যেভাবে ‘স্বৈরাচার’ হয়ে ওঠে ওরা
ক্রিকেট কি এখনো খেলা আছে, নাকি এটি ভারতের একচেটিয়া বাণিজ্যের একটি ‘পণ্য’ মাত্র? যে খেলাটির মূল মন্ত্র ছিল ‘জেন্টলম্যানস গেম’, আজ তা বিসিসিআই-এর টাকার থলে আর রাজনৈতিক কূটচালের কাছে বন্দি।
আইসিসি এখন আর কোনো স্বাধীন সংস্থা নয়, বরং এটি ভারতের স্বার্থরক্ষাকারী একটি আজ্ঞাবহ দপ্তরে পরিণত হয়েছে। ক্রিকেটবিশ্বে এখন যা চলছে, তাকে ভদ্রভাষায় ‘আধিপত্য’ বলা হলেও মূলত এটি একটি ‘ক্রিকেটীয় মাফিয়াতন্ত্র’।
এককালে ইংল্যান্ড বা অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট শাসন করলেও তারা অন্তত নিয়মের তোয়াক্কা করত। কিন্তু বর্তমান ভারত সেই নিয়মনীতিকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে আইসিসিকে বানিয়েছে তাদের হাতের পুতুল। আইসিসির প্রতিটি সিদ্ধান্তে এখন বিসিসিআই-এর সিলমোহর লাগে।
রাজস্ব বণ্টনের অদ্ভুত মডেল তৈরি করে সিংহভাগ টাকা ভারত নিজেদের পকেটে নিচ্ছে, আর বাকি দেশগুলো দয়ার পাত্র হিসেবে চেয়ে থাকছে। জয় শাহর আইসিসি সভাপতি হওয়ার পর এই ‘মাফিয়াতন্ত্রের’ কফিনে শেষ পেরেক ঠুকছে ভারত।
ক্রিকেটকে রাজনীতির উর্ধ্বে রাখার বুলি আওড়ানো ভারত আজ ক্রিকেটকে ব্যবহার করছে সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে। পাকিস্তানকে একঘরে করার পর ভারতের নজর এখন উদীয়মান শক্তি বাংলাদেশের দিকে।
মুস্তাফিজুর রহমানের মতো একজন বিশ্বমানের বোলারকে আইপিএল থেকে ছুড়ে ফেলা কেবল ক্রিকেটীয় সিদ্ধান্ত হতে পারে না। এটি মূলত একটি ‘কূটনৈতিক সংকেত’। ভারত চায় না তাদের প্রতিবেশী দেশের ক্রিকেটাররা বিশ্বমঞ্চে স্বনির্ভর হোক।
বরং তারা চায় সবাই যেন ভারতীয় অর্থের দাসের মতো আচরণ করে। আইপিএল এখন আর মেধার যাচাই নয়, বরং অনুগতদের পুরস্কৃত করার মঞ্চ।
আইসিসি ইভেন্টগুলোতে ভারতের সুবিধামতো পিচ তৈরি করা, বিভিন্ন দোহাই দিয়ে সূচি পরিবর্তন করা এবং আম্পায়ারের বিতর্কিত সিদ্ধান্তে ভারতের পক্ষ নেওয়া—এসব এখন নিয়মিত চিত্র।
মাঠের আম্পায়ার থেকে শুরু করে সম্প্রচারকারী ক্যামেরা, সবই যেন ভারতের ‘হোম কন্ডিশন’ নিশ্চিত করতে ব্যস্ত। তথাকথিত বিশ্বমঞ্চে ভারত এখন এমন এক প্রতিদ্বন্দ্বী, যাদের বিরুদ্ধে জিততে হলে কেবল ১১ জন খেলোয়াড় নয়, লড়তে হয় খোদ সিস্টেমের বিরুদ্ধে।
ক্রিকেট এখন আর প্রতিভা দিয়ে জেতা যায় না, এটি এখন ক্ষমতারও সমীকরণ। আইসিসি হলো সেই বিচারক যে বিবাদীর কাছ থেকেই সুবিধা নিচ্ছে!
যেভাবে একটি নির্দিষ্ট দেশ পুরো খেলার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে, তাতে ক্রিকেটের ‘গ্লোবাল’ তকমা আজ হাস্যকর। যদি ওয়ানডে, টি-টোয়েন্টি ও টেস্ট কেবল ভারতের ব্যবসায়িক লাভের জন্য আয়োজিত হয়, তবে বাকি দেশগুলোর ক্রিকেট খেলার প্রয়োজন কী? ক্রিকেটের এই ‘ভারতীয়করণ’ আসলে এই খেলাটিকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
অনেকেই আফসোসের সুরে বলেছেন, ক্রিকেট বোর্ডগুলো যদি এখনই এই একনায়কতন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে না দাঁড়ায়, তবে অচিরেই ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় এমন এক খেলা হিসেবে পরিচিত হবে, যা একটি দেশের দাপটে তার প্রাণ হারিয়েছ







