চুপ্পুকে কি দূরে সরিয়ে দিচ্ছে বিএনপি সরকার
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে কি দূরে সরিয়ে দিচ্ছে বিএনপি। ঈদুল আজহার নামাজে রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দূরত্ব বজায় রাখার ছবি প্রকাশ্যে আসার পর নেট দুনিয়ায় এ প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
চিকিৎসার নামে সম্প্রতি রাষ্ট্রপতির লন্ডন সফরকালে অভিজাত মার্কেটে তার কেনাকাটার খবরেও সরকারের শীর্ষমহল তার ওপর নাখোশ বলে জানা গেছে।
ঈদুল ফিতরের ঈদ জামাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু পাশাপাশি নামাজ আদায় করেছিলেন। কিন্তু কোরবানির ঈদ জামাতে দেখা গেল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম চিত্র।
সিনিয়র সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন ফেসবুকে লিখেছেন, দুই ঈদ জামাতের চিত্র দেখে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা কৌতুহল আর গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, গত ঈদুল ফিতরে প্রধানমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতি পাশাপাশি দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করেছিলেন।
কিন্তু ঈদুল আযহায় দেখা গেল সম্পূর্ণ ব্যতিক্রম চিত্র! কিন্তু কেন এই দূরত্ব? কেন এই প্রটোকল বদল?
রাষ্ট্রীয় প্রটোকল অনুসারে জাতীয় ঈদগাহের প্রধান জামাতে রাষ্ট্রের দুই শীর্ষ ব্যক্তি এক কাতারেই পাশাপাশি বসেন। নামাজ আদায় করেন।
তবে ঈদুল আজহায় রাষ্ট্রপতির বসার ব্যবস্থা করা হয় একই কাতারে কিন্তু বেশ দূরে।
আসন বিন্যাসটি ছিল ঠিক এমন:
প্রথমে প্রধানমন্ত্রী। এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তারপরে খুব সম্ভবত সমাজকল্যাণমন্ত্রী জাহিদ হোসেন এবং এরপর রাষ্ট্রপতি।
মাত্র দুই মাসের ব্যবধানে রাষ্ট্রীয় শীর্ষ প্রটোকলের এই আকস্মিক পরিবর্তন এবং দুজনের মধ্যকার এই ‘দূরত্ব’ নিয়ে এখন সচেতন মহলে ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা কৌতুহল আর গুঞ্জন তৈরি হয়েছে।
সাংবাদিক হেলাল উদ্দিন লিখেছেন, প্রটোকলের এই সূক্ষ্ম পরিবর্তন কি শুধুই নিরাপত্তার খাতিরে, নাকি এর পেছনে রয়েছে অন্য কোনো বিশেষ কারণ বা সমীকরণ?
চিকিৎসার নাম করে চলতি মাসের মাঝামাঝি যুক্তরাজ্য সফরে গিয়েছিলেন চুপ্পু। সেখানে তিনি অভিজাত মার্কেটে কেনাকাটা করেন। এ খবর আমার দেশ-এ প্রকাশিত হলে সরকারের শীর্ষমহল তার ওপর নাখোশ হয় বলে জানা গেছে।
বিএনপি চুপ্পুকে রাষ্ট্রপতি পদে বহাল রাখলেও এ নিয়ে দেশজুড়ে সমালোচনা আছে। পতিত স্বৈরশাসক শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ আস্থাভাজন ব্যক্তি এখনো কিভাবে রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকেন, সেই প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
বিএসএফের একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ড, কড়া নজরদারিতে বিজিবি
লালমনিরহাট সীমান্তে বিএসএফের একাধিক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি নতুন করে উত্তেজনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোর মধ্যে রয়েছে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশির মৃত্যু, আন্তর্জাতিক সীমান্ত আইন লঙ্ঘন করে বাঁশের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা, তিনবিঘা করিডোর এলাকায় উত্তেজনা, ভারতীয় চোরাকারবারীদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা, সীমান্তে একটি ভারতীয় ড্রোন পড়ে যাওয়ার ঘটনা এবং পুশইনের আশঙ্কা।
এসব ঘটনার পর সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার
গত ১৪ মে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার বনচৌকি বিওপি এলাকায় বিএসএফের গুলিতে খাদেমুল ইসলাম (২৪) নিহত হন।
এর আগে ৮ এপ্রিল পাটগ্রাম সীমান্তে আলী হোসেন (৩৮) নামে আরেক বাংলাদেশি নিহত হন।
এই দুই ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দেয়।
এর পাশাপাশি কুচলিবাড়ী ইউনিয়নের কলসীমুখ সীমান্ত এলাকায় বিএসএফের বাঁশের খুঁটি স্থাপনের চেষ্টা বিজিবির আপত্তির মুখে বন্ধ হয়ে যায়।
পরে তিনবিঘা করিডোর এলাকায় নতুন করে একই ধরনের উদ্যোগ ঘিরে আবারও উত্তেজনা তৈরি হয়।
এরপর বিজিবি ও বিএসএফের মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলে সীমান্ত আইন মেনে ১৫০ গজের মধ্যে স্থায়ী স্থাপনা না করার বিষয়ে অবস্থান স্পষ্ট করা হয়।
