জুলাই শহিদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে ইবি ছাত্রশক্তি’র পথচলা শুরু
ইবি প্রতিনিধি
কুষ্টিয়ার সর্বকনিষ্ঠ জুলাই শহিদ আব্দুল্লাহ আল মুস্তাকিনের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক পথচলা শুরু করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি’র ছাত্র সংগঠন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) শাখা ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকালে কুষ্টিয়া পৌর গোরস্থানে এই কবর জিয়ারত ও দোয়া-মোনাজাতের আয়োজন করে সংগঠনটি। এসময় উপস্থিত ছিলেন— শহিদ মুস্তাকিনের বাবা, শাখা ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক ফুয়াদ হাসান, সদস্য সচিব ইফতেহার উদ্দিন মো. তামিম, মুখ্য সংগঠক যায়েদ বিন ওসমান ও সংগঠনটির অন্যান্য কর্মীরা।
এই ভূখণ্ডের জন্য আত্মত্যাগকারী প্রতিটি শহিদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে ইবি শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যাবেন বলে দৃঢ় প্রত্যয় নেতাকর্মীদের।
দোয়া মোনাজাত শেষে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্য সংগঠনটির সদস্য সচিব ইফতেহার উদ্দিন মো. তামিম বলেন, আজ জুলাইয়ের শহিদদের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে জাতীয় ছাত্রশক্তি, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কার্যক্রমের সূচনা করেছি। শহিদদের আত্মত্যাগ আমাদের কাছে শুধু একটি স্মৃতি নয়; এটি আমাদের অঙ্গীকার। আমরা তাঁদের স্বপ্ন, আদর্শ ও আকাঙ্ক্ষাকে কখনো ভুলব না, ভুলতেও দেব না। সেই চেতনাকে ধারণ করে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ ক্যাম্পাস গঠন এবং বৈষম্যহীন শিক্ষাঙ্গন বিনির্মাণে আমরা নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাব।
সংগঠিনটির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ফুয়াদ হাসান বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সহ প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের শহিদদের অবদান, স্পিরিটকে আমরা মনেপ্রাণে লালন করি। শহিদরা যে মহতি উদ্দেশ্যে জীবন দিয়েছে, আমরা সেই বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করে যাব। গণরুম, গেস্টরুম মুক্ত ও শিক্ষার্থীবান্ধব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ার জন্যই মূলত শহিদদের আত্মত্যাগ। সেই চেতনা লালন করে আমরা অবশ্যই শিক্ষার্থীদের কল্যাণে কাজ করে যেতে চাই।
উল্লেখ্য, গত রবিবার (৫ জুলাই) জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসান ও সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ইবিতে প্রথমবারের মতো আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে আহ্বায়ক হিসেবে ফুয়াদ হাসান, সদস্য সচিব হিসেবে ইফতেহার উদ্দিন মো. তামিম ও মুখ্য সংগঠক হিসেবে যায়েদ বিন ওসমান দায়িত্ব পেয়েছেন।
ইবি অধ্যাপকের বিরুদ্ধে ভিসি বরাবর লিখিত অভিযোগ, ধোঁয়াশা
ইবি প্রতিনিধি
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) আল-ফিকহ অ্যান্ড ল’ বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে একাধিক বিষয়ে অভিযোগ তুলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য বরাবর অভিযোগ দিয়েছে একই বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী রাকিব শেখ। অভিযোগপত্রে উল্লেখিত ভোক্তাভোগী হিসেবে নাম থাকা শিক্ষার্থীরা ‘তাদের নাম দেওয়ার বিষয়ে’ জানেন না বলে দাবি করেছেন। ফলে এনিয়ে প্রকৃত ঘটনায় কাটেনি ধোঁয়াশা।
জানা যায়, মঙ্গলবার (৩০ জুন) বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমানের কাছে লিখিত অভিযোগে পরীক্ষায় মূল্যায়নে অনিয়ম, ব্যক্তিগত আক্রোশ, শিক্ষার্থীদের হয়রানি, ফলাফলে বৈষম্য, হুমকি ও একাডেমিক অনিয়মের অভিযোগ তোলেন রাকিব শেখ। একইসাথে তাকে ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের মাস্টার্স পরীক্ষা কমিটির সভাপতির দায়িত্ব থেকে অপসারণ ও সকল একাডেমিক কার্যক্রম থেকে বিরত রাখার দাবি দাবি জানান তিনি।
