মূল অংশে যান
রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬ · ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ · ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
ব্রেকিং
ক্যাম্পাস

ইবিতে শিক্ষক নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক, সিদ্ধান্ত আজ

সাত প্রার্থীর মধ্যে একাডেমিক ফলাফলে সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকা প্রার্থীকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক। চার মাসের বেশি সময় ঝুলে থাকা বিষয়টি আজকের সিন্ডিকেট সভায় চূড়ান্ত হতে পারে।

অলটাইম নিউজ ডেস্ক প্রকাশ: ১ নভেম্বর ২০২৬, ২:০৩ অপরাহ্ণ · আপডেট: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৩:০৬ অপরাহ্ণ · ৩ মিনিটে পড়ুন
ইবিতে শিক্ষক নিয়োগ ঘিরে বিতর্ক, সিদ্ধান্ত আজ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)। সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আইসিটি বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তির পর সাতজন প্রার্থী আবেদন করেন। তাঁরা সবাই নিয়োগ বোর্ডে অংশ নেন এবং লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। তবে অন্য প্রার্থীদের ভাইভা থেকে বাদ দিয়ে ফিরোজা নাজনীনকে নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় গত ২৯ জুন অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৭৪তম সিন্ডিকেট সভায়।

সিদ্ধান্তটি নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে সিন্ডিকেটের এক সদস্য আপত্তি জানান। পরে সমালোচনা বাড়তে থাকায় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান প্রার্থীর আগের একাডেমিক ফলাফল যাচাইয়ে তিন সদস্যের একটি ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করেন। যাচাই-বাছাই শেষে কমিটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

সাত প্রার্থীর ফলাফলে কে কোথায়?

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সাত প্রার্থীর মধ্যে ফিরোজা নাজনীন একাডেমিক ফলাফলে সর্বনিম্ন অবস্থানে রয়েছেন। একটি রিটেক ও তিনটি মানোন্নয়ন পরীক্ষার পর তিনি স্নাতকে ৩.৫৯ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৬৪ সিজিপিএ অর্জন করেন। তাঁর এসএসসিতে জিপিএ ৫.০০ এবং এইচএসসিতে ৪.৮০।

অন্যদিকে, আবু রোম্মান রিফাত স্নাতকে ৩.৭৮ ও স্নাতকোত্তরে ৩.৯১ সিজিপিএ পেয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রার্থী খন্দকার তাসনিয়া হকের স্নাতকে সিজিপিএ ৩.৯২ এবং স্নাতকোত্তরে ৪.০০।

রাকিবুল ইসলাম-১ স্নাতকে ৩.৬৯ ও স্নাতকোত্তরে ৩.৭৯ এবং রাকিবুল ইসলাম-২ স্নাতকে ৩.৯৫ ও স্নাতকোত্তরে ৩.৮৮ সিজিপিএ অর্জন করেন। রাকিবুল ইসলাম-২ স্নাতকে অনুষদে প্রথম স্থানও অর্জন করেন।

এ ছাড়া শারমীন তাজরিয়া অনন্যার স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে সিজিপিএ যথাক্রমে ৩.৬৪ ও ৩.৭৯। মাসুদ রানার স্নাতকে ৩.৭২ এবং স্নাতকোত্তরে ৩.৭৯ সিজিপিএ রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফিরোজা নাজনীন ছাড়া বাকি ছয় প্রার্থীর থিসিস ছিল; তিনি ছিলেন নন-থিসিস শিক্ষার্থী।

আগের নিয়োগ পরীক্ষার ফল নিয়েও প্রশ্ন

ফিরোজা নাজনীনের আগের একটি নিয়োগ পরীক্ষার ফলাফল নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর সময়ে বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে তিনি লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেননি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ওই পরীক্ষায় ১০ জন প্রার্থী লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিলেন।

অন্যদিকে, বর্তমান উপাচার্যের প্রশাসনের প্রথম নিয়োগপ্রক্রিয়ায় আইসিটি বিভাগে ফিরোজা নাজনীন প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রের। দুটি ভিন্ন বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষায় তাঁর ফলাফলের পার্থক্য নিয়েও আলোচনা চলছে।

ফিরোজা নাজনীন বিএনপিপন্থি শিক্ষক সংগঠন জিয়া পরিষদের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক এবং আইসিটি বিভাগের অধ্যাপক ড. জাহিদুল ইসলামের স্ত্রী।

নিয়োগপ্রক্রিয়া নিয়ে একাধিক অভিযোগ

গত ১ জুলাই নিয়োগের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর থেকে ক্যাম্পাসে বিতর্ক চলছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভাগে পরীক্ষার ফল টেম্পারিং করে স্ত্রীর ফল বাড়ানো, পরপর দুইবার পরীক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পালন, নিয়োগ বোর্ডের আগে আবাসিক হোটেলে বিশেষজ্ঞের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং সাংবাদিকদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলো স্বাধীনভাবে প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্যও প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।

ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং কমিটির আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. রোকসানা মিলি বলেন, ‘আমরা ফ্যাক্টস ফাইন্ডিং করে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সিদ্ধান্ত নেবেন।’

এ বিষয়ে জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

চার মাসের বেশি সময় ধরে ঝুলে থাকা নিয়োগের বিষয়ে আজকের সিন্ডিকেট সভায় কী সিদ্ধান্ত আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।