জন্মনিয়ন্ত্রণে যে কুসংস্কার!
ডাঃ মাহমুদা মিতু
স্থায়ী ভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ হারাম হলেও ইসলাম আপনাকে ১০ বছর মেয়াদি জন্মনিয়ন্ত্রণের ও অনুমতি দেয়। হাসপাতালে একদল মানুষকে কোনভাবেই জন্মনিয়ন্ত্রণে রাজী করানো যায় না। অথচ সিজারের সময় পেট খুলে দেখা যায় ভিতরের অবস্থা মারাত্মক খারাপ। অথবা পুরা প্রেগ্ন্যাসির টাইমে রক্তশূন্যতা অপুষ্টিতে ভুগে একটা আধামরা অপুষ্ট বাচ্চা জন্ম দিচ্ছে তাও তারা জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি নিয়ে নানা কুসংস্কারে ডুবে থাকে। ইসলামের মতো এতো সুন্দর ধর্মের নিয়মকানুন পৃথিবীতে আছে কিনা জানিনা। যে হারে সিজার বাড়ছে এতে পরবর্তীতে আমার ধারণা উলামায়ে একরামরা ৪ /৫ সিজারের পরে লাইগেশনেও একমত হতেও পারে। জাস্ট ধারণা এবং প্রয়োজন থেকে বললাম।
হয়তো কোন ডাক্তার মায়েদের কন্ডিশন বোঝালে তারাও বুঝবেন। কারণ সময়ের সাথে পরিবেশের সাথে ইসলামের অনেক নিয়ম ও চেঞ্জ হয়েছে। না হলেও কোন দরকার নেই স্থায়ী পদ্ধতির, জাস্ট ১০,২০,৩০ বছর ও ইচ্ছা অনুযায়ী নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন। ইউটিউবে শায়েখ আহমদ উল্লাহ হুজুরের ভিডিও দেখে নিতে পারেন।
এত কথা বলার উদ্দেশ্য হলো- দেশে এমন একদল মানুষ বাচ্চা ধারণ করছেন যাদের শারিরীক অবস্থা এবং আর্থিক অবস্থা মারাত্মক শোচনীয়। এটা একটা দেশের জন্য দেশের মানুষের জন্য ক্ষতিকর। এরাই নানা রকম খারাপ কার্যকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। দেশে অন্যায় বাড়ছে। আর যাদের বাচ্চা পালন কিংবা শিক্ষিত করার স্বামর্থ্য আছে তারা কম বাচ্চা নিচ্ছে। মায়েদের শারিরীক অবস্থা এতটাই খারাপ এসব শ্রেণির মায়েরা অনেকেই মারাত্মক রক্তশূন্যতা সহ নানা রকম রোগে ভুগছে।
আর প্রত্যেকের একই কথা- “নিতে চাইনি ভুলে হয়ে গেছে”। একটা বাচ্চা সিজারের এক বছরের মাথায় আর একটা বাচ্চা এসে যাওয়া সেই মা এবং বাচ্চার জন্য কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। মা তো দাড়াঁনোরই সময় পেলোনা। সাথে যে বাচ্চা বুকের দুধ খাচ্ছে আর যে এসে খাবে সেও এটেনশন পেলো না। বাচ্চা নিয়ে প্লান জরুরি। একটা সুস্থ বাচ্চা সুস্থ সমাজ এবং সুস্থ পরিবার দেয়। পরিবারের শান্তির উৎস হয়। বাচ্চা আপনি ৫ টা নেন আপত্তি করার অধিকার আল্লাহ দেননি। কিন্তু আপনাকে মানুষের সাফারিংস দেখে সতর্ক না করলে , প্লানিং না শিখালে, তার জন্য আমি দায়ী থাকতেও পারি। দয়া করে নিজেকে প্রিপেয়ার করে সন্তান ধারণ করুন। ভুলে হয়ে গেছে এই চলমান প্রথা থেকে বেরিয়ে আসুন।