অভিযোগপত্রে ভুক্তভোগী হিসেবে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তারা হলেন ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের খন্দকার ইউসুফ আলী, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের আল মামুন হাসান রাজু, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের ফারিয়া জান্নাত প্রমি ও একই বর্ষের ছাব্বির হোসেন। এছাড়া, ফারিয়া জান্নাত অভিযোগ করেন, তার অনুমতি না নিয়ে পরীক্ষার নম্বরপত্র উঠিয়ে প্রশাসন বরাবর দেয়া অভিযোগপত্রে সংযুক্ত করেছে রাকিব শেখ। এছাড়া ‘গোপনীয় তথ্য ব্যবহারের দায়ে’ সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা রাকিব শেখের বিরুদ্ধে বিভাগে অভিযোগ করেন।
এবিষয়ে সাংবাদিকদের ফারিয়া জান্নাত প্রমি বলেন, ‘আমার নাম দিয়ে স্যারের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। আমি ঐ অভিযোগটা করি নি। তবে, স্যারের বিরুদ্ধে যে অভিযোগটা আসছে, সেই সমস্যাটা পরবর্তীতে স্যার সমাধান করে দিয়েছিলেন। সমস্যাটা স্যার সমাধান করে দেয়ার পরে ঐটা নিয়ে আমার কোনো বক্তব্য নাই। এমনকি আমি একথা কাউকে বলিও নাই, কাউকে কখনো অভিযোগও করি নাই। আবার, আমার অনুমতি ছাড়া মার্কশিট উত্তোলন করছে, সেটা বিভাগে জমা দিছে এবং পত্রিকায় ছাপাইছে। যেটা উচিত হয়নি।
ছাব্বির হোসেন বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে আমি একদমই অবগত নই। কিছুই বলতে পারছি না, কারা অভিযোগ দিলো।”
জানতে চাইলে অভিযোগপত্রে নাম থাকা আল মামুন হাসান রাজু বলেন, “অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমাদের নাম ব্যবহার করে কেউ অভিযোগ দিলে বলতে পারছি না। এটা ঠিক না। সমাধান হওয়া কিছু পুরনো অভিযোগও আমাদের নামে যুক্ত করা হয়েছে দেখলাম।”
এ বিষয়ে অভিযোগকারী শিক্ষার্থী রাকিব শেখ বলেন, যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে সেখানে সাপোর্টিভ ডকুমেন্টস সহ দেওয়া হয়েছে। বাকিটা প্রশাসন দেখবেন। যাদের এখানে নাম দেয়া হয়েছে তাদের অনুমতি নিতে হবে এরকম কোনো বিষয় না। তাদের নাম দেয়া আমার ঘটনার সাথে তাদের ঘটনা প্রসঙ্গত হওয়ার জন্য। ধরে নিতে পারেন এগুলো নজির হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
জানতে চাইলে অভিযুক্ত অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন বলেন, “কে কার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে জানি না। গণমাধ্যম বরাত যা শুনেছি তা একাডেমিক কাউন্সিলে সমাধান হয়ে গেছে। বিস্তারিত জানতে বিভাগের সভাপতির বক্তব্য নিতে পারেন।”
জানতে চাইলে সংশ্লিষ্ট বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক ড. আলতাফ হোসেন জানান, “ একজন শিক্ষার্থীর অভিযোগপত্রে অনুমতি ছাড়াই মার্কসিট উত্তোলন সহ, নাম রোল ব্যবহার করে গোপনীয় তথ্য সরবরাহ করায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষার্থীরা সভাপতি বরাবর আবেদন করেছে। আমরা একাডেমিক মিটিং—এ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিব।”
প্রসঙ্গত, অধ্যাপক নাজিমুদ্দিনের বিরুদ্ধে দেয়া অভিযোগপত্রে রাকিব শেখ বলেন, বিভাগের বিভিন্ন যৌক্তিক আন্দোলন, প্রতিবাদ এবং একাডেমিক সিদ্ধান্তের সমালোচনা করায় অধ্যাপক ড. নাজিমউদ্দীন তার প্রতি ব্যক্তিগতভাবে ক্ষুব্ধ হন। এর জেরে Islamic Law of Inheritance (কোর্স নং ৪১০৫) কোর্সের প্রথম পরীক্ষক হিসেবে ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে ৭০ নম্বরের মধ্যে ৩২ মার্কস (ক্রসচেকযোগ্য) দেন। তবে একই কোর্সে দ্বিতীয় পরীক্ষক মূল্যায়ন করে ৫৫ মার্কস দেন। পরে উত্তরপত্র মূল্যায়ন তৃতীয় পরীক্ষকের নিকট যায়। তবে সেখানেও মেকানিজম করে তাকে মাত্র ৩৭ নাম্বার দেওয়া হয়। এছাড়া ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ভর্তিতে