ইবি সিআরসি’র নেতৃত্বে তানভীর-মাহবুব
ইবি প্রতিনিধি
সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘কাম ফর রোড চাইল্ড’ (সিআরসি) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের নতুন কমিটি গঠিত হয়েছে। এতে সভাপতি হিসেবে আল-হাদীস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ এবং সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আল অর্থনীতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মাহবুব আলম দায়িত্ব পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. রাসেল আহমেদ ও সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ সাকিব মুন্সী স্বাক্ষরিত এক পত্রে এ বিষয়ে জানা যায়। আগামী ১ বছরের জন্য এই কমিটিতে অনুমোদন দেওয়া হয়।
কমিটিতে সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মো. রেজাউল করিম, আল-গালিব ও রাদিফা মুমতাহিনা। যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন আখি আলমগীর ও রুবাইয়া হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক সাইমা খাতুন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সাইদী হোসেন, কোষাধ্যক্ষ আবুল হাসান মো. অলি উল্লাহ, উপ-কোষাধ্যক্ষ মারুফ হাসান, দপ্তর সম্পাদক মো. তানজিদ, উপ-দপ্তর সম্পাদক শাহেদুল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক নাদির আহমেদ, উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক রেদোয়ানুল হাসান রায়হান, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পাদক সিফাত মিয়া, নারী ও শিশু বিষয়ক সম্পাদক ফাহমিদা আজিম রিশা, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক জুবায়ের আহমেদ চৌধুরী ও ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মো. সবুজ হাসান।
এছাড়া সংগঠনের স্কুল পরিচালনার লক্ষ্যে গঠিত পৃথক কমিটির অন্যান্য সদস্যরা হলেন স্কুল পরিচালক সাইফুদ্দীন সিদ্দীক, উপ-স্কুল পরিচালক খালেদ সাইফুল্লাহ, স্কুল ও শিক্ষা বৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক মো. সিয়াম এবং শিক্ষা ও পাঠ্যক্রম বিষয়ক সম্পাদক রিফাত জাহান মিষ্টি।
দায়িত্ব পেয়ে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মাহবুব আলম বলেন, “নতুন কমিটি আগামী এক বছর পথশিশু ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সামাজিক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সকলের একতাবদ্ধ প্রচেষ্টার মাধ্যমে আমরা শুধু পথশিশু নয়, সমাজের সকল অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চাই।”
শাখা সিআরসির নবনিযুক্ত সভাপতি তানভীর আহমেদ বলেন, “সিআরসি কেবল একটি সংগঠন নয়— এটি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের অধিকার, শিক্ষা ও সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পরিচালিত একটি মানবিক উদ্যোগ। সমাজের সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা ও সম্মিলিত দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, সুন্দর ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব। আগামী দিনে সিআরসি শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম আরও বিস্তৃত পরিসরে পরিচালনার মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পাশে থাকতে বদ্ধপরিকর।”
তিনি আরও বলেন, “আমাদের স্বপ্ন এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে কোনো শিশু শিক্ষার অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে না এবং ক্ষুধা, দারিদ্র্য ও অবহেলার মধ্যে বেড়ে উঠতে হবে না। এই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে সিআরসির মানবিক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানাই।”
প্রসঙ্গত, ‘কাম ফর রোড চাইল্ড’ (সিআরসি) একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। এটি মূলত পথশিশুদের শিক্ষা, খাবার ও মৌলিক চাহিদা পূরণের জন্য কাজ করে। সংগঠনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠিত এবং মানবকল্যাণে বিভিন্ন সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ করে। সিআরসি পথশিশুদের সমাজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার জন্য সহায়তা ও সচেতনতা তৈরি করে থাকে।
আইন বিভাগের ইমনের নেতৃত্বে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের উপর হামলা।
