ক্যালিফোর্নিয়ার শিশু সুরক্ষা আইন ঠেকাতে গুগল-মেটা-টিকটকের মামলা
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ১৬ বছরের কম বয়সী শিশুদের আসক্তি কমাতে ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন আইনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল, মেটা ও টিকটক। আইনটিকে অতিরিক্ত হস্তক্ষেপমূলক ও বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী দাবি করে প্রতিষ্ঠানগুলো বলেছে, শিশুদের জন্য কোনটি উপযোগী, সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার মা-বাবার।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো আদালত স্থগিতাদেশ না দিলে আগামী ১ জানুয়ারি থেকে ক্যালিফোর্নিয়ার নতুন আইনটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। আইনটির প্রয়োগ বন্ধের দাবিতে অঙ্গরাজ্যটির বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করেছে প্রতিষ্ঠানগুলো।
আইনি জটিলতা এড়াতে গুগল ক্যালিফোর্নিয়ার স্যান হোসে, মেটা স্যান ফ্রান্সিসকো এবং টিকটক লস অ্যাঞ্জেলেসের ফেডারেল আদালতে মামলা করেছে।
‘অ্যাসেম্বলি বিল ১৭০৯’ নামে পরিচিত আইনটিতে শিশুদের মানসিকভাবে আসক্ত করতে পারে—এমন বিভিন্ন ফিচার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী কনটেন্ট দেখানোর অ্যালগরিদম এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে একের পর এক ভিডিও চালু হওয়ার ‘অটোপ্লে’ ফিচার। পাশাপাশি, এসব ফিচার থাকা শিশুদের পুরোনো অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার বাধ্যবাধকতাও রাখা হয়েছে।
বুধবার দায়ের করা মামলায় প্রতিষ্ঠানগুলো দাবি করেছে, আইনটি কনটেন্ট উপস্থাপনায় অঙ্গরাজ্যটির নিজস্ব পছন্দ চাপিয়ে দিচ্ছে এবং সন্তানের সুরক্ষায় মা-বাবার সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা খর্ব করছে।
তাদের ভাষ্য, আইনটি মার্কিন সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে থাকা বাকস্বাধীনতার সুরক্ষা এবং ফেডারেল ‘কমিউনিকেশনস ডিসেন্সি অ্যাক্ট’-এর ২৩০ ধারার লঙ্ঘন। এই ধারা অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে ব্যবহারকারীদের প্রকাশ করা কনটেন্টের জন্য সরাসরি দায়বদ্ধতা থেকে সুরক্ষা দেয়।
বৃহস্পতিবার ক্যালিফোর্নিয়ার অ্যাটর্নি জেনারেল রব বোন্টার দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা মামলার নথিপত্র পর্যালোচনা করছে। অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তার স্বার্থে আইনটি সুরক্ষায় দপ্তরটি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
আইনের বিরোধিতা করে গুগলের মুখপাত্র হোসে কাস্তানেদা বলেন, পারিবারিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে মা-বাবাই সবচেয়ে উপযুক্ত। এ ধরনের অতিরিক্ত বিস্তৃত আইন শিশুদের জন্য বয়সোপযোগী ভিডিও খুঁজে পেতে গুগলের তৈরি প্ল্যাটফর্মকে বাধাগ্রস্ত করবে।
অন্যদিকে, মেটার দাবি, আইনটি তাদের কনটেন্ট বাছাই ও উপস্থাপনের সম্পাদকীয় সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করতে পারে। টিকটকও বলেছে, কোনো বিষয় আইনপ্রণেতাদের কাছে ক্ষতিকর মনে হলেই তরুণদের সুরক্ষার অজুহাতে বাকস্বাধীনতা বন্ধ করা যায় না।
তবে শুধু প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নয়, মুক্ত বাকস্বাধীনতা ও ডিজিটাল অধিকার নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনও আইনটির সমালোচনা করেছে। অলাভজনক ডিজিটাল অধিকার সংগঠন ইলেকট্রনিক ফ্রন্টিয়ার ফাউন্ডেশন আইনটিকে ‘প্রাইভেসি ও বাকস্বাধীনতার জন্য দুঃস্বপ্ন’ বলে বর্ণনা করেছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর বিলটিতে স্বাক্ষর করেন ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউসম। এ সময় তিনি বলেন, প্রযুক্তি নিয়ে যেকোনো আলোচনায় শিশুদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি অঙ্গরাজ্য শিশুদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। অস্ট্রেলিয়ায় ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পর বিশ্বের অন্যান্য দেশেও এ ধরনের বিধিনিষেধ জোরদারের উদ্যোগ চলছে।
খবরটি পড়ে আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া জানাতে বা খবর সংরক্ষণ করতে লগইন করুন · নতুন? অ্যাকাউন্ট খুলুন (বিনামূল্যে)
💬 মন্তব্য
✍️ মন্তব্য লিখুন… — মন্তব্য করতে বিনামূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুনএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
মন্তব্য লেখকের নিজস্ব মত, AllTimeNews-এর নয়। অশালীন, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিজ্ঞাপনমূলক মন্তব্য মুছে ফেলা হবে। · গোপনীয়তা / Datenschutz





