মূল অংশে যান
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ · ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ · ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
ব্রেকিং
রাজনীতি

সাত দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু, গন্তব্য কুষ্টিয়া

শনিবার সকালে বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে যাত্রা শুরু করে পথে ছয়টি স্থানে পথসভা শেষে, রাতে কুষ্টিয়ায় সমাপনী জনসভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

অলটাইম নিউজ ডেস্ক প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ৯:৫৫ পূর্বাহ্ণ · আপডেট: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৯:০০ পূর্বাহ্ণ · ৩ মিনিটে পড়ুন
সাত দফা দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যের লংমার্চ শুরু, গন্তব্য কুষ্টিয়া
ছবি: সংগৃহীত

সাত দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ঢাকা-খুলনা-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া লংমার্চ শুরু করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৮টা ২০ মিনিটে রাজধানীর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেট থেকে কর্মসূচির যাত্রা শুরু হয়।

এর আগে লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এইচএম হামিদুর রহমান আযাদের উদ্বোধনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে সমাবেশ শুরু হয়। এ সময় পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করেন ক্বারী বেলাল হোসেন।

সমাবেশে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, জনগণের দাবি আদায়ের লক্ষ্যেই এ লংমার্চের আয়োজন করা হয়েছে। অবিলম্বে সংবিধান সংস্কার কমিটি গঠন করে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করতে হবে। অন্যথায় ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন এলডিপির চেয়ারম্যান ও সাবেক মন্ত্রী কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এবং বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম ছোবহানী।

সাত দফা দাবিতে যা রয়েছে

১১ দলীয় ঐক্যের সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে গণভোটের রায়ের আলোকে আইনি প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংস্কার, দেশের অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ।

এ ছাড়া বিদ্যুৎ, জ্বালানি, গ্যাস ও সারের সংকট নিরসন; প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ বন্ধ; দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচার সম্পন্ন করার দাবি জানানো হয়েছে।

যেসব পথ দিয়ে যাবে লংমার্চ

এর আগে শুক্রবার জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে লংমার্চের প্রস্তুতি ও কর্মসূচির বিস্তারিত তুলে ধরেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তিনি জানান, সকাল ৮টায় গাড়িবহর যাত্রা শুরু করবে। শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ফরিদপুরের ভাঙ্গা, গোপালগঞ্জ ও বাগেরহাটের ফকিরহাট হয়ে রূপসা সেতু দিয়ে খুলনায় প্রবেশ করবে বহর। এরপর যশোর ও ঝিনাইদহ পেরিয়ে কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে গিয়ে সমাপনী জনসভায় অংশ নেবে।

পথে ছয়টি স্থানে পথসভা আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, সকাল ৯টায় শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবা, সকাল ১১টায় বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়, দুপুর সাড়ে ১২টায় খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বর এবং দুপুর ২টায় ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে পথসভা অনুষ্ঠিত হবে।

এ ছাড়া বিকেল সাড়ে ৩টায় যশোরের মুড়লীর মোড় এবং বিকেল ৫টায় ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে পথসভা হওয়ার কথা রয়েছে। সবশেষে রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়ার শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়ামে সমাপনী জনসভা অনুষ্ঠিত হবে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার জানান, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারসংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধের দাবিতে এ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন ও দলীয়করণ বন্ধের দাবিও রয়েছে।

জনগণের সাত দফা দাবি আদায় এবং সরকারের ব্যর্থতা ও প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের প্রতিবাদে এটি ১১ দলীয় ঐক্যের তৃতীয় দফার লংমার্চ। ঢাকা থেকে খুলনা, যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া পর্যন্ত প্রায় ৪১০ কিলোমিটার দীর্ঘ এ কর্মসূচিকে আগের দুটি লংমার্চের তুলনায় সবচেয়ে বড় বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

লংমার্চের কারণে মহাসড়কে সাধারণ মানুষের যাতায়াত ও ব্যবসা-বাণিজ্যে সাময়িক অসুবিধা হতে পারে বলে দুঃখ প্রকাশ করেছেন মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি জানান, সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে মহাসড়কের একটি পাশ ব্যবহার করে কর্মসূচি পরিচালনার চেষ্টা করা হবে।