মূল অংশে যান
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ · ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ · ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
ব্রেকিং
ধর্ম

কেয়ামতের দিন আরশের ছায়া পাবেন যে ৭ শ্রেণির মানুষ

ন্যায়পরায়ণ শাসক থেকে গোপনে দানকারী—আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জীবন পরিচালনাকারীদের জন্য রয়েছে বিশেষ মর্যাদার সুসংবাদ।

অলটাইম নিউজ ডেস্ক প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, ২:৪৮ অপরাহ্ণ · আপডেট: ২ নভেম্বর ২০২৬, ৩:৪০ অপরাহ্ণ · ৩ মিনিটে পড়ুন
কেয়ামতের দিন আরশের ছায়া পাবেন যে ৭ শ্রেণির মানুষ
প্রতীকী ছবি

ইসলামি বিশ্বাস অনুযায়ী, কেয়ামতের দিন মানুষ কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হবে। সেদিনের ভয়াবহতা থেকে মুক্তি ও নিরাপত্তা মানুষের জন্য হবে পরম আকাঙ্ক্ষার বিষয়। হাদিসে এমন সাত শ্রেণির মানুষের কথা বর্ণিত হয়েছে, যাঁদের আল্লাহ তাআলা তাঁর আরশের ছায়ায় আশ্রয় দেবেন—যেদিন তাঁর ছায়া ছাড়া অন্য কোনো ছায়া থাকবে না।

সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে বর্ণিত এই হাদিসের আলোকে ইসলামি আলোচক শায়খ আহমাদুল্লাহ তাঁর এক আলোচনায় এসব মানুষের পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য তুলে ধরেছেন।

১. ন্যায়পরায়ণ শাসক

এই তালিকার প্রথমে রয়েছেন ন্যায়পরায়ণ শাসক। যিনি দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেন, ক্ষমতার অপব্যবহার করেন না এবং মানুষের প্রতি জুলুম ও পক্ষপাতিত্ব থেকে বিরত থাকেন। দায়িত্ব ও কর্তৃত্বকে ব্যক্তিস্বার্থে ব্যবহার না করে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করাই তাঁর অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

২. ইবাদতে বেড়ে ওঠা যুবক

দ্বিতীয় শ্রেণিতে রয়েছেন সেই যুবক, যিনি যৌবনের প্রাণবন্ত সময় আল্লাহর ইবাদত ও আনুগত্যে কাটান। জীবনের এ সময়ে নানা প্রলোভন ও পাপের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেন এবং নৈতিকতা ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলেন।

৩. মসজিদের প্রতি অনুরাগী ব্যক্তি

তৃতীয় শ্রেণির মানুষ হলেন সেই ব্যক্তি, যার হৃদয় মসজিদের সঙ্গে যুক্ত থাকে। নামাজের সময় হলে তিনি মসজিদে যাওয়ার আগ্রহ অনুভব করেন এবং ইবাদতের প্রতি আন্তরিক টান বজায় রাখেন। দুনিয়ার ব্যস্ততার মধ্যেও আল্লাহর ইবাদতকে গুরুত্ব দেওয়া তাঁর বিশেষ বৈশিষ্ট্য।

৪. আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য পরস্পরকে ভালোবাসেন যাঁরা

চতুর্থ শ্রেণিতে রয়েছেন এমন দুজন ব্যক্তি, যাঁদের পারস্পরিক ভালোবাসার ভিত্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি। তাঁরা এই ভালোবাসার কারণে একত্রিত হন এবং আল্লাহর জন্যই পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখেন। তাঁদের সম্পর্কের মূল উদ্দেশ্য পার্থিব স্বার্থ নয়, বরং ঈমান ও আল্লাহর সন্তুষ্টি।

৫. আল্লাহর ভয়ে অনৈতিক প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানকারী ব্যক্তি

পঞ্চম শ্রেণির ব্যক্তি হলেন এমন একজন, যাঁকে কোনো সুন্দরী ও সম্ভ্রান্ত নারী অনৈতিক সম্পর্কে জড়ানোর প্রস্তাব দেন। কিন্তু আল্লাহর ভয় ও পরকালের জবাবদিহিতার কথা স্মরণ করে তিনি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। হাদিসে তাঁর মুখে উচ্চারিত কথা হিসেবে এসেছে, ‘আমি আল্লাহকে ভয় করি।’ সুযোগ থাকা সত্ত্বেও পাপ থেকে নিজেকে সংযত রাখাই তাঁর প্রধান বৈশিষ্ট্য।

৬. গোপনে দানকারী ব্যক্তি

ষষ্ঠ শ্রেণিতে রয়েছেন সেই দানশীল ব্যক্তি, যিনি লোকদেখানো বা প্রশংসা পাওয়ার উদ্দেশ্যে নয়, বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় গোপনে দান করেন। তাঁর দানের কথা অন্যরা না জানলেও তিনি মানুষের কল্যাণে এগিয়ে আসেন। হাদিসে তাঁর গোপন দানের বিষয়টি এমনভাবে বর্ণিত হয়েছে—তাঁর ডান হাত যা দান করে, বাঁ হাতও তা জানতে পারে না।

৭. নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করে কাঁদেন যিনি

সপ্তম শ্রেণির মানুষ হলেন সেই ব্যক্তি, যিনি নির্জনে আল্লাহকে স্মরণ করেন এবং তাঁর ভয়ে চোখের পানি ফেলেন। লোকচক্ষুর আড়ালে আল্লাহর মহত্ত্ব উপলব্ধি করা, নিজের ভুলের জন্য অনুতপ্ত হওয়া এবং তাঁর প্রতি গভীর ভক্তি প্রকাশ করা তাঁর বৈশিষ্ট্য।

হাদিসের শিক্ষা

এই সাত শ্রেণির মানুষের বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে ন্যায়বিচার, ইবাদতের প্রতি নিষ্ঠা, আল্লাহর জন্য ভালোবাসা, আত্মসংযম, গোপনে দান এবং আল্লাহর স্মরণে আন্তরিকতা। হাদিসটি মুসলমানদের ব্যক্তিগত জীবন, সামাজিক সম্পর্ক ও দায়িত্ব পালনে এসব গুণ অর্জনের শিক্ষা দেয়।