গত ৪ বছরে সড়ক দূর্ঘটনা কেড়ে নিয়েছে ববি'র ৪ প্রাণ
মাফিদুল হাসান, ববি
দক্ষিণাঞ্চলের সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠ খ্যাত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়। জ্ঞান অর্জনের কেন্দ্রবিন্দু হলেও এই ক্যাম্পাসের সংলগ্ন বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক এবং দপদপিয়া ব্রীজ যেন শিক্ষার্থীদের জন্য এক আতঙ্কের নাম।
গত চার বছরে পিচঢালা রাজপথে স্পিড ব্রেকারের অভাব, বেপরোয়া গণপরিবহন আর প্রশাসনিক উদাসীনতায় পিষ্ট হয়ে চিরতরে নিভে গেছে চার তরুণ প্রাণ। প্রতিটি দুর্ঘটনাই শুধু একটি নাম বা সংখ্যা নয়—একটি পরিবারের আজীবনের কান্নার গল্প।
মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষার্থী ইসমাইল ইমন ২০২২ সালের নভেম্বরে মহাসড়কে ঘটে যাওয়া মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান। তাঁর এই অকাল মৃত্যুতে প্রথম বড় ধাক্কা খায় পুরো ক্যাম্পাস।
ইমনের ক্ষত না শুকাতেই ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান মার্কেটিং বিভাগের আরেক উদীয়মান শিক্ষার্থী রাকিব হাসান রাফি।
২০২৪ সালের ৩০ অক্টোবর রাতে ক্যাম্পাসের সামনের মহাসড়কে দ্রুতগতির বাসের চাপায় পিষ্ট হন পরিসংখ্যান বিভাগের ২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের মেধাবী ছাত্রী মাইশা ফাওজিয়া মিম। রক্তে রঞ্জিত হয় ক্যাম্পাসের প্রধান ফটক।
আর সবশেষ গত ৯ আগস্ট সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান বাংলা বিভাগের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করা হলেও সঠিক সময়ে জরুরি চিকিৎসার ব্যবস্থা না হওয়ায় প্রাণ হারান তিনি।
এছাড়াও প্রায় প্রতিদিন প্রতিনিয়ত ঘটে চলছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে দপদপিয়া ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় আরো ছোটখাট সড়ক দুর্ঘটনা । ফলে বেড়ে যাচ্ছে আহতদের সংখ্যাও । প্রতিটি মৃত্যুর পর শিক্ষার্থীরা রাজপথে নেমেছেন, দাবি তুলেছেন, মহাসড়ক অবরোধ করেছেন। কিন্তু প্রতিশ্রুতির আশ্বাস মিললেও মেলেনি টেকসই নিরাপদ সড়কের সমাধান।
তালিকা আর কতটা দীর্ঘ হলে কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙবে? প্রশ্ন তুলেছেন সকল শিক্ষার্থী। অবিলম্বে মহাসড়কে ফুটপাত ও ওভারব্রিজ নির্মাণ, গতি নিয়ন্ত্রক স্থাপন এবং নিরাপদ বাস সার্ভিস নিশ্চিতের দাবি আজ প্রতিটি শিক্ষার্থীর।







