‘ট্রান্সজেন্ডার’ নয়, ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ বলতে চেয়েছি
সমালোচনার মুখে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন
এক অনুষ্ঠানে ‘তৃতীয় লিঙ্গের’ পরিবর্তে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দ ব্যবহার করে সমালোচনার মুখে পড়েছেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। বিতর্কের মধ্যে নিজের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি।
শিক্ষামন্ত্রীর দাবি, বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ বলতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষায় অংশগ্রহণ ও শিক্ষাগত অর্জনকে উৎসাহিত করা।
শুক্রবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে এ ব্যাখ্যা দেন তিনি।
বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ট্রান্সজেন্ডার ইস্যু নিয়ে কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
বাংলাদেশকে ‘গ্লোবাল ভিলেজ’ উল্লেখ করে এ ধরনের বিষয়কে ট্যাবু হিসেবে না দেখার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে এ বিষয়ে আরও প্রচারের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলেন।
অনুষ্ঠানে দেওয়া মন্ত্রীর বক্তব্যের একটি অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
সেখানে তিনি বলেন, ‘ট্রান্সজেন্ডার নিয়ে আরও ক্যাম্পেইন করতে হবে, আমরা কোনো ট্যাবুতে থাকতে চাই না।’
তার বক্তব্যে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দের ব্যবহার এবং এ বিষয়ে প্রচারের আহ্বান নিয়েই বেশি সমালোচনা হয়।
শুক্রবারের ফেসবুক পোস্টে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ওই অনুষ্ঠানে তৃতীয় লিঙ্গের একজন শিক্ষার্থী ডিগ্রি অর্জন করেন। তার অর্জনকে স্বাগত জানিয়ে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষায় অংশগ্রহণ উৎসাহিত করার প্রসঙ্গেই তিনি কথা বলেছিলেন।
সমাজে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের প্রতি অবহেলা, বঞ্চনা ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির কথাও তুলে ধরেন তিনি। এসব বাধা অতিক্রম করে তাদের শিক্ষায় এগিয়ে আসার বিষয়টিই তার বক্তব্যের মূল উদ্দেশ্য ছিল বলে জানান।
শব্দ ব্যবহারের বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বক্তব্যের সময় ‘তৃতীয় লিঙ্গ’ বলতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দটি ব্যবহার করেছি। এখানে আমার অভিপ্রেত শব্দ ছিল ‘তৃতীয় লিঙ্গ’।’
দেশের মানুষের ধর্মীয় মূল্যবোধ ও অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, সেদিনের বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের শিক্ষার সুযোগ ও তাদের শিক্ষাগত অর্জনকে উৎসাহিত করা।