গোবিপ্রবি প্রতিনিধি :
গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গোবিপ্রবি) ডিবেটিং ক্লাবের নতুন কমিটি নিয়োগকে কেন্দ্র করে আইন বিভাগ ও ইতিহাস বিভাগের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ হয়েছে।
আজ ২০ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) সন্ধ্যা 8:30 টায় দুই বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে তিতুমীর হলের সামনে থেকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউমার্কেটে আবারও পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।
জানা যায়, ডিবেটিং ক্লাবের নতুন কমিটির পদ নিয়ে ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে আইন বিভাগের ইমন ও ইতিহাস বিভাগের সবুজের (২০২২-২৩) মধ্যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে মেসেঞ্জার ইনবক্সে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সবুজকে হুমকি দিলে উভয়ের মধ্যে ক্ষোভের উদ্রেক হয়। ফলে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমনের নেতৃত্বে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরদেরকে লাঠিসোঁটা নিয়ে ৪০-৪৫ জন খুঁজে বেড়ায়। এক পর্যায়ে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীরাও চড়াও হলে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ ঘটে।
অভিযুক্ত আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমন বলেন, “এইরকম কোনো কিছু ঘটেনি বরং সবুজ উনি আমাদের বিভাগের শিক্ষার্থীর সম্মানিত মাকে তুলে গালমন্দ করে, যাঁর রেকর্ড রয়েছে। স্বয়ং মাননীয় সহকারী প্রক্টর আরিফ স্যার ও মাননীয় প্রক্টর আহসান সৌরভ স্যার ই সঙ্গে ছিলেন, তাদের থেকেও জানতে পারেন।”
এবিষয়ে প্রক্টর আহসান সৌরভ বলেন, ‘ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখতেছি। সলুশনের জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আর উভয় বিভাগের শিক্ষকদের সাথে কথা বলেছি তারা বলছে যে এটা যত দ্রুত সম্ভব একটা সলুশন হবে। আর আমরা পরিবেশ শান্ত রাখার জন্য চেষ্টা করছি। এখন আর সমস্যা নাই এখন পুরোপুরি শান্ত আছে। ‘
ইবিতে বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্পেইন ও রক্তদান কর্মসূচি
ইবি প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) ‘বিনামূল্যে স্বাস্থ্য ক্যাম্পেইন ও রক্তদান’ কর্মসূচির আয়োজন করেছে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের সংগঠন মেডিসিন ক্লাব।
বুধবার (১৯ আগস্ট) সকাল ১১ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের নিচতলায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
এ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম মতিনুর রহমান। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. এমতাজ হোসেন। এছাড়াও ইবি মেডিকেল চিফ ডা. মো. সিরাজুল ইসলাম।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা আলাদা আলাদা বুথে শিক্ষার্থীদের সেবা প্রদান করেন এছাড়া ভলেন্টিয়ার ও সহযোগিতায় ছিল ইবির ‘রক্তিমা’, ‘তারুণ্য’ এবং ‘গ্রিন ভয়েস’ সেচ্ছাসেবক সংগঠনের সদস্যরা।
এ কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের চর্মরোগ ও স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ দ্বারা স্বাস্থ্য পরীক্ষা, রক্তের গ্রুপ নির্ণয়, রক্তচাপ পরিমাপ, রক্তে শর্করার পরিমাণ পরিমাপ ও সাধারণ শারীরিক পরীক্ষা ও ওষুধপত্র প্রদান করা হয়। এছাড়াও যারা রক্তদানে ইচ্ছুক তাদের থেকে রক্ত নেওয়া হয়।
রক্তিমার একজন প্রতিনিধি বলেন, “এই ব্লাড ডোনেশন প্রোগ্রাম এবং ক্যাম্পের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে রক্ত মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া। কোনো মানুষ যেন রক্তের অভাবে মারা না যায়, সেই দিক থেকে চিন্তা করেই আজকের এই প্রোগ্রাম। মূলত সমাজসেবা এবং মানবসেবার কাজের জন্যই আমরা এই প্রোগ্রামের আয়োজন করেছি।”
