মূল অংশে যান
মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬ · ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ · ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি 👤 লগইন
ব্রেকিং
জাতীয়

তাহসিফের মৃত্যুতে দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততার সন্দেহ

দীপের রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, পরিকল্পিত হত্যার আশঙ্কা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অলটাইম নিউজ ডেস্ক প্রকাশ: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৮:১৪ অপরাহ্ণ · আপডেট: ৩ নভেম্বর ২০২৬, ৯:১৪ অপরাহ্ণ · ৩ মিনিটে পড়ুন
তাহসিফের মৃত্যুতে দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততার সন্দেহ
বাসার নিচে দীপের সঙ্গে তাহসিফ ও প্রয়াত তাহসিফ সাউরি।

বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কেএম তাহসিফ সাউরির মৃত্যুর ঘটনায় দেশি-বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততা থাকতে পারে বলে সন্দেহ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার তাহসিফের বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের দ্বিতীয় দফা রিমান্ড শুনানিতে এ আশঙ্কার কথা তুলে ধরেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসান শাহাদাতের আদালতে এ শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। তবে গোয়েন্দা সংস্থার সম্পৃক্ততার বিষয়টি এখনো অভিযোগ ও সন্দেহের পর্যায়ে রয়েছে।

পরিকল্পিত হত্যার আশঙ্কা রাষ্ট্রপক্ষের

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামছুদ্দোহা সুমন আদালতে বলেন, গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হন তাহসিফ। এরপর তাঁরা একটি বার ও রেস্তোরাঁয় যান। পরে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা হয়ে তুরাগ নদীর পাড়ে পৌঁছান। একপর্যায়ে তাঁরা আলাদা হয়ে যান এবং তাহসিফ নদীতে পড়ে যান বলে রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।

আইনজীবীর দাবি, তাহসিফ নিখোঁজ হওয়ার পর দীপের মধ্যে উদ্বেগ দেখা যায়নি এবং বিষয়টি তিনি কাউকে জানাননি। পরে তাঁকে হেফাজতে নিয়ে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। প্রথম দফার রিমান্ডে তিনি আংশিক তথ্য দিয়েছেন দাবি করে তাঁকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে রাষ্ট্রপক্ষ।

শামছুদ্দোহা সুমন আরও বলেন, এ ঘটনায় গ্রেপ্তার অন্য ব্যক্তিদের বক্তব্য ও দীপের দেওয়া তথ্যের মধ্যে কিছু মিল রয়েছে বলে তাঁদের মনে হচ্ছে। এ কারণে হত্যাকাণ্ডের পেছনে দেশি-বিদেশি কোনো গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পনা ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন।

শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও নিয়ে আগের সন্দেহ

এর আগে গত ৩১ অক্টোবর দীপের প্রথম দফা রিমান্ড শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার কারণে তাহসিফকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে।

তবে এ বক্তব্যও রাষ্ট্রপক্ষের সন্দেহের ভিত্তিতে দেওয়া। এ বিষয়ে তদন্তের চূড়ান্ত ফল বা আদালতে প্রমাণিত কোনো সিদ্ধান্তের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

দীপের আরও তিন দিনের রিমান্ড

চার দিনের প্রথম দফার রিমান্ড শেষে মঙ্গলবার দীপকে আদালতে হাজির করা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও টঙ্গী নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন তাঁকে আরও সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন। আবেদনে আটটি কারণ উল্লেখ করা হয়।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত দীপের আরও তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

যেভাবে উদ্ধার হয় তাহসিফের মরদেহ

তাহসিফ সাউরির ভাসমান মরদেহ গত ২৮ অক্টোবর বিকেলে তুরাগের রাজাবাড়ী ঘাট এলাকা থেকে উদ্ধার করে নৌ-পুলিশ। এর আগের দিন সন্ধ্যায় দীপের ডাকে বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তিনি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন সন্ধ্যায় দীপের সঙ্গে বের হওয়ার পর তাহসিফের আর খোঁজ পাওয়া যায়নি। ২৯ অক্টোবর দীপ জানিয়েছিলেন, একটি রেস্তোরাঁয় একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার পর উত্তরা হাউজবিল্ডিং এলাকায় তাঁরা আলাদা হয়ে যান।

দীপের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ৩০ অক্টোবর সকালে টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকা থেকে তাহসিফের মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। ওই এলাকায় তাহসিফের সঙ্গে যাওয়ার কথাও স্বীকার করেছিলেন দীপ। পরে পিবিআই কর্মকর্তারা তাঁকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এদিকে, একই মামলায় তাহসিফের বান্ধবী জেরিকা তাসনিম দিশাকে গত রোববার চার দিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত। ঘটনার দিন রাতে উত্তরার একটি বারে তাহসিফের সঙ্গে তাঁকে দেখা গিয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাহসিফের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এতে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষা রয়েছে।

খবরটি পড়ে আপনার প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে বা খবর সংরক্ষণ করতে লগইন করুন · নতুন? অ্যাকাউন্ট খুলুন (বিনামূল্যে)