মধ্যবর্তী নির্বাচনে হারলে যে ক্ষমতাগুলো কমবে ট্রাম্পের
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টি কংগ্রেসের এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এতে তার প্রেসিডেন্ট পদ বা সাংবিধানিক নির্বাহী ক্ষমতা সরাসরি কেড়ে নেওয়া হবে না। তবে আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন, প্রশাসনিক নিয়োগ ও বিভিন্ন নীতি বাস্তবায়নে বাধা বাড়তে পারে।
মঙ্গলবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পরীক্ষা হিসেবে দেখা হচ্ছে। রিপাবলিকানদের অবস্থান দুর্বল হলে কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বাড়বে। একই সঙ্গে প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও তদন্তও জোরদার হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেট—দুই কক্ষ নিয়ে গঠিত। বর্তমানে উভয় কক্ষেই রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের ২১৮টি এবং ডেমোক্র্যাটদের ২১৪টি আসন। সিনেটে রিপাবলিকানদের আসন ৫৩টি, ডেমোক্র্যাটদের ৪৭টি।
তদন্ত ও নজরদারি বাড়তে পারে
প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও কর্মকাণ্ড নিয়ে কংগ্রেসের তদন্ত বাড়তে পারে। কমিটিগুলোর নেতৃত্ব পরিবর্তনের মাধ্যমে সরকারি ব্যয়, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত ও বিভিন্ন সংস্থার কার্যক্রম খতিয়ে দেখার সুযোগ পাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ দল।
কমিটিগুলো সরকারি নথি তলব এবং কর্মকর্তাদের শুনানিতে হাজির হওয়ার নির্দেশও দিতে পারে। এতে ট্রাম্পের মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের জবাবদিহি বাড়বে।
অভিশংসনের ঝুঁকি বাড়বে
প্রতিনিধি পরিষদ ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে গেলে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রক্রিয়া শুরুর ঝুঁকি বাড়তে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে অভিশংসনের অভিযোগ আনার ক্ষমতা প্রতিনিধি পরিষদের হাতে।
তবে প্রতিনিধি পরিষদে অভিশংসন প্রস্তাব পাস হলেই প্রেসিডেন্টকে পদ ছাড়তে হয় না। বিষয়টি সিনেটে বিচারপ্রক্রিয়ায় যায় এবং সেখানে দোষী সাব্যস্ত করে অপসারণ করতে উপস্থিত সিনেটরদের দুই-তৃতীয়াংশের সমর্থন প্রয়োজন।
বাজেট নিয়ে বাড়বে টানাপোড়েন
সরকারি দপ্তর পরিচালনা, প্রতিরক্ষা ও বিভিন্ন কর্মসূচির অর্থ বরাদ্দে কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেলে ট্রাম্প প্রশাসনের বাজেট প্রস্তাব নিয়ে দর-কষাকষি বাড়তে পারে।
কোনো কর্মসূচিতে অর্থ বরাদ্দে শর্ত আরোপ বা অর্থ আটকে দেওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হতে পারে। দুই পক্ষের মধ্যে সমঝোতা না হলে ২০২৭ সালে সরকারি অর্থায়ন নিয়ে অচলাবস্থা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে।
নিয়োগে বাধা তৈরি হতে পারে
ফেডারেল আদালত, সুপ্রিম কোর্ট এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে প্রেসিডেন্ট মনোনয়ন দিলেও অনেক ক্ষেত্রে সিনেটের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। সিনেট ডেমোক্র্যাটদের নিয়ন্ত্রণে গেলে ট্রাম্পের মনোনীত বিচারক ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের নিয়োগ আটকে দেওয়া বা প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত করার সুযোগ তৈরি হবে।
নতুন আইন পাস কঠিন হবে
ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নে নতুন আইন প্রয়োজন হলে তা কংগ্রেসে আটকে যেতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ডেমোক্র্যাটদের হাতে গেলে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত আইন পাস করা কঠিন হবে।
তবে প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা বহাল থাকবে। কোনো বিলে ভেটো দিলে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সমর্থন ছাড়া তা অতিক্রম করা সম্ভব নয়।
শুল্ক ও অভিবাসন নীতিতে চাপ
ট্রাম্পের শুল্কনীতি, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ ও পররাষ্ট্রনীতিও কংগ্রেসের সঙ্গে বিরোধের কারণ হতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ পেলে এসব বিষয়ে শুনানি, তদন্ত ও বাজেটসংক্রান্ত পদক্ষেপ নিতে পারবেন।
তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালেই ট্রাম্পের শুল্ক বা অভিবাসননীতি সরাসরি বাতিল হয়ে যাবে—এমন নয়। নির্বাহী বিভাগের অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা প্রেসিডেন্টের হাতেই থাকবে।
শেষ দুই বছর কঠিন হতে পারে
মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা এক বা উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ হারালে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ দুই বছর রাজনৈতিকভাবে কঠিন হয়ে উঠতে পারে। প্রতিনিধি পরিষদ হাতছাড়া হলে তদন্ত ও নজরদারি বাড়বে। সিনেট হারালে বিচারক ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তাদের নিয়োগে জটিলতা তৈরি হতে পারে। আর উভয় কক্ষ হারালে আইন প্রণয়ন, বাজেট অনুমোদন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে বড় বাধার মুখে পড়তে পারেন ট্রাম্প।
ব্রুকিংসের বিশ্লেষক উইলিয়াম গ্যালস্টনের মতে, প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ পেলে ডেমোক্র্যাটরা প্রশাসনের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি ও তদন্তের ক্ষমতা কাজে লাগাতে পারবেন। এতে হোয়াইট হাউসের সঙ্গে কংগ্রেসের বিরোধ আরও বাড়তে পারে।
সব মিলিয়ে, মধ্যবর্তী নির্বাচনে পরাজিত হলেও ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট পদ বা নির্বাহী ক্ষমতা তাৎক্ষণিকভাবে শেষ হবে না। তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারালে তার রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের পথ সংকুচিত হবে এবং প্রশাসনের ওপর বিরোধী দলের নজরদারি ও প্রভাব বাড়বে।
তথ্যসূত্র: রয়টার্স ও ব্রুকিংস
খবরটি পড়ে আপনার প্রতিক্রিয়া · ১ জন
প্রতিক্রিয়া জানাতে বা খবর সংরক্ষণ করতে লগইন করুন · নতুন? অ্যাকাউন্ট খুলুন (বিনামূল্যে)