অন্যদিকে কলসীমুখ সীমান্তে ভারতীয় চোরাকারবারীদের অনুপ্রবেশের চেষ্টা হলে বিজিবি বাধা দেয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুই রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছোড়ে। পরে তারা ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে লালমনিরহাট ১৫ বিজিবি, রংপুর ৫১ বিজিবি এবং তিস্তা-টু ৬১ বিজিবি সীমান্ত এলাকায় টহল, গোয়েন্দা নজরদারি ও নিরাপত্তা কার্যক্রম বাড়িয়েছে।
১৫ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মেহেদী ইমাম জানিয়েছেন, সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ, চোরাচালান বা সীমান্ত লঙ্ঘনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।
বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলেও সীমান্তে সতর্ক অবস্থান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শন ঘিরে বিতর্ক, নতুন বার্তা দিল কর্তৃপক্ষ
শিগগিরই ভুল বোঝাবুঝির অবসান ঘটবে ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমা প্রদর্শনীর নতুন তারিখ ঘোষণা করা হবে বলে জানিয়েছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।
শনিবার (৩০ মে) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে বিতর্কের জেরে ছবিটির প্রদর্শনী স্থগিত করে আয়োজক কর্তৃপক্ষ। এদিন বিকেল তিনটার দিকে জেলা শহরের অন্নদা সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ে ছবিটির প্রদর্শনী হওয়ার কথা ছিল।
আয়োজকরা জানায়, অনুষ্ঠানটির প্রচারণা শুরু হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে। জেলার কওমি ছাত্র-ঐক্য পরিষদের একাংশ সিনেমাটি প্রদর্শনের বিরোধিতা করে ফেসবুকে প্রচারণা চালায়। বিশৃঙ্খলা ও অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে সিনেমাটি প্রদর্শন স্থগিত রাখে জেলা প্রশাসন।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ জানান, আয়োজক কমিটি প্রদর্শনীর বিষয়ে প্রশাসনকে অবহিত করেনি। এছাড়া প্রদর্শনী নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা ছিল। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির স্বার্থে আপাতত ছবির প্রদর্শনী স্থগিত রাখা হয়েছে।
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিনেমাটির নির্মাতা ও প্রযোজক তানিম নূর। তিনি জানান, বাংলাদেশের আইন অনুযায়ী সেন্সর পাওয়া যেকোনো সিনেমা প্রদর্শন করা যায়। শুধু তা–ই নয়, প্রদর্শনী আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশাসনের সহযোগিতাও পাওয়ার কথা। কিন্তু আমার ছবির পোস্টারে ক্রস চিহ্ন দিয়ে উসকানিমূলক প্রচার চালানো হচ্ছে, যা বেআইনি।
রাষ্ট্রপতি জিয়াকে হত্যার পর জেনারেল মঞ্জুর প্রাণ বাঁচাতে যা করেছিলেন
১৯৮১ সালের ৩০ মে ভোররাতে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হন একদল সেনাসদস্যের হাতে।
ঘটনার আগের দিন তিনি চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন তার প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপির স্থানীয় নেতাদের বিরোধ মেটাতে।
চট্টগ্রামে বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত বিএনপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে ২৯ মে রাতে স্থানীয় সার্কিট হাউসে ঘুমিয়ে ছিলেন জিয়াউর রহমান।
ঘটনার পর ৩০ মে সকালে সার্কিট হাউসে গিয়েছিলেন সেনাবাহিনীর তৎকালীন মেজর রেজাউল করিম রেজা।
মেজর রেজা বলছিলেন, তাকে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে সার্কিট হাউসে পাঠানো হয়েছিল, সেখানে আগে থেকে অবস্থান নিয়ে থাকা সৈন্যদের নিরাপদে সরিয়ে নেবার জন্য।
‘কর্নেল মতিউর রহমান আমাকে ডাকেন। ডেকে বলেন যে জিয়াউর রহমানের ডেডবডিটা কিছু ট্রুপস সঙ্গে নিয়ে সার্কিট হাউস থেকে পাহাড়ের ভেতরে কোথাও কবর দেবার জন্য। আমি তখন তাকে বললাম যে আমাকে অন্য কাজ দেন। তারপর উনি মেজর শওকত আলীকে ডেকে ওই দায়িত্ব দিলেন।’
‘তখন আমাকে ডেকে বললেন যে তুমি এদের সাথে থাকো এবং সাথে যাও। গিয়ে সার্কিট হাউসে প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের সৈন্যদের নিয়ে আসবে। সার্কিট হাউসে যাওয়ার পর আমি সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠি। উঠে দেখি সিঁড়ি বারান্দায় একটা ডেডবডি কম্বল দিয়ে ঢাকা আছে। পাশে একজন পুলিশ দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছে। আমি জিজ্ঞেস করলাম, এটা কার ডেডবডি? সে বলল, এটা রাষ্ট্রপতির। আমি বললাম, কম্বলটা খোলো। সেটা খোলার পর দেখলাম তার মাথাটা।’
