মধ্যবর্তী নির্বাচনে ধাক্কার পর ইরানে হামলার পথে হাঁটবেন কি ট্রাম্প?
ডিডব্লিউ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকানদের পরাজয়ের পর ইরানে নতুন করে সামরিক হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। পর্যবেক্ষকদের ধারণা, কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানো এবং দ্বিতীয় মেয়াদ শেষে আর নির্বাচনে অংশ নিতে না পারার বাস্তবতায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক বিষয়ে আরও কঠোর অবস্থান নিতে পারেন। তবে ইরানের সঙ্গে শান্তিচুক্তির সম্ভাবনাও দেখছেন কয়েকজন বিশ্লেষক।
মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফল প্রকাশের পর ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ইরান যুদ্ধ নির্বাচনের ফলে কিছুটা প্রভাব ফেলেছে। যুদ্ধের কারণে গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষ সন্তুষ্ট ছিলেন না বলেও স্বীকার করেন তিনি।
পর্যবেক্ষকদের মতে, মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের ওপর বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা স্থগিত রেখেছিল। অক্টোবরের শেষ দিকে ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, নির্বাচনের পর মধ্যপ্রাচ্যে আবার সামরিক তৎপরতা বাড়তে পারে বলে আঞ্চলিক দেশগুলোকে জানিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন।
হামলার আশঙ্কা ও কংগ্রেসের ভূমিকা
পররাষ্ট্রনীতি মূলত মার্কিন প্রেসিডেন্টের এখতিয়ারভুক্ত হলেও কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ট্রাম্পের সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে বাধা তৈরি করতে পারে। তারা এ ধরনের অভিযানের অর্থায়ন বন্ধের উদ্যোগ নিতে পারেন। তবে নবনির্বাচিত ডেমোক্র্যাট সদস্যরা আগামী বছরের শুরুতে দায়িত্ব নেবেন।
যুক্তরাষ্ট্রের দুই রাষ্ট্রবিজ্ঞান অধ্যাপকের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, অতীতে দেখা গেছে, কোনো প্রেসিডেন্ট কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালে এবং পরবর্তী নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ না থাকলে আন্তর্জাতিক বিষয়ে হস্তক্ষেপ বাড়ানোর প্রবণতা দেখা যায়। ট্রাম্পের ক্ষেত্রেও এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন তাঁরা।
তবে ইরানে হামলার বিষয়ে তাড়াহুড়ো করবেন না বলে একাধিকবার জানিয়েছেন ট্রাম্প।
ওয়াশিংটনভিত্তিক মিডল ইস্ট ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ রস হ্যারিসন সতর্ক করে বলেছেন, ইরান যদি মনে করে তাদের নেতৃত্বের অস্তিত্ব হুমকির মুখে, তাহলে তারা প্রচলিত নিয়মকানুন উপেক্ষা করে উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর ভিন্নভাবে আঘাত হানতে পারে।
শান্তিচুক্তির সম্ভাবনাও দেখছেন বিশ্লেষকেরা
অন্যদিকে, কয়েকজন বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান শান্তিচুক্তিতে রাজি হতে পারে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সম্প্রতি বাহরাইনের একটি নিরাপত্তা সম্মেলনে বলেন, কূটনৈতিকভাবে অনেক চেষ্টা করেও তারা সংকটের মধ্যে জড়িয়ে পড়েছেন। এখন রাজনৈতিকভাবে এ পরিস্থিতি থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছেন তাঁরা।
এদিকে কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমানবন্দরে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মহড়া চলছে। সৌদি আরবও দুই ফ্রন্টে সংঘাতের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিজেদের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক নতুন করে পর্যালোচনা করছে। কারণ, এ সম্পর্কের কারণে তারাও সংঘাতের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে বলে উদ্বেগ রয়েছে।
সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত রায়ান ক্রকার মনে করেন, অদূর ভবিষ্যতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে ওঠার সম্ভাবনা কম। কাতারের সঙ্গে অন্য উপসাগরীয় দেশগুলোর অতীত বিরোধ এবং সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতপার্থক্য আঞ্চলিক নিরাপত্তা সহযোগিতাকে কঠিন করে তুলবে।
তথ্যসূত্র: ডয়চে ভেলে (ডিডব্লিউ)
খবরটি পড়ে আপনার প্রতিক্রিয়া
প্রতিক্রিয়া জানাতে বা খবর সংরক্ষণ করতে লগইন করুন · নতুন? অ্যাকাউন্ট খুলুন (বিনামূল্যে)
💬 মন্তব্য
✍️ মন্তব্য লিখুন… — মন্তব্য করতে বিনামূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুনএখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
মন্তব্য লেখকের নিজস্ব মত, AllTimeNews-এর নয়। অশালীন, ব্যক্তিগত আক্রমণ বা বিজ্ঞাপনমূলক মন্তব্য মুছে ফেলা হবে। · গোপনীয়তা / Datenschutz