মেডিসিন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সালেহ সাদ্দাম শিমুল বলেন, “আমাদের এই ক্যাম্পের প্রধান উদ্দেশ্য হলো আমাদের কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশেই ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল অবস্থিত। সেখানে প্রতিদিন গড়ে ১০ থেকে ২০টির মতো অপারেশন হয়ে থাকে, যার জন্য প্রচুর রক্তের প্রয়োজন হয়। কয়েকদিন আগে একটি হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে, যেখানে রক্তের অভাবে মাত্র ৬ বছরের একটি শিশু মারা যায়। আমরা যেন ভবিষ্যতে এমন সমস্যার সম্মুখীন না হই, সেই লক্ষ্যেই আজকের এই রক্তদান ও হেলথ ক্যাম্পের আয়োজন করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩৬টি বিভাগের প্রতিটি সেশন থেকে একজন করে এম্বাসেডর বা ‘মেডিসিন ক্লাব অফিসার’ নিয়োগ করা হবে। তারা তাদের নিজস্ব বিভাগের প্রতিটি সেশনের রক্তের তথ্যাদি ও ব্লাড গ্রুপ সংক্রান্ত বিবরণ আমাদের প্রদান করবেন। তাদের মেডিসিন ক্লাবের পক্ষ থেকে একটি অফিসিয়াল আইডি কার্ড প্রদান করা হবে। সেশন শেষে ফ্রি ফেস্ট, সার্টিফিকেট এবং গিফটের ব্যবস্থা থাকবে। প্রদানকৃত আইডি কার্ডটি ব্যবহার করে তারা মেডিকেল হাসপাতালগুলোতে বিশেষ সম্মাননা ও সেবা পাওয়ার পাশাপাশি মেডিসিন ক্লাবের যেকোনো সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রোগ্রামে বিশেষ আমন্ত্রণ পাবেন।”
এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ. কে. এম মতিনুর রহমান বলেন, “ফ্রি হেলথ ক্যাম্প অ্যান্ড ব্লাড ডোনেশন এই প্রোগ্রামটি কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যৌথ উদ্যোগে আয়োজন করা হয়েছে। কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজের সকল চিকিৎসক, শিক্ষার্থী এবং অন্যান্য যারা অফিশিয়ালি সংশ্লিষ্ট তাদের ধন্যবাদ জানাচ্ছি। ইবির যে সকল অর্গানাইজেশন বিশেষ করে ‘রক্তিমা’, ‘তারুণ্য’ এবং ‘গ্রিন ভয়েস’ তাদের অংশীদারিত্বে এই প্রোগ্রামটি নিঃসন্দেহে মেডিকেল কলেজের সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি চমৎকার সম্পর্ক স্থাপিত করবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই চলমান প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং আমাদের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি টিম গঠন হবে, যাদেরকে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে তাদেরকে আইডি কার্ড প্রদান করা হবে। যাতে তাদের মাধ্যমে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মেডিকেল কলেজের চিকিৎসা সেবাপ্রাপ্তিতে সাহায্য-সহযোগিতা পেতে পারে, সেই কাজটিও বাস্তবায়িত হবে।”
মির্জা ফখরুলের প্রেসিডেন্ট হওয়া আনন্দের, আবার হতাশারও: ফাহাম
ডিজিটাল ডেস্ক
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়াকে একই সঙ্গে আনন্দ ও হতাশার বিষয় বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতির মেয়ের জামাতা, লেখক ও গবেষক ফাহাম আবদুস সালাম। একই সঙ্গে তিনি মির্জা ফখরুলকে ‘দায়িত্বশীল বড় ছেলে’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোররাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে মির্জা ফখরুলকে অভিনন্দন জানিয়ে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন ফাহাম।
ফাহাম জানান, তিনি ২২ বছর ধরে মির্জা ফখরুলকে চেনেন। তার ভাষায়, জীবনে মির্জা ফখরুলের মতো দায়িত্বশীল মানুষ তিনি কেবল আরেকজনকে দেখেছেন—ক্যাডেট কলেজের শিক্ষক ছাদিক স্যার।
মির্জা ফখরুলের দায়িত্বশীলতার উদাহরণ দিতে গিয়ে ফাহাম বলেন, তিনি এমন একজন বড় ভাই, যিনি সাত ভাইবোনের জন্য ছয়টি চকলেট পেলেও নিজের জন্য কিছু না রেখে অন্যদের মধ্যে ভাগ করে দিতে খুশি থাকবেন। দায়িত্ব নিয়ে সঠিক কাজটি দ্রুত সম্পন্ন করাই তার সন্তুষ্টির মূল জায়গা বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফাহামের মতে, নিজেকে কাজে লাগানোর মানসিকতা মির্জা ফখরুলের মধ্যে অত্যন্ত প্রবল। যেকোনো পরিস্থিতিতে তিনি নিজেকে কাজে লাগাতে চান। এমনকি ক্যানবেরায় ছুটি কাটাতে গেলেও বসে না থেকে ঘর পরিষ্কার করতে শুরু করেন বলে জানান তিনি। তার সাফল্যের অন্যতম কারণ হিসেবে দায়িত্বশীলতা ও ভদ্র আচরণের কথা উল্লেখ করেন ফাহাম।
পোস্টে ৫ আগস্টের পর সিঙ্গাপুরে মির্জা ফখরুলের সঙ্গে একান্ত আলাপের স্মৃতিও তুলে ধরেন তিনি। ফাহাম জানান, ওই সময় মির্জা ফখরুল তাকে বলেছিলেন, তার জীবনের কাজ হয়ে গেছে—খালেদা জিয়াকে বের করে আনা এবং নির্বাচন হলে দেশকে গণতন্ত্রের পথে নিয়ে যাওয়া।
খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে না পারাকে মির্জা ফখরুল নিজের ব্যর্থতা হিসেবে নিয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন ফাহাম। তার মতে, বিএনপির প্রতি দায়িত্বের পাশাপাশি মির্জা ফখরুল সবসময় দেশকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