কাছাকাছি দূরত্বেই পড়ে ছিল কর্নেল এহসান ও ক্যাপ্টেন হাফিজের মৃতদেহ।
ঘটনাস্থল থেকে মেজর রেজাউল করিম রেজা চট্টগ্রাম সেনানিবাসে চলে যান । অন্যদিকে মেজর শওকত আলী তার দল নিয়ে জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ কবর দিতে নিয়ে যাযন।
মেজর রেজাউল করিম রেজা সার্কিট হাউস থেকে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্ট ফিরে এসে দেখেছিলেন যুদ্ধের পরিবেশ।
মেজর রেজার মতো যেসব সেনা কর্মকর্তা হয়তো ছুটিতে ছিলেন নতুবা অন্য কোনো কাজে ছিলেন, তাদের ডেকে এনে বিভিন্ন দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
মেজর রেজার কাঁধে নতুন চাপে মেজর জেনারেল এ মঞ্জুরের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়িত্ব।
চট্টগ্রাম সেনানিবাসের তখনকার জিওসি মেজর জেনারেল এ মঞ্জুর ৩০ মে সারা দিন কর্মকর্তা ও সৈন্যদের বিভিন্ন ব্যারাকে ঘুরে-ঘুরে বক্তব্য দিয়েছেন।
প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তার দায়িত্ব থাকায় সারা দিন জেনারেল মঞ্জুরের সঙ্গে থাকতে হয়েছে মেজর রেজাউল করিম রেজাকে।
জেনারেল মঞ্জুর যখন সেনানিবাসের ভেতরে বিভিন্ন জায়গায় বক্তব্য দিচ্ছিলেন, তখন একপর্যায়ে তার কাছে ঢাকা সেনানিবাস থেকে একটি টেলিফোন আসে।
টেলিফোনের অপর প্রান্ত থেকে বলা হলো যে জেনারেল এরশাদ মেজর জেনারেল মঞ্জুরের সঙ্গে কথা বলতে চান।
কিন্তু জেনারেল এরশাদের সঙ্গে কথা বলার বিষয়ে মোটেই আগ্রহী ছিলেন না জেনারেল মঞ্জুর।
জেনারেল এরশাদ ফোন করার পর দুবার সেই টেলিফোন রিসিভ করেননি জেনারেল মঞ্জুর।
এ সময় জেনারেল মঞ্জুরের সঙ্গে থাকা তার প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা মেজর রেজাউল করিম রেজা পুরো ঘটনা কাছ থেকে দেখেছেন।
রেজা বলছিলেন, ‘আর্মি হেডকোয়ার্টার থেকে একটা ফোন এলো। জেনারেল মঞ্জুর ফোন রিসিভ করলেন। অপর প্রান্ত থেকে বলছে, জেনারেল এরশাদের সঙ্গে কথা বলেন। তখন জেনারেল মঞ্জুর বলেন, আই ক্যান নট টক টু এরশাদ। এ কথা বলে তিনি টেলিফোনটা রেখে দিলেন। আবার টেলিফোন এলো। আবার টেলিফোনে বলা হলো, ফর গড সেক স্যার, ফর গড সেক—ইউ টক টু জেনারেল এরশাদ। জেনারেল মঞ্জুর এমনভাবে ধরেছিলেন টেলিফোনটা, আমি ক্লিয়ার শুনতে পাচ্ছিলাম। জেনারেল মঞ্জুর আবার বললেন, আই ক্যান নট টক টু হিম। এ কথা বলে টেলিফোনটা রেখে দিলেন।’
রেজার কাছে মনে হয়েছিল মেজর জেনারেল মঞ্জুরের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে জেনারেল এরশাদ হয়তো ক্ষমতায় যেতে চেইছেন।
কিন্তু জেনারেল মঞ্জুর হয়তো জেনারেল এরশাদকে মেনে নিতে চাননি।
জিয়া হত্যার পটভূমি
জিয়াউর রহমানকে হত্যার পটভূমি তৈরি করা হয়েছিল অনেক আগে থেকেই।
এ কথা মনে করেন বিএনপির প্রয়াত সিনিয়র নেতা ও ব্রিগেডিয়ার (অব.) হান্নান শাহ। মৃত্যুর বেশ কয়েক বছর আগে বিবিসি বাংলার সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে তিনি এ কথা বলেছিলেন।
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সময় হান্নান শাহ ব্রিগেডিয়ার পদমর্যাদায় চট্টগ্রাম মিলিটারি একাডেমিতে কর্মরত ছিলেন।
হান্নান শাহ বিবিসিকে বলেছিলেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের বছর দুয়েক আগে থেকেই সেনাবাহিনীর কতিপয় সিনিয়র অফিসারের মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছিল। জিয়াউর রহমান এ দ্বন্দ্ব সম্পর্কে জানতেন। সে জন্য দ্বন্দ্বে লিপ্ত সেনা কর্মকর্তাদের তিনি পরস্পরের কাছ থেকে বেশ দূরের জায়গাগুলোতে পোস্টিং দিয়ে রেখেছিলেন।
হান্নান শাহ বলেন, ‘সেনাবাহিনীর একদল অফিসার রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কর্মকাণ্ডে সন্তুষ্ট ছিলেন না। তারা মনে করছিলেন, যেসব অফিসার ও সৈনিক মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানে আটকা ছিলেন এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছেন, জিয়াউর রহমান তাদের প্রতি বেশি সহানুভূতিশীল এবং তাদের বেশি সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছেন।’
বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভ থেকেই একদল সৈনিক ও কর্মকর্তা জিয়াউর রহমানকে হত্যা করেছিল বলে হান্নান শাহের ধারণা।
মেজর রেজাউল করিম রেজাও বলছিলেন, চট্টগ্রাম সেনানিবাসে ডেকে নেওয়ার পর কর্নেল মতিউরের কথায় তার সেটি মনে হয়েছে।