কোটাসংক্রান্ত বিষয়ে কথা বলার কারণে ওই শিক্ষিক বিভাগের আরেক শিক্ষককে দিয়ে তাকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগে তিনি আরও বলেন, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন ১৫ মিনিট ক্লাস নিয়ে কোর্স শেষ করে কোনো মিডটার্ম পরীক্ষা না নিয়ে ২০১৯-২০২০ শিক্ষাবর্ষের খন্দকার ইউসুফ আলীকে ৩য় বর্ষ ২য় সেমিস্টারে ৩২০৪নং কোর্সে ইন্টার্নালে ৩০ মার্কসের মধ্যে শূন্য দেন। এতে তার অনার্সের চূড়ান্ত ফলাফলে বাধ্যতামূলক রিটেক আসে এবং উক্ত কোর্সে পুনরায় পরীক্ষা দিতে হয়। ২০২৩-২০২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফারিয়া জান্নাত প্রমিকে ক্লাসে উপস্থিত ও মিডটার্ম পরীক্ষা দেওয়ার পরও তিনি শূন্য মার্কস দিন। এছাড়া গত ৫ আগস্ট বিভাগের সংস্কারের দাবিতে বিভাগের সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত ১৭ দফা দাবিতে বলা হয়েছিল, কোনো শিক্ষক যেন ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে ইন্টারনাল মূল্যায়ন, মৌখিক পরীক্ষা বা ভাইভায় শিক্ষার্থীদের ক্ষতিগ্রস্ত করতে না পারেন। কিন্তু পরবর্তীতেও একই ধরনের ঘটনা পুনরায় ঘটেছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ড. নাজিমুদ্দিন বিভাগের অনেক শিক্ষার্থীর জীবন নষ্ট করেছেন। তিনি সকল জবাবদিহিতার ঊর্ধ্বে থাকেন। তার পুরো টিচিং ক্যারিয়ারে কখনো কোর্স ক্রেডিট আওয়ার পূরণ করেননি। করোনা পূর্ববর্তী সময়ে ২০১৮-২০১৯ শিক্ষাবর্ষে ২য় বর্ষের পরীক্ষা কমিটির সভাপতি থাকাকালীন উক্ত সেশনের শিক্ষার্থীরা দীর্ঘ চার মাস ঘুরেও পরীক্ষার রুটিন না পাওয়ায় যৌক্তিক আন্দোলন করলে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন লঙ্ঘন করে মুচলেকা নেন। ফলে এক শিক্ষার্থী (নাফিসা তাবাসসুম তিসা) আত্মহত্যার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।
ময়মনসিংহে শিশু নিছামনিকে ধর্ষণ ও হত্যা: ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড, কিশোরের কারাদণ্ড
জাহাঙ্গীর আলম, ময়মনসিংহ প্রতিনিধি
ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় পাঁচ বছরের শিশু নিছামনিকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর নদীতে চুবিয়ে হত্যার দায়ে তিন তরুণকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে মামলার এক অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামিকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
ঘটনার মাত্র ২৫ দিনের মাথায় বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ করে বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) ময়মনসিংহের পৃথক দুটি আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—আরিফ মিয়া (১৯), রাকিব মিয়া (২১) ও মো. সাঈম মিয়া (১৯)। রায়ের সময় তারা আদালতে উপস্থিত ছিলেন। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাদের প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি এবং দশম শ্রেণির ছাত্র মারুফ মিয়াকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ময়মনসিংহ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সুদীপ্তা সরকার তিন প্রাপ্তবয়স্ক আসামির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) বজলুল করিম চৌধুরী। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মকবুল হোসেন সরকার।
এদিকে, অপ্রাপ্তবয়স্ক আসামি মারুফ মিয়ার বিচারিক কার্যক্রম পৃথকভাবে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে সম্পন্ন হয়। দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম.এল.বি মেছবাহ উদ্দিন আহমেদ তাকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেন।
পুলিশ ও মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, গত ১৪ জুন বিকেলে নিজ বাড়ির পাশ থেকে নিখোঁজ হয় পাঁচ বছরের শিশু নিছামনি। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ গজ দূরে কংস নদের একটি বাঁকে পানির নিচে পুঁতে রাখা অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেন স্থানীয়রা।