মির্জা ফখরুলকে বিএনপির তরুণ নেতাকর্মীদের অনেকে ‘বাংলাদেশের মহাসচিব’ বলে উল্লেখ করেন জানিয়ে ফাহাম বলেন, এর মধ্যে সত্যতা রয়েছে। তার দাবি, মির্জা ফখরুল বিএনপির আগে বাংলাদেশকে দেখতে পান।
বাংলাদেশে গণতন্ত্র চর্চা প্রসঙ্গে ফাহাম বলেন, দেশের বর্তমান সামাজিক বাস্তবতায় কোনো নেতার পক্ষেই শতভাগ গণতন্ত্র চর্চা করা সম্ভব নয়। তবে মির্জা ফখরুল সারাজীবন গণতন্ত্রের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন এবং সুযোগ পেলে তিনি সবার আগে দাঁড়াবেন।
মির্জা ফখরুলের রাষ্ট্রপতি হওয়াকে নিজের জন্য একই সঙ্গে আনন্দ ও হতাশার বিষয় উল্লেখ করে ফাহাম বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে এমন একজন মানুষ প্রয়োজন, যাকে জাতি অভিভাবক হিসেবে গ্রহণ করতে পারে। তার মতে, রাষ্ট্রপতি হিসেবে সঠিক মানুষকেই নির্বাচিত করা হয়েছে।
তবে বিএনপিতে এমন একজন মানুষের প্রয়োজন ছিল, যিনি নিজের আগে দল ও দেশের স্বার্থ দেখতে পারেন—মির্জা ফখরুলের জায়গায় এমন কাউকে পাওয়া কঠিন বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ফাহাম আরও দাবি করেন, মির্জা ফখরুলকে আওয়ামী লীগের সমর্থকরাও অভিনন্দন জানিয়েছেন। তার মতে, জীবদ্দশায় অন্য কোনো বড় রাজনৈতিক নেতা এমন ‘জেনুইন বাইপার্টিজান’ সমর্থন পেয়েছেন কি না, তা তার মনে পড়ে না। তিনি মির্জা ফখরুলকে ‘মারদাঙ্গা রাজনীতিবিদ’ নন এবং বিএনপিতে তার কোনো গ্রুপিং নেই বলেও উল্লেখ করেন।
ইরান অবরোধের মধ্যে ৬৭টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ বদলেছে যুক্তরাষ্ট্র
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ শুরুর পর ৬৭টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) রাতে ইরাকি বার্তাসংস্থা শাফাক নিউজ এ খবর জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ১৪ জুলাই ইরানের ওপর নৌ অবরোধ পুনরায় শুরু করার পর এসব জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়।
এছাড়া মার্কিন বাহিনী তিনটি জাহাজের চলাচল বন্ধ করেছে এবং আরও দুটি জাহাজে উঠে তল্লাশি চালিয়ে নিয়ম মেনে চলা হচ্ছে কি না তা যাচাই করেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে আরও বড় অর্থনৈতিক চাপের ঘোষণা দেন। তেহরানকে আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন করতে নতুন পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকিও দেন তিনি।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। এই জলপথ দিয়ে এখনো উল্লেখযোগ্য পরিমাণ তেল পরিবহন হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞার কথা বলেন।
তবে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল এখনো আগের তুলনায় কম রয়েছে। বেশিরভাগ জাহাজ মালিক এখনো এই জলপথ এড়িয়ে চলছেন।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৮ আগস্ট হরমুজ প্রণালি দিয়ে ছয়টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। এর আগের দিন এই সংখ্যা ছিল নয়টি। গত ১০ দিনের গড় ছিল ১১টি জাহাজ।
সূত্র: শাফাক নিউজ
আজ রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেবেন মির্জা ফখরুল
দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আজ শুক্রবার শপথ গ্রহণ করবেন।
বঙ্গভবনের দরবার হলে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তিনি শপথ নেবেন। এর মধ্য দিয়ে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে রাষ্ট্রপ্রধানের সাংবিধানিক দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৫৫ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী ১১ দলীয় জোট-সমর্থিত প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
১৯৯১ সালের পর দেশে এই প্রথম প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলো।
সংসদ সচিবালয় ও বঙ্গভবন সূত্র জানায়, শপথ অনুষ্ঠানে সরকারপ্রধান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, রাজনৈতিক নেতা, ঊর্ধ্বতন সামরিক-বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিদেশি কূটনীতিকসহ আমন্ত্রিত বিশিষ্টজনেরা উপস্থিত থাকবেন।
শপথ পড়াবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার
সংবিধান অনুযায়ী নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতিকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
আইন মন্ত্রণালয়ের মতামত অনুযায়ী, স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করায় ডেপুটি স্পিকারই এখন শপথ পড়ানোর জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষ। আইন মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার এই আইনি ব্যাখ্যা প্রদান করেছে।
এদিকে, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন শেষে বৃহস্পতিবার বঙ্গভবন ত্যাগ করেছেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
গত ২৪ জুলাই তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করার পর থেকে তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে বঙ্গভবনের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতায় বিদায় জানান। প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের (পিজিআর) একটি সুসজ্জিত দল তাকে গার্ড অব অনার প্রদান করে।
রুহুল কবির রিজভীকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মনোনীত
দলের জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীকে ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করেছে বিএনপি।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) এক বার্তায় এ তথ্য জানিয়েছেন দলটির সহদপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন।
এতে বলা হয়, এই মর্মে সবার জ্ঞাতার্থে জানানো যাচ্ছে যে, বিএনপির গঠনতন্ত্রের ৭-খ)৬) ধারা অনুযায়ী, জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য অ্যাড. রুহুল কবির রিজভীকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।
এ মনোনয়ন অবিলম্বে কার্যকর হবে বলেও বার্তায় জানানো হয়েছে।
এর আগে বিএনপি মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন সদ্য নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দল থেকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে মনোনীত হওয়ায় মহাসচিব পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
রুহুল কবির রিজভী আহমেদের পৈতৃক নিবাস কুড়িগ্রাম জেলায়। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ এবং ইতিহাস বিষয়ে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেন। এ ছাড়া তিনি আইন বিষয়ে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।
রাজনীতিতে জীবনের শুরুতে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করার পর বামপন্থি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের মাধ্যমে ছাত্ররাজনীতিতে প্রবেশ করেন রুহুল কবির রিজভী। তিনি বিপ্লবী ছাত্র ইউনিয়নের রাজশাহী সরকারি কলেজ শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।
পরবর্তীকালে ছাত্রদল প্রতিষ্ঠার পর তিনি জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলে যোগ দেন। এরপর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের প্রচার সম্পাদকের দায়িত্ব পান। পরবর্তী সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন।
১৯৮৯ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচনে রুহুল কবির রিজভী সহসভাপতি (ভিপি) নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সাল পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করেন।
২০১৬ সালের ১৯ মার্চ বিএনপির ষষ্ঠ জাতীয় সম্মেলনে তিনি দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব নির্বাচিত হন।
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রুহুল কবির রিজভী বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের ১৫ আগস্ট তাকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়।
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
ডিজিটাল ডেস্ক
বাংলাদেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশ্যে ভোট গণনা করা হয়।
গণনা শেষে ফলাফল ঘোষণা করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও নির্বাচনি কর্তা এ এম এম নাসির উদ্দিন। নির্বাচনে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে পরাজিত করে বিজয়ী হন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
মোট ৩৪৩টি বৈধ ভোটের মধ্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর পেয়েছেন ২৫৫ ভোট। আর কর্নেল (অব.) অলি আহমদ পেয়েছেন ৮৮ ভোট।
