মূল অংশে যান
শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬ · ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ · ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি ✍️ Blog / Citizen Journalism👤 লগইন
ব্রেকিং
ক্যাম্পাস

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী আদিবাসী উৎসব অনুষ্ঠিত

অলটাইম নিউজ ডেস্ক প্রকাশ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ১১:১০ অপরাহ্ণ · আপডেট: ৬ নভেম্বর ২০২৬, ৬:০৯ অপরাহ্ণ · ৩ মিনিটে পড়ুন
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ে দিনব্যাপী আদিবাসী উৎসব অনুষ্ঠিত
আদিবাসী উৎসব

নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:

আদিবাসী জনগোষ্ঠীর বৈচিত্র্যময় শিল্প, সাহিত্য, ভাষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে উদ্‌যাপন করতে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে দিনব্যাপী ‘আদিবাসী উৎসব’। বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে এ উৎসবের আয়োজন করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের আদিবাসী শিক্ষার্থীদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের ‘ইভেন্ট ও প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট’ কোর্সের ব্যবহারিক পরীক্ষার অংশ হিসেবে উৎসবটির আয়োজন করা হয়। কোর্সটির তত্ত্বাবধানে ছিলেন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. মাজহারুল হোসেন তোকদার।

সকাল ১০টায় আদিবাসী নৃত্য ও সংগীত পরিবেশনার মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উৎসবের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইমদাদুল হুদা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. ইসমত আরা ভূইয়া ইলা।

উৎসবে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা জাতীয় পদক-২০২৫ প্রাপ্ত উন্নয়নকর্মী, লেখক ও গবেষক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, কবি ও সাহিত্যিক পরাগ রিসিল এবং বিরিশিরির পরিচালক প্রিংসন সাংমা। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

উদ্বোধনী পর্ব শেষে আমন্ত্রিত অতিথি ও শিক্ষকদের অংশগ্রহণে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি নিয়ে বিশেষ আড্ডার আয়োজন করা হয়। পাশাপাশি আমন্ত্রিত অতিথিদের জীবন-অভিজ্ঞতা, অনুভূতি ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গল্প নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ‘বহমান আমারও পদচিহ্ন’ শীর্ষক বিশেষ পর্ব।

বিকেলের আয়োজনেও ছিল বৈচিত্র্য। এতে আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা, মরমা রূপকথা নিয়ে গল্প বলার আসর এবং আদিবাসী শিক্ষার্থীদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক পরিবেশনা স্থান পায়। এ ছাড়া শব্দকুঞ্জ আবৃত্তি সংগঠন, ড্রামা চেম্বার, নজরুল ইউনিভার্সিটি ব্যান্ড মিউজিক সোসাইটি, বিশ্ববিদ্যালয়ের ডান্স ক্লাব এবং ষড়ঙ্গ ব্যান্ডের সদস্যরা সংগীত, নৃত্য ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন।

উৎসব উপলক্ষে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিভিন্ন স্টল স্থাপন করা হয়। এসব স্টলে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী খাবার, নিজস্ব সংস্কৃতি ও জীবনধারার নানা উপাদান তুলে ধরা হয়। ফলে উৎসব প্রাঙ্গণ হয়ে ওঠে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য ও ঐতিহ্য উপস্থাপনের মিলনমেলা।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, এ উৎসব কেবল একটি সাংস্কৃতিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আদিবাসী জনগোষ্ঠীর শিল্প, সাহিত্য, ভাষা, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের পরিচয় ঘটানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে ভিন্ন জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক স্বাতন্ত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধা, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং বহুত্ববাদী সমাজচর্চাকে এগিয়ে নিতে উৎসবটি ভূমিকা রাখবে।

আয়োজনের বিষয়ে কোর্স তত্ত্বাবধায়ক মো. মাজহারুল হোসেন তোকদার বলেন, “শিক্ষার্থীদের ব্যবহারিক কোর্সের অংশ হিসেবেই এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে। কোর্সের শুরু থেকেই আমরা বেশ কয়েকটি ধারণা নিয়ে কাজ করছিলাম। সেগুলো বিশ্লেষণ করে সমাজে কী ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, তা বিবেচনায় নিয়ে একপর্যায়ে আদিবাসী উৎসব আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আদিবাসী জনগোষ্ঠীর মানুষ নিজেদের এই পরিচয় দিতে গর্ববোধ করেন। তাঁদের সেই আত্মপরিচয় ও সংস্কৃতির প্রতি সংহতি প্রকাশের জায়গা থেকেই আমাদের এ আয়োজন। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা যেমন বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করবে, তেমনি একটি আয়োজনের পরিকল্পনা থেকে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে কাজ করার সক্ষমতাও বাড়বে।”

খবরটি পড়ে আপনার প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে বা খবর সংরক্ষণ করতে লগইন করুন · নতুন? অ্যাকাউন্ট খুলুন (বিনামূল্যে)

💬 মন্তব্য

✍️ মন্তব্য লিখুন… — মন্তব্য করতে বিনামূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন
আগে থেকেই অ্যাকাউন্ট আছে? লগইন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

মন্তব্য লেখকের নিজস্ব মত, AllTimeNews-এর নয়। অশালীন, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিজ্ঞাপনমূলক মন্তব্য মুছে ফেলা হবে। · গোপনীয়তা / Datenschutz