Connect with us

ক্যাম্পাস

বুটেক্সে তিন দিনব্যাপী  ‘স্পিনার্স ফিয়েস্তা ৩.০’ অনুষ্ঠিত

Published

on

-অভিষেক দত্ত,বুটেক্স প্রতিনিধি 

বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুটেক্স) ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক আয়োজন ‘স্পিনার্স ফিয়েস্তা ৩.০’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুটেক্স স্পিনার্স ক্লাব আয়োজিত এ উৎসব বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে শিল্প–শিক্ষা সংযোগ, সৃজনশীলতা ও প্রতিযোগিতামূলক কার্যক্রমের এক অনন্য মিলনমেলা তৈরি করে।

৫ নভেম্বর (বুধবার) অন্তঃবিভাগীয় ফুটসাল টুর্নামেন্টের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। পরদিন অনুষ্ঠিত হয় আরডুইনো প্রজেক্ট প্রতিযোগিতা ও ইনডোর গেমস, যা শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তি ও সহশিক্ষা কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করে।

ফুটসাল টুর্নামেন্টে ৪-৩ ব্যবধানে ইয়ার্ণ ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ৫১তম ব্যাচকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় ৪৭তম ব্যাচ। আরডুইনো প্রজেক্ট প্রতিযোগিতায় প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জন করে যথাক্রমে এরর ৪০৪, এক্স ওয়াই জেড ও শর্ট সার্কিট গ্রুপ। ইনডোর গেমস-এর মধ্যে দাবা খেলায় চ্যাম্পিয়ন ও রানার আপ হয় যথাক্রমে তালহা ও হৃদয়, ডার্ট খেলায় হৃদয় ও তালহা এবং ই-ফুটবল-এ তৃনো ও নিলয়।

৭ নভেম্বর (শনিবার) ছিল পুরো আয়োজনের সবচেয়ে ব্যস্ত দিন। সকাল থেকে অনুষ্ঠিত হয় কুইজ কার্নিভাল, এরপর শিল্প ও নীতিগত বিষয় নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার—’ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ ইন স্পিনিং এন্ড গভর্নমেন্ট মেজারস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল স্ট্র্যাটেজিস ফর কস্ট ইফিশিয়েন্সি ইন দ্য স্পিনিং সেক্টর।’ সন্ধ্যায় ওয়াল ম্যাগাজিন ও পোস্টার প্রেজেন্টেশন প্রদর্শনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতার প্রকাশ ঘটে। এরপর অনুষ্ঠিত হয় পুরষ্কার বিতরণ এবং ৪৬তম ব্যাচের বিদায় অনুষ্ঠান। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ব্যান্ড শো-এর মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

সেমিনারে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকেন আরমাদা স্পিনিং মিলস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ ও কোয়ালিটেক বিডি লিমিটেডের চেয়ারম্যান আহসানুল হক। তাঁরা যথাক্রমে স্পিনিং খাতে ব্যয় দক্ষতা অর্জনের জন্য সরকারি পদক্ষেপ ও শিল্পখাতের কৌশলসমূহ এবং স্পিনিং খাতে ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ ও অটোমেশন বিষয়ে আলোকপাত করেন।

এছাড়া সেমিনারে সভাপত্বিতে থাকেন বুটেক্স স্পিনার্স ক্লাবের সভাপতি আবু রাফসান করিম। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম, আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম, আইটিইটির অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জি. মো. এনায়েত হোসেন, আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস-চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মো. সাঈদুর রহমান, নোমান গ্রুপের স্পিনিং বিভাগের নির্বাহী পরিচালক মো. এনামুল করিম, ওয়ান কম্পোজিট মিলস লিমিটেডের পরিচালক নাসির উদ্দিন মিয়া, সালমা গ্রুপের সিওও আজহার আলি এবং বাদশা টেক্সটাইল লিমিটেড ও কামাল ইয়ার্ন লিমিটেডের নির্বাহী পরিচালক খোরশেদ আলম। 

আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মহিউদ্দিন আহমেদ সেলিম বলেন, “আমরা অটোমেশন নিয়ে কথা বলছি ঠিকই কিন্তু আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে অটোমেশনের সঠিক সময় এখনো আসেনি। আমাদের দেশের অনেক মানুষ এখনো বেকার। এখনি অটমেশনের দিকে গেলে প্রথমত এই বেকারত্ব আরো বৃদ্ধি পাবে, দ্বিতীয়ত ইলেকট্রিসিটির ব্যবহারের পরিমাণ বেড়ে যাবে। তবে এখানে রিং ডাটা ব্যবহার করে ইফিসিয়েন্সি বাড়ানো যায়। আমাদের খরচগুলোর প্রপার এনালাইসিস করতে হবে যেন এর থেকে আমরা লাভ বের করে আনতে পারি।”

আইইবি’র টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ভাইস-চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মো. সাঈদুর রহমান বলেন, ”আমরা টেক্সটাইল সেক্টরে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন অবস্থা পার করেছি। যখন বস্ত্র নীতি ঘোষণা করা হয় তখন গার্মেন্টস টেক্টর ব্যাপকভাবে প্রসার লাভ করে। তখন আমরা এই ব্যাকওয়ার্ড লিংকেজ গুলোর যোগান দিতে পারছিলাম না, যার কারণে স্পিনিং সেক্টর গুলো শুরু করা হয় এবং ব্যাপকভাবে উন্নতি করে। অটোমেশনের ব্যবহার করে স্পিনিং সেক্টরের সংকটকে কাটানোর যে চিন্তাধারা উদ্ভাবন করা হয়েছে তা প্রশংসনীয়। এটা বাস্তবায়ন করতে পারলে আমাদের দেশের পিনিং সেক্টরগুলো এবং ইন্ডাস্ট্রি লেভেলও আমরা আরো উন্নতি করতে পারব।“

আইটিইটির অন্তর্বর্তীকালীন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জি. মো. এনায়েত হোসেন তার বক্তব্যে স্পিনিং সেক্টরের সংকট নিরসনে টেকসই এবং দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার উপর আলোকপাত করেন৷ যার ফলে শুধু স্পিনিং সেক্টরের সংকট নয় বরং সার্বিকভাবে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে৷ 

অধ্যাপক ড. হোসনে আরা বেগম বলেন, ”আমি টেক্সটাইল সেক্টরকে কিছুটা ভিন্নভাবে দেখি এবং অটোমেশন অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সারা পৃথিবীর মধ্যে বাংলাদেশের কোম্পানি ও ফ্যাক্টরির মালিকরা আমাদের শ্রমিকদেরকে সবচেয়ে কম বেতন দেয়। বাংলাদেশ টেক্সটাইল সেক্টর নিয়ে ইকোনমিক কমপ্লেক্সিটি-এর মধ্যে রয়েছে। টেক্সটাইল সেক্টর মোট বিশ্ব দূষণের ১১% কার্বন নিঃসরণ ঘটায়। এই ১১% এর মধ্যে বাংলাদেশ হলো দ্বিতীয় বৃহত্তম অংশীদার।বাংলাদেশ প্রচুর পরিমাণে কটন আমদানি করে, কাপড় বানায় এবং বর্জ্য বাংলাদেশে রেখে যায়।”

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, “স্পিনিং ফ্যাক্টরির এই সংকট মোকাবেলার জন্য আমাদের নিজেদের মেশিন বানানোর দিকে মনোযোগ দেওয়া উচিত। আমরা এতদিন এসব প্রযুক্তির ক্ষেত্রে বাইরের দেশের উপর নির্ভরশীল ছিলাম। আমাদেরও উচিত ইনোভেটিভ টেক্সটাইল মেশিন তৈরির দিকে ধাবিত হওয়া। এ ক্ষেত্রে যে অটোমেশনের ধারণা প্রস্তাব করা হয়েছে, তা যদি আমরা সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারি তাহলে আমাদের অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে।”

স্পিনার্স ক্লাবের সভাপতি আবু রাফসান করিম বলেন, “স্পিনার্স ফিয়েস্তা ৩.০ শুধুমাত্র একটি ইভেন্ট নয়; এটি ভবিষ্যৎ শিল্পনেতা তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ। ইন্ডাস্ট্রি ৪.০–এর যুগে শিক্ষার্থীদের প্রস্তুত করতেই এই আয়োজন। কস্ট এফিসিয়েন্সি ও প্রযুক্তিনির্ভর সেমিনার শিক্ষার্থীদের বাস্তব শিল্প–জ্ঞান দেবে। শীর্ষ শিল্পপতিদের উপস্থিতি আমাদের প্রতি তাদের আস্থাও প্রমাণ করে। এই সংযোগ ও অভিজ্ঞতা শিক্ষার্থীদের পেশাগত ভিত্তি আরও শক্ত করবে।”

ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক জুমানা তাসনীন বলেন, “স্পিনার্স ফিয়েস্তা ৩.০ আয়োজন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। এটি শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, বরং শিক্ষার্থীদের মেধা, একাডেমিক অর্জন ও শিল্প–সংযোগের একটি বড় প্ল্যাটফর্ম। কুইজ, আরডুইনো প্রতিযোগিতা থেকে শুরু করে ইন্ডাস্ট্রি ৪.০ বিষয়ক সেমিনার—সব মিলিয়ে এটি শিক্ষার্থীদের জন্য অসাধারণ সুযোগ। দেশের শীর্ষ শিল্পপতিদের অংশগ্রহণ ইভেন্টটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ পেশাগত জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।”

তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের এর মধ্য দিয়ে বুটেক্সের ইয়ার্ন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীরা এক প্রাণবন্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পৃক্ত হয়, যা শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি শিল্প–জ্ঞান ও সৃজনশীলতার অনন্য সমন্বয় ঘটায়।

Continue Reading
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

ক্যাম্পাস

সমালোচনার মুখে ঢাবি নিয়ে করা বিতর্কিত মন্তব্য প্রত্যাহার করলেন ববি হাজ্জাজ

Published

on

By

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কোচিং সেন্টার’ হিসেবে উল্লেখ করে দেওয়া বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার মুখে তা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শুক্রবার (২৯ মে) বিকেলে নিজের ফেসবুক পোস্টে তিনি এ ঘোষণা দেন।

পোস্টে ববি হাজ্জাজ বলেন, একটি পডকাস্টে দেওয়া তার মন্তব্যের কিছু অংশ ভুলভাবে উপস্থাপিত ও ব্যাখ্যা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ওই মন্তব্যগুলো ছিল তার ব্যক্তিগত মতামত, যা সরকারের কোনো আনুষ্ঠানিক অবস্থান বা নীতির প্রতিফলন নয়।

তিনি বলেন, তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও গবেষণাভিত্তিক ও বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য, মর্যাদা বা অবদানকে খাটো করার কোনো উদ্দেশ্য তার ছিল না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

ফেসবুক পোস্টে দেশের উচ্চশিক্ষা খাত নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে গবেষণার প্রতি পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়নি। পাশাপাশি শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি ও একাডেমিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা এবং মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্লেজারিজমসহ বিভিন্ন অনৈতিক একাডেমিক চর্চারও সমালোচনা করেন তিনি।

ববি হাজ্জাজ আরও বলেন, পডকাস্টের আলোচনা ছিল অনানুষ্ঠানিক ও স্বতঃস্ফূর্ত। এটি কোনো গবেষণাভিত্তিক বা নীতিনির্ধারণী আলোচনা ছিল না। আনুষ্ঠানিক পরিবেশে বক্তব্য দিলে ভাষা ও উপস্থাপনা আরও কাঠামোবদ্ধ হতো বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস ও জাতি গঠনে এর অবদানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিনি চান বিশ্ববিদ্যালয়টি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা ও জ্ঞানচর্চার কেন্দ্র হিসেবে আরও শক্তিশালী অবস্থান তৈরি করুক।