সেদিন রাতেই দাফনের গোসলের সময় শিশুটির শরীরে আঘাতের চিহ্ন দেখে স্বজনরা পুলিশে খবর দেন। পুলিশ রাত সাড়ে ১২টার দিকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
পরদিন ১৫ জুন রাতে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে ধোবাউড়া থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তদন্তে নেমে পুলিশ সন্দেহভাজন চার তরুণকে গ্রেপ্তার করলে তারা সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দেয়।
ডিএনএ ও ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর গত ২৩ জুন পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে। বিচার প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষে ১৯ জন এবং আসামিপক্ষে চারজন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন। উভয় পক্ষের যুক্তি-তর্ক শুনানি শেষে ঘটনার ২৫ দিনের মাথায় আদালত এই ঐতিহাসিক ও দ্রুততম রায় ঘোষণা করলেন।
টেকনাফে বৈদ্যুতিক মিটার বিস্ফোরণে পুড়ে ছাই বসতঘর, অল্পের জন্য রক্ষা পেল ঘুমন্ত পরিবার
হেলাল উদ্দিন, টেকনাফ (কক্সবাজার)
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নে বৈদ্যুতিক মিটার বিস্ফোরণ থেকে সৃষ্ট আগুনে একটি বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে ঘরের আসবাবপত্র, নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার। তবে গভীর রাতে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটলেও পরিবারের সদস্যরা সময়মতো ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে পারায় অলৌকিকভাবে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় দিনমজুর মো. ইসলামের বাড়িতে এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে মো. ইসলামের বাড়ির দেওয়ালে স্থাপিত বৈদ্যুতিক মিটারটিতে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের লেলিহান শিখা ঘরের চাল ও বিভিন্ন কক্ষে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের তীব্রতা দেখে আশপাশের লোকজন দ্রুত ছুটে এসে ঘরের ভেতর ঘুমিয়ে থাকা পরিবারের সদস্যদের নিরাপদে বাইরে বের করে আনেন। পরে স্থানীয়দের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও, ততক্ষণে ঘর ও ঘরের ভেতরে থাকা সব মালামাল পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে যায়।
সর্বস্ব হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দিনমজুর মো. ইসলাম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমি দিন এনে দিন খাই। বহু বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে সংসারের যা কিছু গড়েছিলাম, এই আগুনে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন পরিবার নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছি। সরকারি সহায়তা না পেলে আমার পক্ষে আর ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে হ্নীলা ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. আলী বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের দুঃখজনক ঘটনাটি আমরা জেনেছি। বিষয়টি দ্রুত উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করা হবে এবং ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সরকারি ত্রাণ ও প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”
এ বিষয়ে টেকনাফ ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে বৈদ্যুতিক গোলযোগ (শর্ট সার্কিট) থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে। তবে তদন্ত সাপেক্ষে অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে টেকনাফ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, “ঘটনার অভিযোগ পাওয়ার পর আমরা বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। আমাদের একটি কারিগরি দল দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে মিটার ও সংযোগ লাইনের অবস্থা পরীক্ষা করবে। তদন্তে কোনো কারিগরি ত্রুটি বা গাফিলতি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
যোগাযোগ করা হলে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এস এম অনিক চৌধুরী বলেন, “ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য সরকারি সহায়তার বিষয়টি সর্বোচ্চ বিবেচনা করা হবে। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে দ্রুত প্রয়োজনীয় সহযোগিতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্টদের ইতিমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।”
এদিকে এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অনেক পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ বৈদ্যুতিক সংযোগ রয়েছে। এসব জরাজীর্ণ লাইন ও মিটার দ্রুত পরীক্ষা করে সংস্কার করা না হলে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ১১ মৃত্যু, হাইকোর্টে রিট
ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, জনদুর্ভোগ ও শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। একই সঙ্গে সর্বসাধারণের জন্য বিশ্বকাপ প্রদর্শনী ও উদযাপনের সময় নির্ধারণ, আতশবাজি ও লাউড স্পিকারের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা প্রণয়ন এবং রাত ১১টার পর অবৈধ উচ্চ শব্দ ও আতশবাজি বন্ধে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম এই রিট আবেদন করেন।
তিনি বলেন, পত্রিকার খবর অনুসারে এ পর্যন্ত ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ১১ জন মারা গেছেন। এছাড়া রাতে উচ্চ শব্দে আতশবাজি ফুটিয়ে উদযাপন করায় শিশু ও বৃদ্ধসহ জনসাধরণের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটে। তাই এ রিট আবেদন করা হয়েছে। ‘বিশ্বকাপ উন্মাদনায় প্রাণ গেছে ১০ জনের’ শীর্ষক প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয় রিটে।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্বকাপ ফুটবল ঘিরে দুনিয়াজুড়ে বইছে উন্মাদনার ঝড়। ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আসরে বাংলাদেশ খেলার সুযোগ না পেলেও এখানে উত্তেজনার কমতি নেই। জনপ্রিয় দলগুলোর সমর্থকরা বাগ্যুদ্ধেই মাঠ গরম করে রাখছেন। এই বিরোধিতা মাঝেমধ্যে প্রাণঘাতী সংঘাতেও রূপ নিচ্ছে।
তথ্য বলছে, এবারের বিশ্বকাপ ঘিরে নানা ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের প্রাণ গেছে। তাদের মধ্যে তিনজনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ সময়ে আহত হয়েছেন অন্তত ৪৫ জন।
ডিবিপ্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, যেখানে বড়পর্দায় খেলা দেখানো হবে, সেখানে ডিবি নজরদারি করবে।
সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, খেলা বিনোদনের অংশ, তাতে জয়-পরাজয় থাকবে—এটি মেনে নেওয়ার মানসিকতায় ঘাটতি আছে আমাদের। তবে এটি শুধু ক্রীড়াক্ষেত্রে নয়; জাতিগতভাবেই আমরা রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক—কোনো ক্ষেত্রেই জয়-পরাজয় স্বাভাবিকভাবে নিতে পারি না।
১০ জনের বাইরে কুমিল্লায় আর্জেন্টিনা সমর্থকদের হামলায় মো. শরিফুল ইসলাম (৩২) নামের এক ব্রাজিল সমর্থকের মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাতে কুমিল্লা আদর্শ সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের ধনপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অনাথ আশ্রমের শিশুদের স্বনির্ভর করতে কুবি শিক্ষার্থীদের ‘আলোর ক্যানভাস’
সানজিদা আক্তার সাথী
