতে পারে।
২. মুখের অভিব্যক্তিতে বিরক্তি বা অবজ্ঞা প্রকাশ পায়
মানুষের মুখের অভিব্যক্তি অনেক সময় তার মনের অবস্থার প্রকাশ ঘটায়। বিশেষ করে ঠোঁটের এক পাশ সামান্য উঁচু করে বাঁকানো বা বিদ্রূপাত্মক হাসি অবজ্ঞার পরিচিত অভিব্যক্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এ ধরনের অভিব্যক্তি অন্য ব্যক্তিকে তুচ্ছ করা, নিজেকে শ্রেষ্ঠ মনে করা কিংবা তার কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখার মনোভাব প্রকাশ করতে পারে। একইভাবে ঘৃণা বা বিতৃষ্ণার অভিব্যক্তিও অনাগ্রহের ইঙ্গিত দিতে পারে।
৩. আপনার সামনে কম হাসেন
হাসি মানুষের মধ্যে আন্তরিকতা ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। সাধারণত হাসিমুখের মানুষকে অন্যরা সহজে গ্রহণ করেন এবং তাঁর প্রতি আস্থাশীল বোধ করেন।
কেউ যদি অন্যদের সঙ্গে হাসিখুশি থাকেন, কিন্তু আপনার সঙ্গে কথা বলার সময় তুলনামূলক কম হাসেন, তাহলে তা আপনার প্রতি তাঁর আন্তরিকতা বা সামাজিক উষ্ণতা কম থাকার ইঙ্গিত হতে পারে।
৪. কথা বললেও শরীর থাকে অন্যদিকে ফেরানো
কেউ আপনার সঙ্গে কথা বলছেন, কিন্তু তাঁর শরীর বা পায়ের দিক অন্যদিকে ঘোরানো—এমন আচরণও লক্ষ করার মতো।
মানুষ সাধারণত যাদের সঙ্গে কথা বলতে বা মিশতে আগ্রহী, তাদের দিকে শরীর ঘুরিয়ে রাখে। বিপরীতে, শরীর অন্যদিকে ফেরানো অনাগ্রহ, কথোপকথন থেকে সরে যাওয়ার ইচ্ছা কিংবা মানসিক দূরত্বের ইঙ্গিত দিতে পারে।
৫. শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখেন
মানুষ ব্যক্তিগত পরিসর বা শারীরিক দূরত্বের মাধ্যমেও অন্যদের সঙ্গে সম্পর্কের ধরন প্রকাশ করে। যারা একে অপরের সঙ্গে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন, তাঁরা সাধারণত কাছাকাছি থাকতে পারেন। অন্যদিকে, সম্পর্কের ঘনিষ্ঠতা কম হলে শারীরিক দূরত্ব বেশি থাকতে পারে।
তাই কেউ যদি নিয়মিত আপনার কাছ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করেন, কাছে বসতে না চান কিংবা কথোপকথনের সময় দূরত্ব বজায় রাখেন, তাহলে তা আপনার সঙ্গে সামাজিক দূরত্বের ইঙ্গিত হতে পারে।
একটি লক্ষণ দেখেই সিদ্ধান্ত নয়
তবে কারও আচরণ দেখে তিনি আপনাকে অপছন্দ করেন—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। চোখে চোখ না রাখা, কম হাসা কিংবা শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার পেছনে অন্য কারণও থাকতে পারে। ক্লান্তি, লাজুক স্বভাব, উদ্বেগ, মনোযোগের অভাব, স্নায়বিক বৈচিত্র্য কিংবা সাংস্কৃতিক পার্থক্যের কারণেও মানুষের আচরণে এসব লক্ষণ দেখা যেতে পারে।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, একটি বিচ্ছিন্ন অঙ্গভঙ্গির চেয়ে বিভিন্ন পরিস্থিতিতে একাধিক আচরণের ধারাবাহিক উপস্থিতি বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই কেউ আপনাকে অপছন্দ করেন কি না, তা বোঝার জন্য নির্দিষ্ট কোনো তালিকার ওপর নির্ভর না করে তাঁর সামগ্রিক আচরণের ধরন পর্যবেক্ষণ করাই ভালো।
সূত্র: বিবিসি সায়েন্স ফোকাস
খবরটি পড়ে আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া জানাতে বা খবর সংরক্ষণ করতে লগইন করুন · নতুন? অ্যাকাউন্ট খুলুন (বিনামূল্যে)
‘স্যরি’ শব্দের জন্ম যেভাবে
১৪ ঘণ্টা আগে💬 মন্তব্য
✍️ মন্তব্য লিখুন… — মন্তব্য করতে বিনামূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুনএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
মন্তব্য লেখকের নিজস্ব মত, AllTimeNews-এর নয়। অশালীন, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিজ্ঞাপনমূলক মন্তব্য মুছে ফেলা হবে। · গোপনীয়তা / Datenschutz