কর্নেল মতিউর তখন মেজর রেজাকে বলেন, ‘রেজা, তুমি কোথায় ছিলে? তোমাকে তো সময়মতো পাওয়া যায় না। আমি বললাম, কী হয়েছে? তখন তিনি বললেন, তুমি জানো না? প্রেসিডেন্ট ইজ কিল্ড! এখন আমাদের সব ফ্রিডম ফাইটারদের ইউনাইটেড থাকতে হবে।’
জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সময় সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ। বিষয়টি নিয়ে তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। সে সময় দেশের ভাইস প্রেসিডেন্ট ছিলেন বিচারপতি আব্দুস সাত্তার।
তখন সাত্তার দায়িত্ব নিয়ে ৩০ মে দুপুরের দিকে রেডিও-টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিয়েছিলেন।
বিচারপতি সাত্তার সরকারের যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হয়েছিলেন কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ। যিনি পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের পূর্ণ মন্ত্রী হয়েছিলেন।
২০০৬ সালে কর্নেল (অব.) অলি আহমেদ বিএনপি ছেড়ে এলডিপি গঠন করেন।
৩০ মে সকাল সাড়ে ৮টার দিকে বঙ্গভবন থেকে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব অলি আহমেদকে হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে জানিয়েছেন।
তখন অলি আহমেদ দ্রুত বঙ্গভবনে যান। সে সময় সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদ, বিমান ও নৌবাহিনীর প্রধানসহ আরো কয়েকজন ঊর্ধ্বতন সামরিক কর্মকর্তা বঙ্গভবনে গিয়েছিলেন।
তারা সবাই বিচারপতি আব্দুস সাত্তারের সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন।
জিয়াউর রহমানকে হত্যার দিন অর্থাৎ, ৩০ মে চট্টগ্রাম ক্যান্টনমেন্টে যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ছিল, সেটি তার পরদিন দ্রুত পাল্টাতে থাকে।
৩০ মে অনেক সেনা কর্মকর্তার মতো হান্নান শাহকেও মিলিটারি একাডেমি থেকে ডেকে নিয়ে বিদ্রোহের পক্ষে সমর্থন চাওয়া হয়েছিল।
কিন্তু হান্নান শাহ তাতে অপারগতা প্রকাশ করেন। কিন্তু ৩১ মে ঢাকার সঙ্গে সমঝোতার জন্য মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা নিতে অনুরোধ করা হয় হান্নান শাহকে।
৩১ মে সারা দিন হান্নান শাহ ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করেছেন।
সেদিন রাতে তিনি যখন চট্টগ্রাম সেনানিবাসে বৈঠক করছিলেন, তখন সে বৈঠক থেকে বেরিয়ে জেনারেল মঞ্জুরসহ কয়েকজন পালিয়েছিলেন।
হান্নান শাহ বলছিলেন, ৩১ মে বিদ্রোহের সঙ্গে জড়িত সৈনিক ও অফিসারদের মধ্যে বিভক্তি দেখা গেল।
বিদ্রোহীদের পক্ষ ত্যাগ করে অনেকেই বিচারপতি সাত্তার সরকারের প্রতি আনুগত্য প্রকাশ করেন। এসব খবর পেয়ে জেনারেল মঞ্জুর বিচলিত হয়ে পড়েন।
পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে চট্টগ্রাম ক্যান্টনম্যান্ট ছেড়ে পালিয়ে যান জেনারেল মঞ্জুর ও আরো কয়েকজন সেনা কর্মকর্তা।
সে রাতের বর্ণনা দিতে গিয়ে হান্নান শাহ বলেন, ‘৩১ মে রাত ১১টার দিকে জেনারেল মঞ্জুরের বাসা থেকে হঠাৎ একটি ফোন এলো। তিনি আমাকে এবং আরো কয়েকজন কর্মকর্তাকে বসিয়ে রেখে ওনার অফিস থেকে বাসায় গেলেন। কিন্তু ঘণ্টাখানেক পরেও তিনি ফিরে এলেন না। এমন অবস্থায় অন্য অফিসারদের তাদের কর্মস্থলে পাঠিয়ে দিয়ে আমি আমার কর্মস্থল মিলিটারি একাডেমিতে ফিরে এলাম। ইতোমধ্যে আমি জানতে পারলাম, জেনারেল মঞ্জুর তার পরিবার নিয়ে এবং অন্য বিদ্রোহী অফিসাররা পার্বত্য চট্টগ্রামের দিকে পালিয়ে গেছেন।’
মেজর জেনারেল মঞ্জুর ও কর্নেল মতিউর রহমান যে গাড়িবহরে পালিয়েছিলেন, সেখানে ছিলেন মেজর রেজাউল করিম রেজা।
কিছুদূর অগ্রসর হয়ে একটি পাহাড়ি এলাকায় পৌঁছানোর পর সামনে গোলাগুলির শব্দ শুনতে পান তারা। তখন তারা লক্ষ করেন সামনে কিছু সৈন্য পাহাড়ের দিকে ছুটোছুটি করছেন। সে সময় জেনারেল মঞ্জুর গাড়ি ঘুরিয়ে ফেলার নির্দেশ দেন। কিন্তু তাদের বহনকারী গাড়িটি হঠাৎ বিকল হয়ে পড়ে।
তখন তারা অন্য আরেকটি গাড়িতে করে পেছনের দিকে চলে আসেন। সেখানে একটি গ্রামে তারা গাড়ি থেকে নেমে হাঁটা শুরু করেন। এলাকাটিতে চা-বাগান ছিল। জেনারেল মঞ্জুর তখন চা-বাগানের এক কুলির বাড়িতে যান। কারণ তার সন্তানেরা ছিল ক্ষুধার্ত। সেখানে জেনারেল মঞ্জুরের সন্তানদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। সঙ্গে ছিলেন জেনারেল মঞ্জুরের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা মেজর রেজাউল করিম রেজা।
রেজা বলছিলেন, ‘ওনারা যখন খেতে বসেছিলেন, তখন হঠাৎ কুকুরের ঘেউ-ঘেউ শব্দ শুনতে পাই। তখন আমরা লক্ষ করলাম বেশ কিছুটা দূরে পাহাড়ি এলাকায় খাকি পোশাকের পুলিশ দেখা যাচ্ছে। তখন জেনারেল মঞ্জুর বললেন যে আমি পুলিশের কাছে সারেন্ডার করব।’