ভোটগ্রহণের সময় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে বসে পূর্ণ নাম স্বাক্ষর করে ব্যালটের মাধ্যমে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেন।
সংসদ সদস্যদের মধ্যে প্রথম ভোট দেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ। এরপর ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ অন্যান্য সংসদ সদস্যরা ভোট দেন।
ইরানের বিরুদ্ধে ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ ঘোষণা ট্রাম্পের
ডিজিটাল ডেস্ক
ইরানের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ ‘অর্থনৈতিক যুদ্ধ’ ঘোষণার মাধ্যমে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তেহরানকে কোনো ধরনের সহায়তা করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে বলে সতর্ক করেছেন তিনি।
বুধবার (১৯ আগস্ট) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে এমন একটি কঠোর অর্থনৈতিক অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে, যা এর আগে কোনো দেশের বিরুদ্ধে নেওয়া হয়নি।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের নৌবাহিনী ধ্বংস হয়েছে, বিমানবাহিনী বিধ্বস্ত এবং সামরিক কারখানাগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। দেশটির মুদ্রার মানও ব্যাপকভাবে কমে গেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, ইরানকে যেকোনোভাবে সমর্থন করলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে ‘ভয়াবহ অর্থনৈতিক পরিণতি’ ভোগ করতে হবে। তবে কোন দেশের বিরুদ্ধে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
নিজের ঘোষিত উদ্যোগকে ‘অর্থনৈতিক ডি-ডে’ হিসেবে উল্লেখ করে ট্রাম্প ইরানকে বিচ্ছিন্ন করতে এবং দেশটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
ট্রাম্পের ভাষ্য, এসব ঐতিহাসিক পদক্ষেপ ইরানকে এবং বিশ্বজুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনার সক্ষমতাকে বড় ধরনের ধাক্কা দেবে।
পোস্টে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না।
আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন বাংলাদেশি হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া
সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় অনুষ্ঠিত ৪৬তম ‘কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায়’ প্রথম স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া। একই প্রতিযোগিতার ৩০ পারা হিফজ বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন আরেক বাংলাদেশি প্রতিনিধি হাফেজ মাহমুদুল হাসান আশরাফী।
বুধবার (১৯ আগস্ট) মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে বর্ণাঢ্য সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের হাতে সম্মাননা ও পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
আন্তর্জাতিক এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীদের পেছনে ফেলে হিফজ বিভাগে বিশ্বসেরা হওয়ার গৌরব অর্জন করেন আর রায়হান ইন্টারন্যাশনাল মাদরাসার শিক্ষার্থী হাফেজ নুরুদ্দিন জাকারিয়া।
পবিত্র কোরআন হিফজ, তিলাওয়াত ও তাফসিরভিত্তিক এ আন্তর্জাতিক আয়োজনে এবার ১৩৩টি দেশের মোট ৩৩৪ জন হাফেজ অংশ নেন। আয়োজক কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিযোগিতার ৪৬ বছরের ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চসংখ্যক প্রতিযোগীর অংশগ্রহণ ঘটেছে।
মুসলিম তরুণদের কোরআন মুখস্থ করা, এর গভীর মর্মার্থ অনুধাবন এবং কোরআন চর্চায় অনুপ্রাণিত করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। পাশাপাশি বিশ্বজুড়ে থাকা হাফেজদের সম্মান জানানো ও তাদের মেধার মূল্যায়নেও প্রতিযোগিতাটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
এবারের আসরে প্রথমবারের মতো নারী প্রতিযোগীদের জন্য পৃথক বিভাগের ব্যবস্থা করা হয়। নারী বিভাগের সমাপনী অনুষ্ঠিত হয় মক্কার হিলটন হোটেল অ্যান্ড কনভেনশন হলে। অন্যদিকে পুরুষ বিভাগের সমাপনী ও মূল পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয় পবিত্র মসজিদুল হারামে।
পাঁচটি ভিন্ন বিভাগে অনুষ্ঠিত এবারের প্রতিযোগিতায় মোট পুরস্কারের মূল্য ছিল ১ কোটি ২ লাখ ৬০ হাজার সৌদি রিয়াল, যা প্রতিযোগিতাটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ।