রমজান এলেই কুমড়ার বেগুনি, কাঁঠালের বার্গারের মতো রেসিপি দিতেন যিনি
রমজান আসলেই যেখানে অন্যান্য দেশে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সহনীয় রাখা হয়, সেখানে বাংলাদেশে প্রতিবছর রমজান উপলক্ষে জিনিশপত্রের দাম কয়েকগুণ বৃদ্ধি পায়। প্রতিবছরের মতো এবারও বেড়েছে লেবুর দাম, বেগুণের দাম ও সাধ্যের বাইরে।
আওয়ামী সরকারের আমলেও নিত্যপণ্যের এমন উচ্চমূল্য দেখা গেছে। তবে সে সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জনগণের প্রতি সহানুভূতিশীল তো হন নি, বরং সবজির দাম বাড়লে দিতেন বিকল্প পরামর্শ। শেখ হাসিনার এমন উদ্ভট রেসিপি দেখে তখন নেটিজেনরা তাকে ডাকতেন "রেসিপি আপা" নামে।
২০২০ সালের রমজানে বেগুনের দাম বেশি থাকায় তিনি সংসদে বলেছিলেন, "বেগুন দিয়ে বেগুন না খেয়ে অন্যান্য কম দামী সবজি দিয়ে বেগুন খাওয়ার জন্য।"
তিনি আরও বলেন, "মিষ্টি কুমড়া দিয়েও অনেক সুস্বাদু বেগুনী বানানো যায় এবং তারা নাকি এভাবেই খায়।" এদিকে মাংসের দাম বাড়ার সময় তিনি মাংসের পরিবর্তে কাঁঠাল খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
২০১৯ সালে পেঁয়াজের দাম বেড়ে গেলে তিনি বলেছিলেন, "পেঁয়াজ ছাড়াও রান্না হয়।" তিনি আরও বলেন, "তিনি পেঁয়াজ ছাড়াই রান্না করেন।" বর্ষাকালে কাঁচামরিচের দাম বাড়লে তিনি বলেছিলেন, কাঁচা মরিচ সস্তায় পাওয়া গেলে শুকিয়ে রাখতে এবং পরে সেই শুকনা মরিচে পানি ছিটিয়ে ব্যবহার করতে।
ডিমের দাম বাড়ার সময় তিনি বলেন, "ডিম সেদ্ধ করে ডিপ ফ্রিজে রেখে দেবেন। অনেক দিন ভালো থাকবে।"
এদিকে এবারের রমজানেও নিত্যপণ্যের দামে স্থিতি আসেনি। শীতের সবজি পুরোপুরি বাজার থেকে ওঠেনি, তবে দাম বেশি। ঢাকার কারওয়ান বাজারে ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৪০-৫০ টাকার বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে তিন ধরনের লেবু বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের এক হালি ৬০ টাকা, মাঝারি ৮০ টাকা এবং বড় সাইজের ৪টি ৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গতকাল এই তিন ধরনের লেবু ১০০ থেকে ১২০ টাকা দামে বিক্রি হয়েছিল। ফলে এক দিনের ব্যবধানে এক হালি লেবুর দাম ২০ থেকে ৩০ টাকা কমেছে।
বেগুনের দাম কিছুটা কমলেও এখনও ১০০ টাকার বেশি। মোটা কালো লম্বা বেগুন ১০০ থেকে ১২০ টাকা কেজি এবং লম্বা কালো চিকন বেগুন ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। বেগুনি তৈরিতে চিকন বেগুনের চাহিদা বেশি থাকায় এর দাম তুলনামূলক বেশি। রোজা শুরুর আগে চিকন বেগুনের তুলনায় মোটা বেগুনের দাম বেশি ছিল।
কাঁচামরিচের দামও দিনে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কমে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি হয়েছে। গতকাল রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে কাঁচামরিচ ২০০ থেকে ২২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। সবচেয়ে কম দামে বিক্রি হচ্ছে আলু, প্রতি কেজি ২০ টাকা। কোথাও কোথাও ভ্যানে ৬ কেজি আলু ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। করলা ১২০ টাকা, বরবটি ৮০ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, লতি ৮০ টাকা এবং ধুন্দুল ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁপে ৪০-৫০ টাকা, গাজর ৩০-৪০ টাকা, কচুরমুখী ৮০ টাকা, শিম ৭০-৮০ টাকা এবং শালগম ৪০-৫০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে।