পুলিশ সদস্যরা যখন সামনের দিকে এগিয়ে আসছিলেন, তখন জেনারেল মঞ্জুর জঙ্গলের ভেতরে দাঁড়িয়ে যান।
মেজর রেজার বর্ণনা অনুযায়ী জেনারেল মঞ্জুর তখন পুলিশের উদ্দেশে বলেন, ‘এই যে বাবারা, তোমরা ওইখানে থাকো। সামনে আসিবে না। সামনে আসিলে তোমাদের অসুবিধা হইবে। আমি আসিতেছি। এ কথা বলে হনহন করে হেঁটে গিয়ে সারেন্ডার করলেন। তারপর আমিও গিয়ে সারেন্ডার করলাম।’
আত্মসমর্পণের পর তাদের হাটহাজারী থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে জেনারেল মঞ্জুর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পুলিশ কর্মকর্তারা বললেন যে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলা যাবে না।
তখন তাদের পুলিশের একটি ট্রাকে ওঠানো হলো। সে সময় একদল সেনাসদস্য এলো সেখানে।
একজন সেনাসদস্য জেনারেল মঞ্জুরের স্ত্রীকে বলল, ভাবি, আমরা আপনাদের নিতে এসেছি। জেনারেল মঞ্জুরের স্ত্রী বললেন, তারা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন এবং চট্টগ্রাম জেলে যাবেন। তিনি সৈন্যদের সঙ্গে সেনানিবাসে যেতে অস্বীকৃতি জানান।
মেজর রেজার বর্ণনা অনুযায়ী তখন জেনারেল মঞ্জুর সেনাসদস্যদের বলেন , ‘তোমাদের লজ্জা করে না? তোমরা সব ঘটনা ঘটাইলা, তোমরা আবার সারেন্ডার করলা। তোমরা আইছ আমাকে ধইরা নিতে। যাও, আমি তোমাদের সাথে যাব না।’
সে সময় একজন নায়েব সুবেদার এসে জেনারেল মঞ্জুরের হাত ধরে টেনে গাড়ি থেকে নামিয়ে আনেন এবং তার হাত ও চোখ বেঁধে ফেলেন।
জেনারেল মঞ্জুরকে ধরে নেওয়ার পর হত্যা কারার অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে একটি হত্যা মামলা বিচারাধীন আছে। হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সে মামলার অন্যতম আসামি।
অন্যদিকে পালানোর সময় গুলিতে নিহত হয়েছিলেন কর্নেল মতিউর রহমান।
অবশেষে কবরের সন্ধান
নানা ঘটনার মধ্য দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলে ১ জুন জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ খুঁজতে বের হয়েছিলেন ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ। তার সঙ্গে ছিলেন কয়েকজন সিপাহি, একটি ওয়্যারলেস সেট এবং একটি স্ট্রেচার।
তারা কাপ্তাই রাস্তার উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। তারা একটি অনুমানের ওপর ভিত্তি করে নতুন কবরের সন্ধান করছিলেন। তখন একজন গ্রামবাসী এসে তাদের জিজ্ঞেস করেন যে তারা কী খোঁজ করছেন।
ব্রিগেডিয়ার হান্নান শাহ এক গ্রামবাসীকে জিজ্ঞেস করেন, সেনাবাহিনীর সৈন্যরা সেখানে কোনো ব্যক্তিকে সম্প্রতি দাফন করেছে কি না।
তখন সেই গ্রামবাসী একটি ছোট পাহাড় দেখিয়ে জানালেন, কয়েক দিন আগে সৈন্যরা সেখানে একজনকে কবর দিয়েছে।
তবে সেই গ্রামবাসী জানতেন না যে কাকে সেখানে কবর দেওয়া হয়েছে।
গ্রামবাসীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী হান্নান শাহ সৈন্যদের নিয়ে সেখানে গিয়ে দেখেন নতুন মাটিতে চাপা দেওয়া একটি কবর।
সেখানে মাটি খুঁড়ে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং আরো দুই সেনা কর্মকর্তার মৃতদেহ দেখতে পান তারা।
তখন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ তুলে চট্টগ্রাম সেনানিবাসে আনা হয়। সেখান থেকে হেলিকপ্টারে করে জিয়াউর রহমানের মৃতদেহ ঢাকায় পাঠানো হয়।
বিএনপি নেতা হান্নান শাহ মনে করেন, জিয়াউর রহমান হত্যাকাণ্ডের সঠিক বিচার না হওয়ায় ঘটনা নিয়ে রহস্য রয়ে গেছে।
সে সময় বিদ্রোহের অভিযোগে ১৮ জন সামরিক কর্মকর্তার বিচার করা হয়েছিল। এদের মধ্য ১৩ জন সেনা কর্মকর্তার ফাঁসি এবং বাকিদের বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
ব্রাজিল সমর্থকদের র্যালিতে সেভেন-আপ বিতরণ করলেন আর্জেন্টিনা ভক্ত
ফুটবলকে ঘিরে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনার সমর্থকদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা নতুন কিছু নয়। তবে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার মাঝেও সৌহার্দ্য ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাবের এক ব্যতিক্রমী উদাহরণ দেখা গেছে শরীয়তপুরে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ব্রাজিলের সমর্থকেরা দলকে সমর্থন জানিয়ে মোটরসাইকেল র্যালি বের করেন। র্যালিটি শহরের একটি সড়ক অতিক্রম করার সময় রাস্তার পাশে অবস্থান নেওয়া আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা তাদের স্বাগত জানান।
তবে ঘটনাটি ছিল না কোনো উত্তেজনা বা বাকবিতণ্ডার। বরং আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা ব্রাজিল ভক্তদের হাতে কোমল পানীয় সেভেন-আপ এর বোতল তুলে দেন। হাসি-আনন্দে ভরা এই দৃশ্য মুহূর্তেই উপস্থিত মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পুরো র্যালিজুড়ে ছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। দুই দলের সমর্থকেরা পরস্পরের সঙ্গে হাস্যরস, শুভেচ্ছা ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণে অংশ নেন। কোথাও কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর নেটিজেনরা ঘটনাটিকে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতির প্রতীক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অনেকেই মন্তব্য করেছেন, ‘ফুটবল কেবল প্রতিদ্বন্দ্বিতার নয়, বন্ধুত্ব ও সৌহার্দ্যেরও নাম।’
চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই ফুটবল শিবিরের সমর্থকদের এমন ইতিবাচক আচরণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে এবং ক্রীড়াসুলভ মানসিকতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে আলোচিত হচ্ছে।
২০৩০ বিশ্বকাপেও খেলবেন রোনালদো: পর্তুগাল কোচ
৪১ বছর বয়সে আরেকটি বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। ফিট থাকলে আসন্ন ২০৩০ বিশ্বকাপেও তাকে খেলাতে সমস্যা নেই পর্তুগালের, সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এমনটা জানিয়েছেন পর্তুগিজ কোচ রবার্তো মার্টিনেজ।
আসন্ন বিশ্বকাপের মধ্য দিয়ে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন রোনালদো। বয়সটা ৪০ পেরিয়ে গেলেও মাঠের ঝাঁজটা এখনও আছে পর্তুগিজ মহাতারকার। সৌদি ক্লাব আল নাসরের হয়ে নিয়মিত পারফর্ম করছেন। ফুটবল থেকে কবে অবসর নেবেন এমন কোনো ইঙ্গিতও নেই। প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কি ২০৩০ বিশ্বকাপেও খেলবেন রোনালদো। এবার সেই প্রশ্নের উত্তর দিলেন পর্তুগালের কোচ।
২০৩০ সালের বিশ্বকাপে রোনালদো খেলতে পারেন কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে স্প্যানিশ রেডিও ‘কাদেনা সের’কে মার্টিনেজ বলেন, ‘কারো এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ থাকা উচিত নয়। সে এই জায়গা নিজের যোগ্যতায় অর্জন করেছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর আদর্শ পর্তুগালের সমস্ত তরুণ ফুটবলারদের মাঝে ছড়িয়ে দিতে চাই, কারণ সে তরুণদের জন্য এক চমৎকার রোল মডেল।’
২০০৩ সালে পর্তুগাল জাতীয় দলে অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত ২২৬টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন রোনালদো। দেশের জার্সিতে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ খেলার রেকর্ড এখন তার। শুধু তাই নয়, সর্বোচ্চ (১৪৩) গোলের রেকর্ডও এখন রোনালদোর দখলে। এছাড়া বিশ্বের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে পাঁচটি ভিন্ন বিশ্বকাপে গোল করার রেকর্ডও রয়েছে তার।
৮ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থার পর কার্যক্রমে গতি
রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশের পর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে গতি এসেছে। তারপরও কিছু এলাকায় শনিবারও বর্জ্য রয়ে গেছে। আবার কিছু এলাকায় খুব দায়সারাভাবে বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে। ফলে সেসব জায়গায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে পশুবর্জ্য। এসব থেকে উৎকট দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
রাজধানীর পল্লবীর হাজী মার্কেট এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান আজ সকালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ফেসবুকে মন্তব্য করেন, ‘আমরা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৫ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা। এই এলাকায় সিটি করপোরেশন থেকে মাসে মাত্র ৫/৬ দিন ময়লা সরানো হয়। মাসের শেষ দিকে ২ দিন ঘনঘন আসে। এই কয়দিন ময়লা সরিয়ে বাসাপ্রতি মাসে ১৫০ টাকা নিয়ে যায়। ঈদের ২/৩ দিন আগের থেকে অদ্যাবধি ময়লা সরাচ্ছে না। উৎকট দুর্গন্ধে জনজীবন অতিষ্ঠ।’
পীরেরবাগের জিয়া সরণির এক বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সিটি করপোরেশনের অনুমতি ছাড়াই স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাকর্মী রাস্তার ভেতরে পশুহাট বসিয়েছিলেন। ওই হাটের পশুবর্জ্য এখনো রয়ে গেছে। বর্জ্যের দুর্গন্ধে এলাকাবাসী অতিষ্ঠ।
