মূল অংশে যান
সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬ · ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ · ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮ হিজরি
ব্রেকিং
আন্তর্জাতিক

আফগানিস্তানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, বহু হতাহতের শঙ্কা

Saif প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ৮:৪১ অপরাহ্ণ · আপডেট: ১ নভেম্বর ২০২৬, ৬:২২ অপরাহ্ণ · ২ মিনিটে পড়ুন
আফগানিস্তানে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, বহু হতাহতের শঙ্কা

আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুলের অন্যতম সুরক্ষিত এলাকা হিসেবে পরিচিত শাহর-ই-নাও অঞ্চলে এক ভয়াবহ বিস্ফোরণে বেশ কয়েকজন নিহত হয়েছেন।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দেশটির অন্তর্বর্তীকালীন তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ওই এলাকাটিতে সাধারণত অনেক বিদেশি নাগরিক বসবাস করেন এবং এটিকে শহরের অন্যতম নিরাপদ জোন হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আল জাজিরা ও রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ব্যস্ততম এই এলাকায় হঠাৎ ঘটা বিস্ফোরণে হতাহতের সঠিক সংখ্যা তাৎক্ষণিকভাবে জানা না গেলেও নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

তালেবান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আব্দুল মতিন কানি রয়টার্সকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী বেশ কয়েকজন মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণের ধরন এবং এর পেছনে কারা জড়িত তা খতিয়ে দেখছে নিরাপত্তা বাহিনী। বিস্তারিত তথ্য অনুসন্ধানের পর আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

২০২১ সালে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহারের পর তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশটিতে বড় ধরনের বিস্ফোরণ বা হামলার ঘটনা কিছুটা কমেছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএস-এর (আইএসআইএল) অনুসারীদের তৎপরতা নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিস্ফোরণের পরপরই শাহর-ই-নাও এলাকাটি ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা এবং সাধারণ মানুষের চলাচল সীমিত করে দেওয়া হয়। এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।

গত কয়েক মাস ধরে আফগানিস্তানে বিচ্ছিন্নভাবে আইএস-এর পক্ষ থেকে কিছু হামলা চালানো হলেও কাবুলের প্রাণকেন্দ্রে এবং সুরক্ষিত এলাকায় এমন হামলা তালেবান প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই শক্তিশালী ছিল যে আশপাশের ভবনের কাঁচ ভেঙে গেছে এবং এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আফগান নিরাপত্তা কর্মকর্তারা বর্তমানে ঘটনাস্থল থেকে তথ্য সংগ্রহ করছেন এবং কোনো আত্মঘাতী হামলাকারী বা পেতে রাখা বোমা থেকে এই বিস্ফোরণ ঘটেছে কি না তা যাচাই করা হচ্ছে। পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে সীমান্ত সংঘাত নিরসনে সম্প্রতি যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এই হামলা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের শুরুতে মার্কিন প্রশাসন যখন আফগানিস্তান ইস্যুতে নতুন ভারসাম্য খোঁজার চেষ্টা করছে, তখন এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছে।