মূল অংশে যান
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ · ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ · ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
ব্রেকিং
সারাদেশ

যশোরে ৫০৩ একর জমিতে ইপিজেড, ক্ষতিপূরণ পাননি ৭০ শতাংশ মালিক

অলটাইম নিউজ ডেস্ক প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৫০ অপরাহ্ণ · আপডেট: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৯:৫৮ পূর্বাহ্ণ · ৩ মিনিটে পড়ুন
যশোরে ৫০৩ একর জমিতে ইপিজেড, ক্ষতিপূরণ পাননি ৭০ শতাংশ মালিক
যশোরে ৫০৩ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে দেশের অন্যতম বৃহৎ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড)। ছবি: সংগৃহীত

যশোরের অভয়নগরে ৫০৩ একর জমির ওপর গড়ে উঠছে রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা (ইপিজেড)। ৪৩৮টি শিল্প প্লটে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে গড়ে উঠতে যাওয়া এ প্রকল্পে বিপুল কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা থাকলেও জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ নিয়ে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

জমির মালিকদের অভিযোগ, অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরুর প্রায় তিন বছর পরও ৭০ শতাংশ মালিক ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি। এ ছাড়া সরকারি হিসাবে জমির যে মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে, তা বর্তমান বাজারদরের তুলনায় কম হওয়ায় ক্ষতিপূরণের অর্থ দিয়ে সমপরিমাণ জমি কেনা সম্ভব হচ্ছে না বলেও দাবি তাদের।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, যশোর ইপিজেডের জন্য জমি অধিগ্রহণে জেলা প্রশাসনকে ২৬৬ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা জমির প্রায় ১ হাজার ৬০০ মালিক ক্ষতিপূরণের আওতায় রয়েছেন। জমির দখল বুঝে নিয়ে প্রকল্পের উন্নয়নকাজও শুরু হয়েছে।

জমির মালিকদের ভাষ্য, এখন পর্যন্ত প্রায় ৩০ শতাংশ মালিক ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়েছেন। বাকিদের অনেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও বিভিন্ন জটিলতা সমাধানের জন্য জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ঘুরছেন।

বনগ্রামের মহাসীন আলী, আনোয়ার সরদার, আমিনুল ইসলাম, আজিমুল ইসলাম, কৃপা মালো এবং প্রেমবাগের বাবুল হোসেনসহ কয়েকজন জমির মালিক বলেন, ক্ষতিপূরণ হিসেবে যে অর্থ দেওয়া হচ্ছে, তা দিয়ে আশপাশে এক বিঘা জমিও কেনা সম্ভব হচ্ছে না।

তাদের দাবি, ফসলি জমি ও বসতভিটা হারিয়ে নতুন করে জীবন শুরু করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই জমির প্রকৃত বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্ষতিপূরণ পুনর্নির্ধারণ এবং দ্রুত অর্থ পরিশোধের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

তবে ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা বলছেন, আইন অনুযায়ীই ক্ষতিপূরণের মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে।

যশোর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ও ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা বাসুদেব কুমার মালো বলেন, সংশ্লিষ্ট মৌজায় গত ১২ মাসে নিবন্ধিত জমির দলিলের গড় মূল্যের ভিত্তিতে অধিগ্রহণ করা জমির মূল্য নির্ধারণ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে জমি নিবন্ধনের সময় কর কমানোর জন্য প্রকৃত বাজারমূল্যের চেয়ে কম দাম দলিলে উল্লেখ করা হয়। সেই দলিলের গড় মূল্য ধরে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করায় বাজারদরের সঙ্গে পার্থক্য তৈরি হয়।

তিনি জানান, আইন অনুযায়ী নির্ধারিত মূল্যের ওপর অতিরিক্ত ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরও বাজারমূল্যের সঙ্গে ব্যবধান থেকে যেতে পারে। এরই মধ্যে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ জমির মালিক ক্ষতিপূরণের টাকা পেয়েছেন এবং অন্যদের অর্থ পরিশোধের প্রক্রিয়াও চলমান।

বড় বিনিয়োগের সম্ভাবনা

যশোরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির পর ২০২৩ সালের ৯ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় যশোর ইপিজেড প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়। বাংলাদেশ রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এতে ব্যয় ধরা হয়েছে ১ হাজার ৬৪২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বর প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সংশ্লিষ্টদের ধারণা, ইপিজেড পুরোপুরি চালু করে বিনিয়োগকারীদের উৎপাদনে যেতে ২০২৭ সালের শেষ নাগাদ সময় লাগতে পারে।

প্রকল্প এলাকায় ৪৩৮টি শিল্প প্লট তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ২০০টি প্লট বরাদ্দের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি যৌথ বিনিয়োগের পাশাপাশি শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে বিভিন্ন শিল্পকারখানা স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী, যশোর ইপিজেড দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে পারে। মূল কারখানাগুলোতে প্রায় দেড় লাখ মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থান এবং পরিবহন, লজিস্টিকস ও আবাসনসহ সংশ্লিষ্ট খাতে আরও প্রায় তিন লাখ মানুষের আয়ের সুযোগ তৈরির প্রত্যাশা রয়েছে।

যোগাযোগব্যবস্থার দিক থেকেও প্রকল্পটিকে সম্ভাবনাময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। যশোর-খুলনা মহাসড়কের পাশে হওয়ায় সড়কপথে মোংলা বন্দরের সঙ্গে ইপিজেডের সরাসরি যোগাযোগ থাকবে। ইপিজেড থেকে মোংলা বন্দরের দূরত্ব প্রায় ৬০ থেকে ৬৫ কিলোমিটার। কাছেই রয়েছে চেঙ্গুটিয়া ও নওয়াপাড়া রেলস্টেশন। খুলনা-মোংলা রেলপথ ব্যবহার করে ভবিষ্যতে রেলপথেও পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে।

এ ছাড়া পদ্মা সেতুর কারণে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে যশোরের যোগাযোগ সহজ হয়েছে। নড়াইল-ভাঙ্গা হয়ে সড়ক ও রেলপথ ব্যবহার করে রাজধানী এবং দেশের প্রধান বন্দরগুলোর সঙ্গে পণ্য পরিবহনের সুযোগ রয়েছে। এতে কাঁচামাল আমদানি ও উৎপাদিত পণ্য রপ্তানিতে সময় ও পরিবহন ব্যয় কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

তথ্যসূত্র: এশিয়া পোস্ট