এদিকে গতকাল শুক্রবার রাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বর্জ্য অপসারণের কার্যক্রম পরিদর্শন করেছেন ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। উত্তরার দিয়াবাড়ী পশুহাট ও মেট্রোরেলের আশপাশের বর্জ্য অপসারণের চিত্র পরিদর্শন করেন তিনি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মেট্রো স্টেশনের নিচের বর্জ্য অপসারণ করা হলেও হাটের বর্জ্য অনেকটাই রয়ে গেছে।
ওদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) পুরোনো কিছু ওয়ার্ড ছাড়াও নতুন ওয়ার্ডগুলোতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার চিত্র বেশ নাজুক। ৫২ থেকে ৫৪, ৫৮–৬১—এই ওয়ার্ডগুলোতে বর্জ্য অপসারণ করা হলেও তা দায়সারা গোছের। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা-বর্জ্য পড়ে আছে।
জুরাইনের বাসিন্দা মিজানুর রহমান সমকালকে জানান, তিনি চার-পাঁচটি ওয়ার্ড ঘুরেছেন। প্রতিটি ওয়ার্ডের অবস্থা এখনো খারাপ। অনেক স্থানেই বর্জ্য রয়ে গেছে। আবার কিছু বর্জ্য অপসারণ করলেও সেটা একেবারে দায়সারা।
এদিকে ডিএসসিসি জানিয়েছে, আজ দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৪ হাজার ৬৩৭ টন বর্জ্য মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলে ডাম্পিং করা হয়েছে। আর এ পর্যন্ত ২৮ হাজার ৪২৮ টন কোরবানির বর্জ্য ডিএসসিসি অপসারণ করেছে। তবে আরও কী পরিমাণ বর্জ্য রয়ে গেছে, সেটা জানাতে পারেনি। আর ডিএনসিসি কী পরিমাণ বর্জ্য অপসারণ করেছে, এ-সংক্রান্ত কোনো তথ্যই দিতে পারেনি।
তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নিজে রাজধানীর বর্জ্য অপসারণের চিত্র দেখার জন্য বের হওয়ার পর থেকে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রমে গতি ফিরেছে। দুই সিটি করপোরেশনের পদস্থ আট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশের পর তা আরও গতি পায়। রাতেই বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়
জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে শ্রদ্ধা জানাল ভারতীয় হাইকমিশন
শহীদ রাষ্ট্রপতি ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকীতে তার স্মরণে একটি বিবৃতি দিয়েছে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন।
শনিবার (৩০ মে) নিজেদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এ বিবৃতি দেয় ভারতীয় হাইকমিশন।
বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ যখন জিয়াউর রহমানের স্মরণে সমবেত হয়েছে, তখন ১৯৭১ সালের মার্চ মাসে তার সেই ঐতিহাসিক বেতার ভাষণের কথা স্মরণ করা হচ্ছে, যা দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেছিল এবং নিপীড়নের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে অনুপ্রাণিত করেছিল।
আরও বলা হয়, সেই ভাষণ জনগণকে জাতীয় মুক্তির সংগ্রামের পথে এগিয়ে যেতে উৎসাহ জুগিয়েছিল।
ভারতীয় হাইকমিশন তাদের বার্তায় উল্লেখ করে, ১৯৭১ সালের মতো আজও ভারত বাংলাদেশের জনগণের পাশে রয়েছে। একই সঙ্গে তারা দুই দেশের জনগণের অভিন্ন আত্মত্যাগ, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির যৌথ যাত্রার কথাও তুলে ধরে।
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এই বার্তায় তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানায় ভারতীয় হাইকমিশ
সাড়ে নয় বছর জেল খেটে অবশেষে খালাস পেলেন সেই তিন ছাত্রী
প্রায় সাড়ে নয় বছর ধরে চলা আইনি লড়াইয়ের অবসান ঘটল কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলের তিন ছাত্রীর ক্ষেত্রে। জঙ্গিবাদের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন।
গত ২৪ মে জেলা ও দায়রা জজ আদালত পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাবে এই তিন ছাত্রীকে অব্যাহতি প্রদান করেন।
শনিবার (৩০ মে) মামলার আইনজীবী অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, এই শিক্ষার্থীদের জঙ্গি তকমা দিয়ে রাষ্ট্র বা তদন্ত সংশ্লিষ্টরা কী অর্জন করেছে? তাদের কাছ থেকে কোনো অবৈধ বা নিষিদ্ধ বস্তু পাওয়া যায়নি, কেবল কোরআন, হাদিস এবং ডা. জাকির নায়েকের কিছু বই উদ্ধার করা হয়েছিল। অথচ জঙ্গি তকমার কারণে অভিযুক্তদের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী মাস্টার্সে প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হওয়া সত্ত্বেও চাকরির সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন।
