মূল অংশে যান
বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬ · ২০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ · ২৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি ✍️ Blog / Citizen Journalism👤 লগইন
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম মুসলিম সিনেটর আবদুল আল-সাইয়েদ, জানুন তাঁর পরিচয়

অলটাইম নিউজ ডেস্ক প্রকাশ: ৪ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৩৯ অপরাহ্ণ · আপডেট: ৫ নভেম্বর ২০২৬, ৪:৫৬ অপরাহ্ণ · ৪ মিনিটে পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ। ছবি: দ্য মিশিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্ট
যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ। ছবি: দ্য মিশিয়ান ইন্ডিপেন্ডেন্ট

যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে দুই লক্ষাধিক ভোটের ব্যবধানে হারিয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল আল-সাইয়েদ। এর মধ্য দিয়ে দেশটির ইতিহাসে প্রথম মুসলিম আমেরিকান হিসেবে সিনেটে নির্বাচিত হয়েছেন তিনি।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডেট্রয়েট নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে মিশিগানের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের প্রতি জনসমর্থন যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ লড়াই হিসেবে দেখা হচ্ছিল। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অল্প ব্যবধানে মিশিগানে জয় পেয়েছিলেন ট্রাম্প।

৪২ বছর বয়সী আবদুল আল-সাইয়েদ মিশিগানের অ্যান আরবারের বাসিন্দা। তিনি ডেট্রয়েট ও ওয়েন কাউন্টির সাবেক জনস্বাস্থ্য কর্মকর্তা। মার্কিন রাজনীতিতে করপোরেট প্রভাব ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের সমালোচক হিসেবে পরিচিত তিনি। শ্রমিক ইউনিয়নের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ চালুর পক্ষে প্রচার চালিয়েছেন।

মিশরীয় বংশোদ্ভূত এই প্রগতিশীল রাজনীতিক অবসরপ্রাপ্ত ডেমোক্র্যাট সিনেটর গ্যারি পিটার্সের ছেড়ে দেওয়া আসনে জয়ী হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে তাঁর এই জয়কে গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

শৈশব ও শিক্ষা

মিশিগানের রচেস্টার হিলসে মিশরীয় অভিবাসী বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম আবদুল আল-সাইয়েদের। রাজনীতিতে আসার আগে চিকিৎসা ও জনস্বাস্থ্য খাতে কাজ করেছেন তিনি।

২০০৭ সালে মিশিগান বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন আল-সাইয়েদ। এরপর ২০১১ সালে রোডস স্কলার হিসেবে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে ডক্টরেট করেন। ২০১৪ সালে কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ডিগ্রি অর্জন করেন।

২০১৫ সালে মিশিগানের বৃহত্তম শহর ডেট্রয়েটের স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব নেন তিনি। আর্থিক সংকটের পর শহরটির জনস্বাস্থ্যসেবা পুনর্গঠনের উদ্যোগে নেতৃত্ব দেন। ২০১৭ সাল পর্যন্ত এ পদে দায়িত্ব পালন করেন। পরের বছর মিশিগানের গভর্নর পদে নির্বাচনে অংশ নিলেও ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রাথমিক নির্বাচনে গ্রেচেন হুইটমারের কাছে পরাজিত হন।

পরবর্তী সময়ে ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত ওয়েন কাউন্টির স্বাস্থ্য, মানবিক ও প্রবীণ সেনাসেবা বিভাগের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আল-সাইয়েদ। এই কাউন্টির আওতাধীন এলাকার মধ্যে রয়েছে ডেট্রয়েট।

রাজনৈতিক উত্থান ও সিনেট নির্বাচন

২০২৬ সালে নির্বাচনী রাজনীতিতে ফেরেন আল-সাইয়েদ। আগস্টে মিশিগানের ডেমোক্র্যাটিক সিনেট প্রাথমিক নির্বাচনে প্রতিনিধি হ্যালি স্টিভেন্সকে পরাজিত করেন তিনি। তাঁর নির্বাচনী প্রচারে সমর্থন জানান সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স, প্রতিনিধি আলেকজান্দ্রিয়া ওকাসিও-কর্টেজ এবং মিশিগানের প্রতিনিধি রাশিদা তালিবের মতো প্রভাবশালী প্রগতিশীল রাজনীতিকেরা।

