এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো প্রতি মুহূর্তের জন্য ক্ষমা চাই : বিল গেটস
জেফরি এপস্টেইন সংক্রান্ত গোপন নথির সাম্প্রতিক প্রকাশ বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই বিতর্কের কেন্দ্রে চলে এসেছেন মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস। গত কয়েকদিন ধরে চলা বিভিন্ন অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবশেষে নীরবতা ভেঙেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) অস্ট্রেলীয় টেলিভিশন চ্যানেল ‘নাইন নিউজ’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গেটস বলেন, এপস্টেইনের সঙ্গে পরিচয় হওয়া তার জীবনের অন্যতম বড় ভুল এবং তিনি এজন্য গভীরভাবে অনুতপ্ত। খবর দ্য গার্ডিয়ানের।
এপস্টেইন ফাইলসে অভিযোগ উঠেছে, বিল গেটস ‘রুশ তরুণীদের’ সংস্পর্শে আসার পর তার স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটসের কাছে একটি যৌনবাহিত রোগের (এসটিডি) কথা গোপন করেছিলেন। এমনকি এপস্টেইন ২০১৩ সালে একটি ইমেইলে দাবি করেছিলেন, গেটস গোপনে মেলিন্ডাকে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানোর চেষ্টা করেছিলেন যাতে তিনি সংক্রমিত না হন।
এই অভিযোগগুলোকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্ভট’ বলে উড়িয়ে দিয়ে ৭০ বছর বয়সী বিল গেটস বলেন, ‘এপস্টেইন সম্ভবত নিজের কাছেই একটি ইমেইল লিখেছিলেন যা কখনো পাঠানো হয়নি। তিনি কেন এমনটা করেছিলেন আমি জানি না। হয়তো তিনি আমাকে আক্রমণ করার চেষ্টা করছিলেন। এপস্টেইনের সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য আমি অনুতপ্ত এবং ক্ষমা চাইছি।’
এদিকে গত মঙ্গলবার এনপিআরকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ গেটস তাদের ২৭ বছরের দাম্পত্য জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। ২০২১ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়। মেলিন্ডা জানান, এপস্টেইনের সঙ্গে তার সাবেক স্বামীর বন্ধুত্ব ছিল তাদের সম্পর্কের অন্যতম অন্ধকার দিক। তিনি বলেন, এসব তথ্য যখন সামনে আসে, তখন আমার দাম্পত্য জীবনের অত্যন্ত যন্ত্রণাদায়ক কিছু স্মৃতি ফিরে আসে। সেই ‘নোংরামি’ থেকে দূরে থাকতে পেরে আমি এখন অনেক সুখী।
বিল গেটসের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ব্যাপারে মেলিন্ডা স্পষ্ট করে বলেন, এসব প্রশ্নের উত্তর বিল গেটসকেই দিতে হবে, আমি না।
এপস্টেইন কেলেঙ্কারিতে বিল গেটসের সংশ্লিষ্টতা নিয়ে সরব হয়েছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারাও। সাউথ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান ন্যান্সি মেস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছেন, তিনি হাউজ ওভারসাইট কমিটির চেয়ারম্যান জেমস কোমারকে চিঠি লিখেছেন যেন বিল গেটসকে তলব করা হয়। এর আগে বিল ও হিলারি ক্লিনটনও এই কমিটির সামনে সাক্ষ্য দিতে সম্মত হয়েছেন।
২০১৯ সালে জেফরি এপস্টেইনের মৃত্যুর পর ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও তার প্রভাবশালী বন্ধুদের তালিকা ও কর্মকাণ্ড নিয়ে তদন্ত এখনও থামেনি। বিল গেটস দাবি করেছেন, তিনি কেবল বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে অনুদান সংগ্রহের লক্ষ্যেই এপস্টেইনের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তবে কখনও তার ব্যক্তিগত দ্বীপে যাননি।