পরিবার চাইলে রাষ্ট্রের কাছে ক্ষতিপূরণ দাবি করতে পারে জানিয়ে বদিউল আলম সুজন আরও বলেন, সেক্ষেত্রে আমরা আইনগত সহায়তা দিতে প্রস্তুত। একই সঙ্গে এ মামলার পেছনে কারা ভূমিকা রেখেছে, তা চিহ্নিত করে জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানাই।
মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালের ২৭ জুলাই রাতে কুমিল্লা শহরের নওয়াব ফয়জুন্নেছা হলে যৌথ অভিযান চালায় পুলিশ, র্যাব, সিআইডি ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরা। অভিযানের সময় হলের ২০২ নম্বর কক্ষে অবস্থানরত তিন ছাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাদের কক্ষ তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশিকালে কক্ষ থেকে কয়েকটি ধর্মীয় ও ইসলামী বিষয়ক বই জব্দ করা হয়। জব্দকৃত বইয়ের মধ্যে ছিল ড. জাকির নায়েকের লেকচার সমগ্র, ‘আদর্শ পরিবার পরিবেশ’, ‘পরকালের প্রস্তুতি’ এবং ‘ইসলামী আন্দোলনের পথ ও পাথেয়’ শীর্ষক গ্রন্থ।
পরে রাতভর জিজ্ঞাসাবাদ ও তল্লাশির পর তিন ছাত্রীকে জঙ্গিবাদের অভিযোগে কোতোয়ালি থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।
ঘটনাটি সে সময় দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। জাতীয় ও স্থানীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে এ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। কিছুদিন কারাভোগের পর তারা উচ্চ আদালত থেকে জামিন লাভ করেন।
এরপর মামলাটি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, জেলা ও দায়রা জজ আদালত এবং উচ্চ আদালতসহ বিভিন্ন বিচারিক ধাপ অতিক্রম করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ার একপর্যায়ে আদালত অভিযোগের পক্ষে পর্যাপ্ত ও গ্রহণযোগ্য প্রমাণ না পাওয়ায় গত ২৪ মে তিন শিক্ষার্থীকে খালাসের আদেশ দেন।
রায়ের পর শিক্ষার্থীরা ও তাদের পরিবারের সদস্যরা সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, প্রায় এক দশক ধরে চলা একটি কঠিন অধ্যায়ের অবসান হয়েছে। তারা আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে মন্তব্য করেন।
মামলার শুরু থেকেই শিক্ষার্থীদের পক্ষে আইনি সহায়তা প্রদান করেন অ্যাডভোকেট শহীদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট বদিউল আলম সুজন এবং অ্যাডভোকেট ইব্রাহিম মনির
ভারত থেকে বাংলাদেশে ‘ফিরতে’ চাওয়াদের সীমান্তে অপেক্ষা, জেরা
অমিতাভ ভট্টশালী
যারা ভারতে অবৈধপথে এসেছিলেন, তারা যদি ‘স্বেচ্ছায়’ ফিরে যেতে চান তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তবে, ওই ঘোষণার আগেই সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য অনেক মানুষ প্রতিদিন হাজির হচ্ছেন সাতক্ষীরা আর পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার সীমান্ত অঞ্চলে।
সেই সীমান্তেই দেখা হয়েছিল বাচ্চু মুন্সির সঙ্গে।
“যখন আমার বছর দশেক বয়স, বাবা মায়ের হাত ধরে ভারতে চলে আসি। প্রায় ৩৮ বছর হয়ে গেল, এখানেই বিয়ে করেছি, ছেলে মেয়ে হয়েছে। তাদের বিয়েও দিয়েছি এখানে,” বলছিলেন তিনি।
কলকাতার দমদম বিমানবন্দর লাগোয়া এলাকায় থাকতেন বলে জানান বাচ্চু মুন্সি। তিনি সপরিবারে হাজির হয়েছিলেন বাংলাদেশের সাতক্ষীরা জেলা লাগোয়া উত্তর ২৪ পরগনার একটি সীমান্ত চৌকি – হাকিমপুরে।
আদতে তিনি বাংলাদেশের খুলনা জেলার বাসিন্দা বলে দাবি করছিলেন মি. মুন্সি।
বাংলাদেশে প্রবেশের জন্য হাকিমপুর সীমান্তে রোজ হাজির হচ্ছেন তারই মতো আরও বহু নারী-পুরুষ, শিশু। তাদের দাবি, তারা কেউ যশোর, কেউ খুলনা, কেউ সাতক্ষীরা থেকে ভারতে এসেছিলেন; কেউ এসেছেন বছর দুয়েক আগে, কেউবা পাঁচ-ছয় বছর আগে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি জয়ী হয়ে নতুন সরকারের দায়িত্ব নেওয়ার কয়েকদিন পরেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যখন ঘোষণা করলেন যে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’দের আর থাকতে দেওয়া হবে না, তাদের ফেরত পাঠানো হবে, তারপরেই গত সপ্তাহ খানেক ধরে প্রতিদিনই সাত সকালে ওই সীমান্তে জড়ো হচ্ছেন নিজের দেশে ফিরে যেতে চাওয়া মানুষরা।
হাকিমপুরের স্থানীয় বাসিন্দা হাসানুর গাজি বলছিলেন, “শুরুর দিকে দৈনিক ১০-১২ জন করে আসছিল, তারপর প্রতিদিনই বাড়ছে এই সংখ্যা। দিন তিনেক আগে থেকে সংখ্যাটা কয়েকশোতে গিয়ে ঠেকেছে।”
সুত্র: বিবিসি বাংলা