সহায়তার পরিবর্তে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে অনাথ শিশুদের স্বনির্ভর করে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষার্থীদের স্বেচ্ছাসেবী প্ল্যাটফর্ম ‘আলোর ক্যানভাস’। কুমিল্লার একটি বৌদ্ধ মন্দিরের অনাথ আশ্রমের শিশুদের নিয়ে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে নিয়মিত আর্ট ও পেইন্টিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের সৃজনশীলতা বিকাশ এবং ভবিষ্যতে আয়মুখী দক্ষতা অর্জনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
‘আলোর ক্যানভাস’ প্লাটফর্মটি নিয়ে কাজ করছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ফরহাদ কাউছার, সামিউল ইসলাম সজীব, নুসরাত তাহসিন, সামিয়া খান ও আরমান আরিফ এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের একই বিভাগের হোসাইন ঠাকুর।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিশুদের সৃজনশীল প্রতিভার বিকাশ, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং দক্ষ শিল্পী হিসেবে গড়ে তুলতেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সাময়িক সহানুভূতির পরিবর্তে দীর্ঘমেয়াদি দক্ষতা উন্নয়নের মাধ্যমে তাদের স্বনির্ভর করে তোলাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে পেশাদার শিল্পীদের মাধ্যমে নিয়মিত আর্ট ও পেইন্টিং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে শিশুদের আঁকা ছবিগুলো পরিমার্জন করে প্রদর্শনী ও বাজারজাতের পরিকল্পনাও রয়েছে। ফ্রেম, ওয়াল আর্ট এবং বিভিন্ন ক্রাফট পণ্যে রূপ দিয়ে সেগুলো বিক্রির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ শিশুদের উন্নয়ন ও আশ্রমের কল্যাণে ব্যয় করা হবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
প্রশিক্ষণের শুরু থেকেই শিশুদের সৃজনশীলতা প্রশিক্ষকদের মুগ্ধ করেছে। রঙ ও তুলির আঁচড়ে তারা প্রকৃতি, স্বপ্ন, পরিবার এবং নিজেদের অনুভূতি ফুটিয়ে তুলছে। অনেকের ছবিতে উঠে এসেছে পাহাড়, নদী, পাখি, গ্রামবাংলা ও সুন্দর ভবিষ্যতের স্বপ্ন।
সংগঠনের সদস্যরা জানান, আর্থিক সংকট বা পারিবারিক অভাব কোনো শিশুর প্রতিভা বিকাশের পথে বাধা হওয়া উচিত নয়। সঠিক প্রশিক্ষণ, দিকনির্দেশনা ও সুযোগ পেলে তারাও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম হবে। এ লক্ষ্য সামনে রেখে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় কার্যক্রমের পরিধি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
সংগঠনটির কো-ফাউন্ডার ফরহাদ কাউছার বলেন, “তরুণদের দক্ষতা উন্নয়ন, শিক্ষা এবং পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে কাজ করার লক্ষ্যেই আমরা ‘আলোর ক্যানভাস’ নামে একটি তরুণনির্ভর প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলেছি। আমাদের প্রথম উদ্যোগ শুরু হয়েছে কুমিল্লার একটি বৌদ্ধ মন্দিরের অনাথ আশ্রমের শিশুদের নিয়ে। সুযোগের অভাবে তাদের অনেক সৃজনশীলতা বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায় না। আমরা তাদের সেই প্রতিভাকে যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বিকশিত করে স্বনির্ভর করে তুলতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে তারা নিজেদের দক্ষতাকেই জীবিকার মাধ্যম হিসেবে কাজে লাগাতে পারে।”
তিনি আরও বলেন, “বর্তমানে অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকদের মাধ্যমে শিশুদের আর্ট ও পেইন্টিং শেখানো হচ্ছে। পরবর্তীতে তাদের আঁকা ছবিগুলো ফ্রেম, ওয়াল আর্ট ও অন্যান্য ক্রাফট পণ্যে রূপ দিয়ে বাজারজাত করা হবে। এসব থেকে অর্জিত সম্পূর্ণ মুনাফা শিশুদের উন্নয়ন ও আশ্রমের কল্যাণে ব্যয় করা হবে। পাশাপাশি তাদের স্বাস্থ্যসেবা, মানসম্মত শিক্ষা এবং প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করতেও আমরা কাজ করছি। আমাদের প্রত্যাশা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এই শিশুরা একদিন একটি সুন্দর ও স্বনির্ভর ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারবে।”
সংবিধানে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট, হাইকোর্টের রায় আপিলেও বহাল
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বহাল রেখেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
এর ফলে সংবিধানে আবারও তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা ও গণভোটের বিধান ফিরে এসেছে বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার সকালে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই রায় ঘোষণা করেন।
এর আগে ২০১১ সালের ৩০ জুন তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলোপসহ বেশ কিছু বিষয়ে পরিবর্তন করে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী আইন জাতীয় সংসদে পাস হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলের পাশাপাশি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতিসহ সংবিধানের ৫৪টি ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনা হয়েছিল।
দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এই সংশোধনী বাতিলের নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট করেছিলেন সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদারসহ পাঁচ বিশিষ্ট ব্যক্তি। চূড়ান্ত শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ১৭ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রায় দেন।
হাইকোর্টের ওই রায়ে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কিছু অংশ বাতিল ঘোষণা করা হয়। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি-সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ ধারা সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে গত ৩ নভেম্বর ওই রায়ের বিরুদ্ধে এবং পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের দাবিতে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেন রিট মামলার বাদীপক্ষ সুজন সম্পাদকসহ চার বিশিষ্ট ব্যক্তি। সর্বোচ্চ আদালতে সেই আপিলের শুনানি শেষে আজ বৃহস্পতিবার হাইকোর্টের রায় বহাল রেখে চূড়ান্ত রায় দিলেন আপিল বিভাগ।
কুবি নারী শিক্ষার্থীর বাসায় চুরি, স্বর্ণসহ নগদ টাকা লুট
সানজিদা আক্তার সাথী, কুবি প্রতিনিধি
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) এক নারী শিক্ষার্থীর ভাড়া বাসায় দরজার তালা ভেঙে প্রায় আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ ৩০ হাজার টাকা চুরির ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে নগরীর রেইসকোর্স এলাকার মফিজউদ্দিন রোডের ভাড়া বাসায় এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যা ৭টার দিকে তিনি টিউশনে ছিলেন। তার মা মাগরিব নামাজের আগে বাসা থেকে বের হন। পাশের বাসার এক বাসিন্দা এসে তাদের বাসার দরজার তালা ভাঙা এবং ঘরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় দেখতে পান। একই সঙ্গে পাশের বাসার দরজাও বাইরে থেকে আটকানো ছিল। পরে তিনি ফোনে বিষয়টি জানালে তারা বাসায় ফিরে চুরির ঘটনা নিশ্চিত হন।
ভুক্তভোগী ফার্মেসী বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, “বাসায় এসে দেখি আলমারির তালা ভাঙা। সেখান থেকে প্রায় আড়াই ভরি স্বর্ণালঙ্কার এবং প্রায় ৩০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে। বাবা-মা কেউ বাসায় ছিলেন না। আমার অনেক কষ্টের টাকায় কেনা স্বর্ণও ছিল, কিছুই রেখে যায়নি।”
সুমাইয়া আরও জানান, ঘরে থাকা মোবাইল ফোন, ল্যাপটপসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস অক্ষত ছিল। দুর্বৃত্তরা শুধু স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ নিয়ে গেছে।
জানা গেছে, বাসাটিতে কোনো সিসিটিভি ক্যামেরা ছিল না। নিজেদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে এখনো আইনগত ব্যবস্থা নেননি ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার। তবে শিগগিরই এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার।
শেষ ষোলো থেকে বিদায়ের পরও মিশরকে বড় অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার দিচ্ছে ফিফা
বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে জয়ের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল মিশর। ম্যাচে ২-০ গোলে এগিয়ে ছিল আফ্রিকার দলটি। তখন মনে হচ্ছিল, বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিদায় ঘণ্টা বুঝি বেজেই গেছে। কিন্তু ফুটবল শেষ বাঁশি বাজা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে বলে। শেষ দিকে লিওনেল মেসিদের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তনের সামনে আর টিকে থাকতে পারেননি মোহাম্মদ সালাহরা। ৩-২ গোলের নাটকীয় হারে শেষ পর্যন্ত কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা হয়নি মিশরের।
তবে বিদায়ের আক্ষেপের মধ্যেও এবারের বিশ্বকাপ মিশরের জন্য স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ, নিজেদের ইতিহাসে অন্যতম সেরা বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করেছে তারা। নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে প্রথমবারের মতো জয় তুলে নিয়েছিল মিশর। এরপর আর্জেন্টিনার বিপক্ষেও দীর্ঘ সময় আধিপত্য দেখিয়ে বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছে তারা।
এবারের আসরে একটি নতুন রেকর্ডও গড়েছে দলটি। বিশ্বকাপের একক কোনো সংস্করণে এর আগে কখনো পাঁচটি ম্যাচ খেলেনি মিশর। ২০২৬ বিশ্বকাপে সেই মাইলফলক স্পর্শ করেছে তারা। শুধু তাই নয়, পুরো টুর্নামেন্টে ৮ গোল করে বিশ্বকাপের এক আসরে নিজেদের সর্বোচ্চ গোল করার রেকর্ডও গড়েছে মিশরীয়রা।
মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি আর্থিক দিক থেকেও বড় প্রাপ্তি নিয়ে ফিরছে মিশর। বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার কাছ থেকে প্রায় ১৮.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পুরস্কার পেতে যাচ্ছে ইজিপশিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ইএফএ)।
বিশ্বকাপের বর্তমান সংস্করণের প্রাইজমানি কাঠামো অনুযায়ী, টুর্নামেন্টের প্রস্তুতি ও সাংগঠনিক ব্যয় মেটাতে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ফেডারেশনকে দেওয়া হয়েছে ২.৫ মিলিয়ন ডলার। বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করার জন্য যোগ হয়েছে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার। আর শেষ ষোলোতে ওঠার পুরস্কার হিসেবে পেয়েছে অতিরিক্ত ৬ মিলিয়ন ডলার। সব মিলিয়ে মিশরের মোট প্রাপ্তি দাঁড়িয়েছে ১৮.৫ মিলিয়ন ডলার (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ২২৮ কোটি টাকা)।
জাককানইবিতে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে খন্দকার নাজমুল হাসান
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি:
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক খন্দকার নাজমুল হাসান। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিনি এ দায়িত্ব পালন করবেন।
একই সঙ্গে শারীরিক অসুস্থতা ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসাজনিত ছুটিতে থাকায় কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমানকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তর থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে আদেশটি জারি করেন উপ-রেজিস্ট্রার নার্সির উদ্দীন।
অফিস আদেশে বলা হয়, অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ এবং দীর্ঘমেয়াদি ছুটিতে চিকিৎসাধীন থাকায় তাঁকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনা এবং রেজিস্ট্রার দপ্তরের কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে খন্দকার নাজমুল হাসানকে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিধি অনুযায়ী দায়িত্ব ভাতা ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালনের জন্য অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।