স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়াতে ‘মেডিকেয়ার ফর অল’ কর্মসূচি চালু, আবাসন ব্যয় কমানো, রাজনীতিতে ধনী দাতাদের প্রভাব হ্রাস এবং শ্রমজীবী পরিবারগুলোর অর্থনৈতিক সুযোগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সমর্থনের কড়া সমালোচক হিসেবে পরিচিতি পান আল-সাইয়েদ। গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যা দেন তিনি। একই সঙ্গে ইসরায়েলকে নিঃশর্ত মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের আহ্বান জানান। নির্বাচনী প্রচারে তাঁর এই অবস্থান বিতর্কের অন্যতম প্রধান বিষয়ে পরিণত হয়।

ডেমোক্র্যাটিক প্রাথমিক নির্বাচনে পরাজিত হ্যালি স্টিভেন্স সাধারণ নির্বাচনের মাত্র দুই দিন আগে দলটির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন। আল-সাইয়েদের নির্বাচনী বক্তব্য ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সকে সমর্থন দেন। তবে স্টিভেন্সের এই সিদ্ধান্ত আল-সাইয়েদের নির্বাচনী প্রচারে বড় কোনো বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি।

মুসলিম পরিচয় নিয়ে ট্রাম্পের আক্রমণ

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রজার্স আল-সাইয়েদকে উগ্রপন্থি হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন। এর জবাবে মুসলিম ব্রাদারহুড নামের একটি ইসলামপন্থি সংগঠনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক থাকার অভিযোগ নাকচ করেন আল-সাইয়েদ।

নির্বাচনের আগে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোতে প্রচারণার অংশ হিসেবে ট্রাম্প ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মিশিগান সফর করেন। সেখানে ট্রাম্প আল-সাইয়েদের মুসলিম পরিচয় নিয়ে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন। তাঁকে ‘সহিংস সন্ত্রাসী’ বলেও আখ্যা দেন তিনি। তবে পরে রজার্স ট্রাম্পের এই বক্তব্যের সঙ্গে একমত হতে অস্বীকৃতি জানান।

এ ছাড়া ট্রাম্প আল-সাইয়েদকে ‘মোহাম্মদ’ নামে সম্বোধন করেন। এর জবাবে আল-সাইয়েদ বলেন, ট্রাম্প তাঁর নাম কীভাবে উচ্চারণ করেন, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। এমনকি পুরো নাম মনে রাখলেন কি না, সেটিও তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ নভেম্বরের পর ট্রাম্প তাঁকে শুধু ‘সিনেটর’ বলেই সম্বোধন করতে পারবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে আল-সাইয়েদের এই জয় মুসলিম প্রতিনিধিত্বের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় তৈরি করেছে। এর আগে মুসলিম আমেরিকানরা প্রতিনিধি পরিষদে দায়িত্ব পালন করলেও সিনেটে কোনো মুসলিম নির্বাচিত হননি। ২০০৬ সালে কিথ এলিসন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম হন। পরে ২০১৮ সালে রাশিদা তালিব ও ইলহান ওমর কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম নারী হিসেবে ইতিহাস গড়েন।

সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি ও দ্য হিল

খবরটি পড়ে আপনার প্রতিক্রিয়া

প্রতিক্রিয়া জানাতে বা খবর সংরক্ষণ করতে লগইন করুন · নতুন? অ্যাকাউন্ট খুলুন (বিনামূল্যে)

💬 মন্তব্য

✍️ মন্তব্য লিখুন… — মন্তব্য করতে বিনামূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন
আগে থেকেই অ্যাকাউন্ট আছে? লগইন

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।

মন্তব্য লেখকের নিজস্ব মত, AllTimeNews-এর নয়। অশালীন, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিজ্ঞাপনমূলক মন্তব্য মুছে ফেলা হবে। · গোপনীয়তা / Datenschutz