সবশেষে তিনি বলেন, তার বক্তব্যে ভুল বোঝাবুঝি সৃষ্টি হওয়ায় এবং অনেকেই কষ্ট পাওয়ায় তিনি ওই মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছেন।

এদিকে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ‘কোচিং সেন্টার’ হিসেবে উল্লেখ করার প্রতিবাদে শুক্রবার সন্ধ্যায় বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন একদল শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এ কর্মসূচি পালনের কথা জানা গেছে।

Continue Reading

top2

প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধর, ঢাবির তিন ছাত্রদল নেতাকে অব্যাহতি

Published

on

By

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত তিন ছাত্রদল নেতাকে সংগঠন থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (২৫ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদল।

অব্যাহতি দেওয়া তিন ছাত্রদল নেতা হলেন জগন্নাথ হল শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক চন্দন দাস, যুগ্ম আহ্বায়ক ঝলক দাস এবং যুগ্ম আহ্বায়ক রিপন চন্দ্র সরকার।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গতকাল রোববার (২৪ মে) সন্ধ্যায় জগন্নাথ হলের রবীন্দ্র ভবনের নিচে একটি চায়ের দোকানে পা তুলে বসাকে কেন্দ্র করে প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী অভয় কুমার সিংহের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয়। ওই শিক্ষার্থী জানায়, হাঁটুতে সমস্যা থাকায় পা তুলে বসেছিলেন। পরে তিনি রুমে ফিরলে অভিযুক্তরা তার কক্ষে গিয়ে সংঘবদ্ধভাবে মারধর করেন এবং দোকানের দিকে আর না যাওয়ার হুমকি দেন।

এ ঘটনার পর কুমার সিংহ ফেসবুকে ক্ষোভ প্রকাশ করে একটি স্ট্যাটাস দেন। তিনি লেখেন, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দ কক্ষে থাকা সত্ত্বেও তাকে এভাবে মারধর করা শুধু অমানবিকই নয়, এটি জগন্নাথ হলের মানবিক পরিবেশের জন্যও অত্যন্ত লজ্জাজনক। তিনি দোষীদের বিচার দাবি করেন।

Continue Reading

ক্যাম্পাস

রাবির খুলনা জেলা সমিতির সভাপতি ফয়সাল, সাধারণ সম্পাদক মেহেদী

Published

on

By

‘বাঘের গর্জন নদীর বাঁকে, ঐক্য মোদের প্রাণের ডাকে’ এই স্লোগানকে ধারণ করে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) অধ্যয়নরত খুলনা জেলার শিক্ষার্থীদের সংগঠন এর ২০২৬-২০২৭ সেশনের নতুন কার্যনির্বাহী কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নবগঠিত কমিটিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল আলমকে সভাপতি এবং ফার্সি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসানকে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হয়েছে।

কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন, সহ-সভাপতি শাহরিয়ার অনিক (ব্যাংকিং অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স বিভাগ) ও তটিনী তারান্নুম (ফিশারিজ বিভাগ)। যুগ্ম সম্পাদক পদে রয়েছেন শাহ্ নেওয়াজ শেখ (মার্কেটিং বিভাগ), নাফিজ নেওয়াজ তূর্য (হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগ) এবং কৌশিক আহমেদ অভি (মার্কেটিং বিভাগ)। সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এস. কে. নাহিদ হাসান (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ) ও জিলকর নবাব (মার্কেটিং বিভাগ)।

এছাড়া কোষাধ্যক্ষ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন তানজিম আহমেদ অভি (হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য ব্যবস্থা বিভাগ)। প্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন নাফিসা মৃদুলা (ফোকলোর অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগ) ও আসাদুল্লাহ আল গালিব (ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ)। দপ্তর সম্পাদক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন ঐশ্বর্য মণ্ডল (আইন বিভাগ)।

এক বছরের জন্য গঠিত এ কার্যনির্বাহী কমিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত খুলনা জেলার শিক্ষার্থীদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে কাজ করবে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ববোধ ও সাংগঠনিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন সংগঠনটির সদস্যরা।

Continue Reading

Trending